Pakistan

‘আল্লাহর আশীর্বাদ’, দেশবাসীকে বন্যার জল বালতিতে ভরে রাখার পরামর্শ পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

বন্যার জন্য দেশের জনগণকেই দায়ী করলেন পাক মন্ত্রী।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৫, ১৬:৫৮

options
link
‘আল্লাহর আশীর্বাদ’, দেশবাসীকে বন্যার জল বালতিতে ভরে রাখার পরামর্শ পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
ফাইল ছবি

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভয়াবহ বন্যায় কার্যত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে পাকিস্তান। প্রায় এক মানুষের মৃত্যুর পাশাপাশি ঘরছাড়া হয়েছেন অন্তত ২০ লক্ষ মানুষ। যদিও মর্মান্তিক এই পরিস্থিতিকে ‘আল্লাহর আশীর্বাদ’ বলে উল্লেখ করলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। শুধু তাই নয়, বন্যাদুর্গত মানুষকে বালতিতে করে জল ভরে রাখার পরামর্শ দিলেন তিনি। আসিফের এহেন বয়ান সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক শুরু হয়েছে।

Advertisement

সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাক মন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল দেশের ভয়ংকর বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে। এর উত্তরে খোয়াজা আফিস বলেন, “দেশের মানুষের উচিত এই বন্যাকে আল্লাহর আশীর্বাদ হিসেবে বিবেচনা করা। গোটা বিশ্বে জলের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। এর মাঝে পাকিস্তানের এই বন্যা অত্যন্ত শুভ। এটাকে কোনওভাবেই বিপর্যয় বলা যায় না। বরং এটি আল্লাহর কৃপা।” ভয়াবহ বন্যায় প্রশাসনের গাছাড়া মনোভাবের জন্য পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন। সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন মানুষ। এর প্রেক্ষিতে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “সরকারের বিরুদ্ধে এহেন বিক্ষোভ না করে জনগণের উচিত এই জল সঞ্চয় করা। এই সব জল বালতি বা অন্যান্য পাত্রে ভরে বাড়ি নিয়ে যাক ওরা। এর ফলে আমাদের জল সংকটের সমস্যার চিরতরে সমাধান হবে।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার যে অপারগ সে কথা স্বীকার করে আসিফ বলেন, “জল সঞ্চয় করার জন্য আমাদের বড় বাঁধের প্রয়োজন রয়েছে। যেটা এখনই তৈরি করা সম্ভব নয়। ফলে জনগণের উচিত এই সমস্ত জল সঞ্চয় করে রাখা। তাছাড়া বন্যা রোখার মতো কোনও প্রযুক্তি সরকারের কাছে নেই। ফলে সরকারকে দায়ী করা ঠিক নয়।” বন্যার দায় জনগণের ঘাড়ে চাপিয়ে মন্ত্রীর দাবি, “ওরাই নদী তীরবর্তী জায়গা দখল করে বসতি গড়ছে। যার জেরে নদীর গতিপথ বদলাচ্ছে। এই অবস্থায় বন্যা যে হবে এটাই স্বাভাবিক।” বন্যার জেরে শয়ে শয়ে মানুষের মৃত্যুর মাঝে পাক মন্ত্রীর এহেন মন্তব্য সামনে আসায় জনগণের ক্ষোভের আগুনে ঘি পড়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও তীব্র করছেন সাধারণ মানুষ।

Advertisement

এদিকে খোদ পাক সরকারের রিপোর্ট বলছে, গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে পাকিস্তান। অজস্র গ্রাম চলে গিয়েছে জলের নিচে। হাজার হাজার একর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গিয়েছে। পাকিস্তানের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগের রিপোর্ট বলছে, গত ২৬ জুন থেকে এখনও পর্যন্ত দুর্যোগের জেরে দেশে মৃত্যু হয়েছে ৮৫৪ জনের। আহত এক হাজার ১০০ জন। ঘরছাড়া হয়েছেন ২০ লক্ষের বেশি মানুষ। দুর্যোগের জেরে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে খাইবার পাখতুনখোয়ায়। শুধুমাত্র এই প্রদেশে হড়পা বান ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৪০৬ জনের।

এরই মাঝে পাকিস্তানের বন্যার জন্য সরাসরি ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন পাক মন্ত্রী আহসান ইকবাল। তিনি অভিযোগ করেন, “ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জল অস্ত্র ব্যবহার করছে। যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ পাকিস্তানে শুরু হয়েছে, তার মোকাবিলা করা সম্ভব শুধুমাত্র প্রতিবেশীর সহযোগিতায়। ভারতের উচিত ছিল, বিষয়টিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করে পাকিস্তানের সঙ্গে একত্রে এর মোকাবিলা করা। কিন্তু তা না করে তারা হঠাৎ ভয়ংকরভাবে জল ছাড়ছে এবং আমাদের বিরুদ্ধে জল অস্ত্র প্রয়োগ করছে।” যদিও সূত্রের খবর প্রতিবার জল ছাড়ার আগে পাকিস্তানকে আগাম বার্তা পাঠানো হয়েছে ভারতের তরফে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.