Emiliano Martinez

ভাঙা আঙুল, যন্ত্রণা সামলে বিশ্বকাপ ফাইনালে নজির, মার্টিনেজের লড়াই ধুলোয় মেশালেন সতীর্থরাই

গোটা টুর্নামেন্টেই আর্জেন্টিনাকে ভুগিয়েছে রক্ষণ। লতারো মার্টিনেজ-ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোদের সেই ব্যর্থতার ছবি যে স্কোরলাইনে দেখা যায়নি, তার নেপথ্যে অন্যতম কারিগর দিবু। তেকাঠির নিচে স্তম্ভের মতো দাঁড়িয়ে থেকে একের পর এক গোল বাঁচিয়েছেন।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২০, ২০২৬, ১৭:৫৫

options
link
ভাঙা আঙুল, যন্ত্রণা সামলে বিশ্বকাপ ফাইনালে নজির, মার্টিনেজের লড়াই ধুলোয় মেশালেন সতীর্থরাই
ফ্রান্সের একের পর এক তারকার পেনাল্টি রুখে লিওনেল মেসির হাতে তুলে দিয়েছিলেন অধরা বিশ্বকাপ।

এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (Emiliano Martinez)। কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে আর্জেন্টিনাভক্তদের কাছে রীতিমতো ভগবানের পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন। ফ্রান্সের একের পর এক তারকার পেনাল্টি রুখে লিওনেল মেসির হাতে তুলে দিয়েছিলেন অধরা বিশ্বকাপ। চারবছর পরে আরও ক্ষুরধার পারফরম্যান্স ‘দিবু’র। ফাইনালে একা কুম্ভ হয়ে সামলালেন দলকে। ইতিহাস গড়লেন। কিন্তু দিবুর এই অসম্ভব লড়াইয়ের যথাযথ মর্যাদা দিতে পারল না আর্জেন্টিনার গোটা দল।

Advertisement

গোটা টুর্নামেন্টেই আর্জেন্টিনাকে ভুগিয়েছে রক্ষণ। লতারো মার্টিনেজ-ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোদের সেই ব্যর্থতার ছবি যে স্কোরলাইনে দেখা যায়নি, তার নেপথ্যে অন্যতম কারিগর দিবু। তেকাঠির নিচে স্তম্ভের মতো দাঁড়িয়ে থেকে একের পর এক গোল বাঁচিয়েছেন। রাউন্ড অফ ৩২ তে কেপ ভার্দে হোক বা প্রি-কোয়ার্টারে মিশর- আর্জেন্টিনা যে জিততে পেরেছে তার নেপথ্যে মার্টিনেজের দস্তানা।

Advertisement

তবে আর পাঁচটা গোলকিপারের মতো সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন না দিবু। বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে তাঁর ডানহাতের আঙুল ভেঙে যায়। চিকিৎসকদের প্রত্যেকেই বলেছিলেন, অবিলম্বে অপারেশন করানো দরকার। গোলকিপিং তো দূরের কথা। কিন্তু দিবু সবসময়ে নিজের মর্জির মালিক। চিকিৎসকদের পরামর্শকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নেমে পড়লেন বিশ্বকাপে। টেপ জড়িয়ে নামতেন প্রত্যেকটা ম্যাচে, প্রত্যেকটা অনুশীলনে। প্রচণ্ড যন্ত্রণার মধ্যেই হাতে এসে লাগত একটার পর একটা জোরাল শট। কিন্তু বুকের উপর থাকা আর্জেন্টিনার পতাকার জন্য সহ্য করতেন নিত্যদিনের এই যন্ত্রণা।

Advertisement

টানা দু’বার বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন বুকে নিয়ে রবিবার খেলতে নামলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তেকাঠির নিচে তাঁর অনবদ্য পারফরম্যান্স জায়গা করে নিল বিশ্বকাপের সর্বকালীন রেকর্ডবুকে। গোটা ম্যাচ জুড়ে স্পেনের তরুণ ব্রিগেড ২০টা শট মেরেছে, ফালাফালা করেছে আর্জেন্টাইন রক্ষণকে। কিন্তু ১১টা নিশ্চিত গোলের সুযোগ আটকে দিয়েছেন ভাঙা আঙুল নিয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা দিবু। মাঠে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়া আর্জেন্টিনাকে সমানে উদ্বুদ্ধ করেছেন। নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছেন। কিন্তু নীল-সাদা জার্সি পরিহিত বাকি ফুটবলাররা সেই সংগ্রামের মর্যাদা দিল কই? মাথা গরম করে অহেতুক কার্ড দেখা আর স্পেনের জালে আটকে যাওয়া ছাড়া কিছুই হল না এনজো ফার্নান্ডেজদের দ্বারা।

 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.