Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ২৯ জুন ২০২৬
Bangladesh

প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল চিত্তরঞ্জন দত্ত, শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রী হাসিনার

'বাংলাদেশ রাইফেলস' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৫, ২০২০, ১৬:৩৭

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৫, ২০২০, ১৬:৩৭

options
link
প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল চিত্তরঞ্জন দত্ত, শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রী হাসিনার zoom

সুকুমার সরকার, ঢাকা: প্রয়াত বাংলাদেশের বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল চিত্তরঞ্জন দত্ত। স্থানীয় সময় মতে, সোমবার সন্ধ্যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মুক্তিযুদ্ধকালীন ৪ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার চিত্তরঞ্জন দত্ত (সি আর দত্ত) বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। মেজর জেনারেল (অব.) দত্তের বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। ফ্লোরিডা থেকে তাঁর মেয়ে কবিতা দাশগুপ্ত সংবাদমাধ্যমকে জানান, গত ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার বাড়ির বাথরুমে হঠাৎ পড়ে যান তিনি। এতে তাঁর পা ভেঙে যায়। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভরতি করা হলে সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে।

[আরও পড়ুন: বুড়ো বয়সে ‘ভীমরতি’! নামে-বেনামে এক ডজন বিয়ে করে বিপাকে প্রৌঢ়]

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মেজর জেনারেল দত্তের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মহম্মদ আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পৃথক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সিআর দত্তের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধে মেজর জেনারেল (অব.) সিআর দত্তের ভূমিকা জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।” শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধে অনন্য অবদানের জন্য দেশ ও জাতি সিআর দত্তকে চিরদিন কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করবে।” এছাড়াও গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন বিদেশমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক, নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

চিত্তরঞ্জন দত্তের জন্ম ১৯২৭ সালের ১ জানুয়ারি শিলংয়ে। তার পৈতৃক বাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশি গ্রামে। তার বাবার নাম উপেন্দ্রচন্দ্র দত্ত এবং মায়ের নাম লাবণ্যপ্রভা দত্ত। শিলং-এর ‘লাবান গভর্নমেন্ট হাইস্কুল’-এ দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। পরবর্তীকালে বাবা চাকরি থেকে অবসর নিয়ে হবিগঞ্জে এসে স্থায়ী বসবাস শুরু করেন। হবিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাই স্কুল থেকে ১৯৪৪ সালে তিনি মাধ্যমিক পাশ করেন। পরবর্তীতে কলকাতার আশুতোষ কলেজে বিজ্ঞান শাখায় ভর্তি হয়ে ছাত্রাবাসে থাকা শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে খুলনার দৌলতপুর কলেজের বিজ্ঞান শাখায় ভরতি হন। পরে এই কলেজ থেকেই বিএসসি পাশ করেন। চিত্ত রঞ্জন দত্ত ১৯৫১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। কিছুদিন পর ‘সেকেন্ড লেফটেনেন্ট’ পদে কমিশন পান। ১৯৬৫ সালে সৈনিক জীবনে প্রথম যুদ্ধে লড়েন তিনি। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে পাকিস্তানের হয়ে আসালং-এ একটা কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ করেন তিনি। এই যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য পাকিস্তান সরকার তাকে পুরস্কৃত করে। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন। তিনি ৪নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছেন।

মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার পর তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত করা হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় এম.এ.জি ওসমানিকে। তিনি বাংলাদেশকে মোট ১১টি সেক্টরে ভাগ করেন। সিলেট জেলার পূর্বাঞ্চল এবং খোয়াই শায়স্তাগঞ্জ রেল লাইন বাদে পূর্ব ও উত্তর দিকে সিলেট ডাউকি সড়ক পর্যন্ত এলাকা নিয়ে ৪নং সেক্টর গঠন করা হয় এবং এই সেক্টরের কমান্ডার নিযুক্ত হন চিত্তরঞ্জন দত্ত। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীতে চিত্ত রঞ্জন দত্ত ১৯৭২ সালে রংপুরে ব্রিগেড কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত হন। সেখানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য সীমান্ত রক্ষা প্রহরী গঠনে চিত্ত রঞ্জন দত্তকে দায়িত্ব দেয় বাংলাদেশ সরকার। পরবর্তীকালে তিনি সীমান্ত রক্ষা প্রহরী গঠন করেন এবং নাম দেন বাংলাদেশ রাইফেলস। চিত্ত রঞ্জন দত্ত ছিলেন বাংলাদেশ রাইফেলসের প্রথম ডিরেক্টর জেনারেল। এছাড়া ১৯৭১-এর পর থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত তাকে নানা ধরণের দায়িত্ব পালন করেছেন।

[আরও পড়ুন: নদীপথে পিকনিকে দিনভর নাচগান, সন্ধের পর ট্রলারেই চার শিল্পীকে ধর্ষণের চেষ্টা আয়োজকদের]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.