West Bengal Assembly Election

মতুয়া গোঁসাইকে বঙ্গবিভূষণে ‘ভোটের রাজনীতি’ দেখছে বিজেপি, তৃণমূলের জবাব, ‘সম্মান দিয়েছেন মমতা’

সামাজিক কাজে বিশেষ অবদানের জন্য রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী মৃণাল গোঁসাইকে বঙ্গভূষণ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১৫:৩১

options
link
মতুয়া গোঁসাইকে বঙ্গবিভূষণে ‘ভোটের রাজনীতি’ দেখছে বিজেপি, তৃণমূলের জবাব, ‘সম্মান দিয়েছেন মমতা’
মতুয়া প্রতিনিধি মৃণাল গোঁসাইকে বঙ্গভূষণ সম্মান দেওয়া নিয়ে বিতর্ক।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে রাজ্য সরকারের তরফে বহু বিশিষ্টজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বঙ্গবিভূষণ ও বঙ্গভূষণ (Banga Bhusan) সম্মান। সরকারের সর্বোচ্চ সম্মান প্রাপকদের নিয়ে বিতর্কও হয়েছে কিঞ্চিৎ। পৃথক কামতাপুরের দাবিতে বারবার সরব হওয়া বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজে বঙ্গবিভূষণ প্রাপ্তিতে সমালোচনা হয়েছে ভালোই। এবার মতুয়াদের গোঁসাই মৃণালকান্তি বিশ্বাসের বঙ্গভূষণ প্রাপ্তি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হল। বিজেপির কটাক্ষ, ভোটের রাজনীতি করেছে শাসকদল। মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক বাঁচাতে এই সম্মান প্রদান। পালটা তৃণমূলের দাবি, মতুয়াদের নিয়ে বিজেপিই সারাজীবন রাজনীতি করেছে। মতুয়াদের উন্নয়ন এবং সম্মান একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) দিয়েছেন৷

Advertisement
মৃণালকান্তি বিশ্বাসের হাতে বঙ্গভূষণ তুলে দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার, দেশপ্রিয় পার্কে। ছবি: ফেসবুক

শনিবার দেশপ্রিয় পার্কে একুশে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) হাত থেকে বঙ্গবিভূষণ সম্মান পেয়েছেন মৃণালকান্তি দাস ওরফে মৃণাল গোঁসাই। সামাজিক কাজে বিশেষ অবদানের জন্য তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছে। ৭২ বছরের মৃণালবাবু ‘হরি-গুরুচাঁদ ভক্তি’ নামে একটি সেবা সংগঠন তৈরি করেছেন। একটি স্কুল তৈরির পরিকল্পনাও আছে৷ তিনি মানুষের বিপদে-আপদে সবসময় ছুটে যান, মতুয়াদের উন্নয়নের জন্য কাজ করেন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

একুশে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে বঙ্গবিভূষণ সম্মান পেয়েছেন মৃণালকান্তি দাস ওরফে মৃণাল গোঁসাই। সামাজিক কাজে বিশেষ অবদানের জন্য তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছে। ৭২ বছরের মৃণালবাবু ‘হরি-গুরুচাঁদ ভক্তি’ নামে একটি সেবা সংগঠন তৈরি করেছেন। একটি স্কুল তৈরির পরিকল্পনাও আছে৷ তিনি মানুষের বিপদে-আপদে সবসময় ছুটে যান, মতুয়াদের উন্নয়নের জন্য কাজ করেন।

বঙ্গভূষণে (Banga Bhusan) সম্মানিত হয়ে মৃণালকান্তি বিশ্বাস বলেন, ‘‘সারা জীবন আমি হরিচাঁদ গুরুচাঁদ ঠাকুরের আদর্শ মেনে মতুয়াদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। জানি না কতটা কাজ করতে পেরেছি। রাজ্য সরকার আমাকে এই সম্মান দিয়েছে, আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। পরবর্তী সময়ে আরও ভালো কাজ করার উৎসাহ পেলাম।”

Advertisement
রবিবার সকালে মতুয়াভক্তরা মালা পরিয়ে, ডঙ্কা-কাশি-নিশান বাজিয়ে হরিনামের মধ্যে দিয়ে বরণ করে নেন বঙ্গভূষণ প্রাপ্ত মৃণাল গোঁসাইকে। নিজস্ব ছবি

বঙ্গভূষণ নিয়ে বাড়ি ফিরতেই মতুয়া ভক্তদের মধ্যে আনন্দ উচ্ছ্বাসের সঞ্চার। রবিবার সকালে মতুয়াভক্তরা তাঁকে মালা পরিয়ে, ডঙ্কা-কাশি-নিশান বাজিয়ে হরিনাম করে বরণ করে নেন। আসলে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদার হেলেঞ্চা এলাকার বাসিন্দা মৃণাল গোঁসাই (বিশ্বাস)। তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর (পিএইচই) বিভাগে কর্মরত ছিলেন, ২০১৫ সালে অবসর গ্রহণ করেন। কর্মজীবনের পাশাপাশি ১৯৮৭ সাল থেকেই তিনি মতুয়া সমাজের অগ্রগতির লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে বাগদার বৈকোলায় হরি-গুরুচাঁদ ভক্ত সেবা সংঘ নামে একটি সংস্থা গড়ে তোলেন। এই সংস্থার উদ্যোগে হরিচাঁদ মন্দির, একটি দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং একটি স্কুল নির্মাণের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কারণে ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার মৃণাল গোঁসাইকে বঙ্গভূষণ সম্মাননায় ভূষিত করেছে।

মৃণাল গোঁসাইকে বঙ্গভূষণ সম্মাননায় ভূষিত করার পরই বিতর্ক দানা বেঁধেছে। সামনে বিধানসভা ভোট। তার আগে মতুয়া সমাজের মানুষকে সম্মান দিয়ে মতুয়া ভোটকে নিজেদের দিকে টেনে আনার চেষ্টা করছে শাসকদল তৃণমূল, এমনই দাবি বিজেপির৷ পালটা তৃণমূল বলছে, ‘মতুয়াদের উন্নয়ন এবং সম্মান একমাত্র দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷’

আর এতেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে। সামনে বিধানসভা ভোট (West Bengal Assembly Election)। তার আগে মতুয়া সমাজের মানুষকে সম্মান দিয়ে মতুয়া ভোটকে নিজেদের দিকে টেনে আনার চেষ্টা করছে শাসকদল তৃণমূল, এমনই দাবি বিজেপির৷ গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর বলেন, “বঙ্গভূষণ দিয়েছেন, ভালো কথা। কিন্তু মতুয়াদের যে প্রধান দাবি নাগরিকত্ব, সেটাকে সমর্থন করুন। মতুয়াদের নাগরিকত্ব পেতে সহযোগিতা করুন৷ তাহলেই মতুয়াদের প্রকৃত সম্মান দেওয়া হবে।” এর পালটা দিয়ে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ দাসের বক্তব্য, “মতুয়াদের নিয়ে বিজেপি সারাজীবন রাজনীতি করেছে। মতুয়াদের উন্নয়ন এবং সম্মান একমাত্র দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এর আগেও তিনি বীণাপাণি দেবীকে সম্মানিত করেছিলেন। মতুয়ারা ভালোই জানেন, কে তাঁদের হিতাকাঙ্ক্ষী।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.