মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-আমেরিকার সংঘাতের মাঝে অন্য খেলা শুরু করল হাউথি। সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত সশস্ত্র সংগঠন হাউথি। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে জেদ্দা, তইফের পাশাপাশি মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র তীর্থক্ষেত্র মক্কা শহরেও হাউথি-হামলার আশঙ্কায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে রিয়াধ প্রশাসন। উদ্বেগের বিষয় হল, হামলার জেরে একাধিক ঘাঁটি ছেড়ে পালিয়েছে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের সেনাবাহিনী। যার জেরে সৌদিকে পাঠানো বহু মার্কিন অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম এখন হাউথির হাতে চলে এসেছে। ফলে আমেরিকার অস্ত্রেই এখন সৌদি বধ করছে হাউথি বাহিনী।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী ‘মোখা’ এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালীর নিকটবর্তী একটি দ্বীপ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে হাউথিরা। পাশাপাশি আশপাশের বিশাল অঞ্চল এখন তাদের দখলে। এই পরিস্থিতিতে সেখান থেকে পিছু হটার সময় সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র সেখানে ফেলে যায়। সেইসব অস্ত্র এখন হাউথিদের দখলে। হাউথি যোদ্ধাদের তরফে প্রকাশিত একাধিক ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন সেনার অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে উল্লাস করছে হাউথি যোদ্ধারা। যে সব অস্ত্র তাদের হাতে এসেছে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ওশকোশ সাঁজোয়া যান, এমটিভি, হামভি, দূরপাল্লার কামান, টোয়েড আর্টিলারি গান, বিপুল পরিমাণ আর্টিলারি শেল বা গোলাবারুদ। সেইসব অস্ত্রই এখন সৌদির বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে হাউথিরা। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ‘রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করে এই সব অস্ত্র নকল করতে পারে হাউথিরা। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারন করতে পারে।
লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী ‘মোখা’ এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালীর নিকটবর্তী একটি দ্বীপ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে হাউথিরা। পাশাপাশি আশপাশের বিশাল অঞ্চল এখন তাদের দখলে।
এদিকে হাউথিদের মারের সামনে অসহায় দেখাচ্ছে সৌদি আরবকে। সূত্রের খবর, হাউথিকে বাগে আনতে শুরুতে আমেরিকার সাহায্য চেয়েছিল সৌদি। তবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে নেমে বর্তমানে বেহাল অবস্থা সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর। অস্ত্রের ঘাটতিও চরম আকার নিয়েছে। এই অবস্থায় নতুন করে হাউথিদের সঙ্গে ভিড়তে চাইছে না আমেরিকা। এই অবস্থায় জানা যাচ্ছে, ইরান সমর্থিত হাউথি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ফৌজের সাহায্য চেয়েছে সৌদি। বিষয়টিতে মধ্যস্থতা করছে আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। ইজরায়েল হায়োম পত্রিকা পৃথকভাবে জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সালমান হাউথির বিরুদ্ধে অভিযানে মিশর-সহ বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় রাষ্ট্রের কাছেও সাহায্য চেয়েছে।
গুরুতর এই পরিস্থিতিতে ‘বন্ধু’ পাকিস্তানেরও সাহায্য না পেয়ে হতাশ মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক অঙ্গিকারবদ্ধ হয়, কোনও একটি দেশের উপর হামলা হলে বাকিদের উপরেও হামলা বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অথচ বাস্তবে হাউথি হামলার পর ইসলামাবাদ বিবৃতি দেয়, সৌদি আরবের সঙ্গে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির অর্থ এই নয় যে হাউথিদের বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাকিস্তানকে সামরিক পদক্ষেপ করতে হবে। এই ঘটনায় ফের বিশ্বমঞ্চে বেআব্রু পাকিস্তানের ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানী’ কূটনীতি। এদিকে মার্কিন অস্ত্রে বলিয়ান হয়ে নতুন উদ্যোগে সৌদিতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে হাউথিরা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
চোটে জর্জরিত দল, ভাঙাচোরা ব্রিগেড নিয়েই এশীয় মঞ্চে নামছে ইস্টবেঙ্গল
-
নীতা আম্বানির ৩৬লাখি নেকপিসে ভারতীয় ঐতিহ্যের ঝলক, সাধ্যের মধ্যে কীভাবে পাবেন এমন লুক?
-
বদলেছে UPI নিয়ম, কোথায় কখন কাদের দিতে হবে অতিরিক্ত চার্জ? জানুন খুঁটিনাটি
-
পতঞ্জলির ভেজাল ঘি! বাকযুদ্ধের পর এবার ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকলেন রামদেব
-
সীমান্তপাচার থেকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, শেহজাদ ভাট্টি গোষ্ঠীকে জঙ্গি সংগঠন ঘোষণা কেন্দ্রের