মনসা পুজোর বিসর্জনে বিশেষ আয়োজন দক্ষিণ ২৪ পরগনার কানমারীতে (Kanamari Manasa Puja)। ঐতিহ্য মেনে মেতে উঠল এলাকার মানুষ। ভিড় জমল নদীর দুই কূলে। উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। ভারত সেবাশ্রম সংঘ এবং কানমারী মৎস্য বাজার কমিটির যৌথ উদ্যোগে প্রতি বছরের মতো এ বছরও গ্রামীণ মেলার অখণ্ড অঙ্গ হয়ে উঠল এই জলক্রীড়া।
আরও পড়ুন:
প্রতিযোগিতার শুভ সূচনা করেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের পরিচালন সমিতির অন্যতম সদস্য পূজ্যপাদ স্বামী দিব্যানন্দজী মহারাজ। উপস্থিত ছিলেন স্বামী বিমুক্তানন্দজী মহারাজ-সহ সংঘের বহু বিশিষ্ট সন্ন্যাসী। মহারাজদের উপস্থিতিতে নির্দিষ্ট স্থান থেকে শুরু হয় নৌকোগুলির দৌড়। নদীর বুকে সারি সারি নৌকোর রেষারেষি দেখতে দুই পাড়ে ভেঙে পড়ে মানুষ। চিৎকার আর করতালি ভেসে আসে তীরের দু’পাশ থেকে।
কানমারী বাজার সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন ক্লাবের উদ্যোগে প্রতি বছরই মনসা পুজোর আয়োজন হয়। এই পুজো ও মেলাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে দীর্ঘদিনের এক সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কানমারীর এই মেলার বয়স ইতিমধ্যে ৭০ বছর অতিক্রম করেছে। প্রযুক্তির যুগে বদলেছে বিনোদনের ধরন। কিন্তু মনসা পুজো ও মেলাকে ঘিরে গ্রামবাসীর আবেগ আজও এতটুকু ফিকে হয়নি।
এই দীর্ঘ ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ভারত সেবাশ্রম সংঘের কানমারী গ্রামীণ সেবাকেন্দ্র। এলাকার সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং বাসিন্দাদের সাথে মেলবন্ধন সুদৃঢ় করতে দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিযোগিতার দায়িত্ব সামলাচ্ছে সংঘ। উৎসবের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক প্রবাসী বাঙালি চিকিৎসক ড. শম্ভুনাথ চৌধুরী। পিতা-মাতার স্মৃতিতে তিনি এই প্রতিযোগিতায় নিয়মিত সহায়তা জোগান। আয়োজকদের মতে, আধুনিক জীবনযাত্রার মধ্যেও নিজস্ব লোকজ বিনোদন ও ধর্মীয় ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখাই তাঁদের আসল সাফল্য। ঐতিহ্য রক্ষায় কানমারীর এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকেও শেকড়ের টানে বেঁধে রেখেছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বাংলায় বিনিয়োগে আগ্রহী আম্বানি, আসতে পারে প্রতিনিধি দল, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর
-
সিএপিএফ মোতায়েন নিয়ে প্রশ্ন ডেরেকের, আলোচনা হবে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে
-
উত্তরপ্রদেশের ধাঁচে বাংলাতেও হোক প্রতিরক্ষা শিল্প করিডর, আর্জি শমীকের
-
সংঘের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক রাজ্য বিজেপির, লক্ষ্মীবারে দিল্লিতে এক টেবিলে শমীক-শুভেন্দু
-
একবারেই কর্মীদের ৭ বছরের বকেয়া ডিএ মেটাবে সরকার, বড় সিদ্ধান্ত রাজ্যের