West Bengal Assembly Election

অজিত বিরোধী কুড়মি যৌথ মঞ্চ কোন পথে? কেন্দ্র-রাজ্যের কাছে দাবি রেখে জমায়েত পুরুলিয়ায়

কুড়মি যৌথ মঞ্চের প্রথম জনসভা ১১ মার্চের মঞ্চ থেকেই তারা জানিয়ে দেবে বিধানসভা নির্বাচনে কোন পথে যাবেন তারা।

সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১৩:০০

options
link
অজিত বিরোধী কুড়মি যৌথ মঞ্চ কোন পথে? কেন্দ্র-রাজ্যের কাছে দাবি রেখে জমায়েত পুরুলিয়ায়
ভোটের আগে কেন্দ্র ও রাজ্যের কাছে পৃথক পৃথক দাবি রেখে জনসমাবেশে লক্ষ্য কৃপায়।

কুড়মি যৌথ মঞ্চের প্রথম জনসভা ১১ মার্চের মঞ্চ থেকেই তারা জানিয়ে দেবে বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election) কোন পথে যাবেন তারা। বুধবার পুরুলিয়া শহরের উপকণ্ঠে বোঙাবাড়িতে কুড়মি যৌথ মঞ্চের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। ভোটের আগে কেন্দ্র ও রাজ্যের কাছে পৃথক পৃথক দাবি রেখে অজিত বিরোধী কুড়মি যৌথ মঞ্চ ওই প্রথম জনসভা করছে। আগামী ১১ই মার্চ পুরুলিয়া শহরের ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে দুপুর ১ টায় ওই জনসভার ডাক দিয়েছেন তারা। এই যৌথ মঞ্চ যে ১১ মার্চ জনসভা করবে তা তাদের দ্বিতীয় বৈঠকেই জানিয়েছিল। এদিন ওই বৈঠকের পর কুড়মি যৌথ মঞ্চের তরফে আগামী জনসভার প্রচারপত্র বের করে দেওয়া হয়। অজিত মাহাতোর আদিবাসী কুড়মি সমাজ থেকে বেরিয়ে এসে ছোটনাগপুর আদিবাসী কুড়মি সমাজ গঠন হয়। এই সংগঠন ছাড়াও পূর্বাঞ্চল আদিবাসী কুড়মি সমাজ ও বাইসি কুটুম মিলে এই কুড়মি যৌথ মঞ্চ গড়া হয়েছে।

Advertisement

কুড়মি যৌথ মঞ্চের অন্যতম কর্মকর্তা সুজিত মাহাতো ও শুভেন্দু মাহাতো বলেন, “আমরা ১১ মার্চ যে জনসভার কথা ঘোষণা করেছিলাম তা পুরুলিয়া শহরের ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে হবে। আমাদের দাবি অবিলম্বে কুড়মি জনজাতিকে পুনরায় আদিবাসী তালিকাভুক্ত করতে হবে। এই জনসভার মূল উদ্দেশ্য কেন্দ্র ও রাজ্যের কাছে আমরা কয়েকটি দাবি রেখেছি। সেই দাবি অবিলম্বে পূরণ করতে হবে। ওই জনসভা থেকেই আমরা জানিয়ে দেবো আগামী বিধানসভা নির্বাচনে আমরা কোন পথে হাঁটবো।” কুড়মি যৌথ মঞ্চের ওই জমায়েতের প্রচারপত্রেই সেই দাবিগুলি উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্যের কাছে তাদের দাবি অবিলম্বে কমেন্টস এন্ড জাস্টিফিকেশন রিপোর্ট পাঠানো।

Advertisement

Kurmi-1

Advertisement

জঙ্গলমহলে কুড়মি (Kurmi) অধ্যুষিত সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কুড়মালি ভাষাতে পঠন-পাঠন চালু করে পার্শ্ব শিক্ষক নিয়োগ। সেই সঙ্গে পুনরায় সি.এন.টি অ্যাক্ট বলবৎ। এছাড়া ওই দাবিতে উল্লেখযোগ্য ভাবে রয়েছে জঙ্গলমহলকে মদ মুক্ত করা। সেই সঙ্গে পুরুলিয়া শহরের সপ্ত শহীদ বাসস্ট্যান্ডের সপ্ত শহীদের নামাঙ্কিত তোরণ অবিলম্বে তৈরি। এছাড়া টুসু, মকর, আখান যাত্রা, মনসা পূজা ও বাঁদনা পরবে ছুটির দাবি জানিয়েছেন তারা। সেই সঙ্গে কেন্দ্রের কাছে যে তিনটি দাবি করেছেন, তার মধ্যে প্রথমেই রয়েছে কুড়মি জনজাতিকে আদিবাসী তালিকায় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত। সেইসঙ্গে কুড়মালি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা। এই দাবি পূরণে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার কেন্দ্রের কাছে দরবার করেছে। এছাড়া প্রকৃতি পূজারী/ সারনা কোড প্রদান। এই দাবি পূরণেও কেন্দ্রকে পঞ্চম চিঠি লিখেছে রাজ্য।

এদিকে, ছোটনাগপুর আদিবাসী কুড়মি সমাজ সম্প্রতি অ্যাডহক কমিটি তৈরি করেছে। যেখানে মুখ্য উপদেষ্টা করা হয়েছে সুজিত মাহাতোকে। ওই কমিটির জেলা সভাপতি হয়েছেন
ধ্রুবলাল মাহাতো, জেলা সম্পাদক বিরবল মাহাতো। তাদের কথায়,”এখন আমাদের কাছে একটাই মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ কুড়মি যৌথ মঞ্চের প্রথম জনসভাকে সফল করা।” এদিকে ছোটনাগপুর কুড়মি সমাজ অ্যাডহক কমিটি গড়ে ওই জনসভার আগেই সমস্ত ব্লক কমিটি তৈরি করে নেবে। তার জন্য একটি সূচিও তৈরি করে নিয়েছে তারা। কুড়মি জনজাতিদের আদিবাসী তালিকাভুক্তের আন্দোলন এখন দু’ভাগ। অজিত মাহাতোর আদিবাসী কুড়মি সমাজ আগেই জানিয়ে দিয়েছে, দাবি পূরণে তারা আর শাসক দলের সঙ্গে কোনরকম কথা বলবেন না। তৃণমূলকে একটিও ভোট নয় এই লক্ষ্যে তাদের প্রচার চলবে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.