সময় কত দ্রুত সবকিছু বদলে দিয়ে যায়। উরুগুয়ে ফুটবলে মার্সেলো বিয়েলসাকে একটা সময় ঈশ্বররূপে দেখা হচ্ছিল। তাঁর ফুটবল দর্শনে মুগ্ধ হয়েছিল সবাই। লিডস ইউনাইটেডের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ ম্যানেজার বললে সবার আগে বিয়েলসার নাম আসবে। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি উরুগুয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করে করেছিল ‘লা সেলেস্তে’।
আরও পড়ুন:
অনেকে মনে করেন আর্জেন্টিনা আর উরুগুয়ের ফুটবল সংস্কৃতি অনেকটা একইরকম। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর বিয়েলসা বুঝেছিলেন, দু’দেশের ফুটবল সংস্কৃতি অনেকটাই আলাদা। বুঝেছিলেন, উরুগুয়ের ফুটবলআত্মার সঙ্গে একাত্ম হতে না পারলে সাফল্য পাওয়া মুশকিল। বিশ্বকাপে উরুগুয়ে সমর্থকরা নিজের দেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখাও শুরু করে দিয়েছিলেন। সেই স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন কোচ বিয়েলসা। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানে সব কিছু বদলে গেল। যে কোচ নিয়ে এতদিন সবাই মুগ্ধতার বাণী শোনাচ্ছিলেন, তাঁরাই এখন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন। বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর বিদায় ঘটছে বিয়েলসারও।
প্রথম দুটো ম্যাচে ড্র। স্পেনের বিরুদ্ধে মরণ-বাঁচন যুদ্ধ ছিল উরুগুয়ের। ড্র করলেও তারা নকআউটে চলে যেত। কিন্তু স্পেনের কাছে হেরে নিজেদের বিদায় নিশ্চিত করে ফেলে উরুগুয়ে। ড্রেসিংরুমে টিমের উপর থেকে ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করেছিলেন বিয়েলসা। তাঁর কোচিং পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন ফুটবলাররা। কোচকে পরিষ্কার বুঝিয়ে দেওয়া হয়, তাঁর ট্রেনিংয়ের রকম একেবারেই পছন্দ হচ্ছে না টিমের। উরুগুয়ের এক প্রচারমাধ্যমের দাবি, স্পেনের বিরুদ্ধে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নামার আগেই কয়েকজন ফুটবলারদের সঙ্গে বিয়েলসার অশান্তি হয়। ভালভার্দে, মানুয়েল উগার্তের মতো বেশ কয়েকজন ফুটবলার স্পেন ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে বিয়েলসার সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করেন। সেখানে নাকি কোচকে পরিষ্কার করে বলে দেওয়া হয়, তাঁর ট্রেনিং পদ্ধতির জন্যই দল সাফল্য পাচ্ছে না। ভালভার্দেরা সরাসরি বিয়েলসাকে বলেন, তিনিই বারোটা বাজাচ্ছেন দলের। অতিরিক্ত ট্রেনিং করতে গিয়ে বেশিরভাগ ফুটবলার ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। যার প্রভাব মাচে পড়ছে। কেউ নিজেদের সেরাটা দিতে পারছেন না।
এখানেই শেষ নয়। ভালভার্দেরা কোচকে এটাও বলেন, স্পেন ম্যাচে টিমের খেলার স্টাইলে পরিবর্তন করতে হবে। ফুটবলারদের বক্তব্য ছিল-স্পেনের বিরুদ্ধে একটু রক্ষণাত্মক খেলাই ভালো। পরিস্থিতি বুঝে অ্যাটাকে যেতে হবে। মূলত কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভরশীল ফুটবল খেলুক টিম। কিন্তু সেটা শোনার পর বিয়েলসা বেশ চটে যান। তিনি ফুটবলারদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, এতদিন দল যে পদ্ধতিতে খেলে এসেছে, ঠিক সেভাবেই খেলবে। কোনও পরিবর্তন করা যাবে না। এটাও দাবি করা হচ্ছে, কোচের সঙ্গে কয়েকজন ফুটবলারের সম্পর্ক একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছিল। যার প্রভাব মাঠেও পড়ছে। না হলে বিশ্বকাপে কখনও এত কুৎসিত ফুটবল উরুগুয়ে খেলতে পারে না।
যে বিয়েলসাকে ঘিরে নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিল উরুগুয়ে ফুটবল, আজ তাঁরই বিদায় মোটামুটি নিশ্চিত।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সামুরাই সূর্যাস্ত, শিষ্য জাপানকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় গুরু ব্রাজিল
-
‘তৃণমূলের ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি নেই’, বঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক কংগ্রেস নেতা বেনুগোপালের
-
এবছরই দেশে ফেরার ঘোষণা হাসিনার, কী বলল ঢাকা?
-
‘বিয়ে করতে জেলে যাচ্ছি’, টোপর পরিয়ে ‘জামাই আদর’, তৃণমূল কাউন্সিলরকে ঘিরে জনরোষ!
-
বাড়বে স্ক্রিনের সংখ্যা! ভারতীয় সিনে ইন্ডাস্ট্রির উন্নতিতে একগুচ্ছ ঘোষণা কেন্দ্রের