BREAKING NEWS

৯ আশ্বিন  ১৪২৭  সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

‘১০ বছরের প্রেমের স্বীকৃতি চাই’, বিয়ের দাবিতে কীটনাশক হাতে সটান প্রেমিকের বাড়িতে তরুণী

Published by: Sulaya Singha |    Posted: September 12, 2020 10:21 pm|    Updated: September 12, 2020 10:21 pm

An Images

সুকুমার সরকার, ঢাকা: এক দশক আগে হাইস্কুলে পড়ার সময় টিউশন পড়তে গিয়ে শিক্ষক কাইয়ুমকে ভালবেসে ফেলেছিলেন মেয়েটি। সেই মেয়েই এখন কলেজছাত্রী। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে যায় ছবিটা। অন্য জায়গায় বিয়েও হয়ে যায় তাঁর। কিন্তু পুরনো প্রেমের টানটা একইরকম রয়ে গিয়েছিল। তাই স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে ছুটে যান প্রেমিক স্কুল শিক্ষকের কাছেই। ঠিক ছিল, বিয়ে করবেন তাঁরা। কিন্তু এরই মধ্যে আরেক মহিলাকে বিয়ে করে বসেন কাইয়ুম। এমন অবস্থায় ভালবাসা পেতে সোজা প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে হাজির তরুণী। তাও আবার হাতে কীটনাশকের বোতল। বিয়ে না করলে কিছুতেই সেখান থেকে নড়বেন না।

ঘটনা কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়ার। বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে গত এক সপ্তাহ ধরে বসে রয়েছেন ওই কলেজ ছাত্রী। কিন্তু পুরনো প্রেমিকার ফিরে আসার খবর শুনেই বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন কাইয়ুম। এদিকে তিনি বিয়ে না করলে আত্মহত্যার হুমকি দিচ্ছেন ওই প্রেমিকা। ঘটনা গড়ায় থানা পর্যন্ত। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেই জানিয়েছে পুলিশ।

[আরও পড়ুন: বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরিকে ‘ফেরত পাঠানো হবে’, বাংলাদেশকে আশ্বাস আমেরিকার]

পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের চরটেকিয়া গ্রামের মহম্মদ আহাদ মিয়ার মেয়ে ও পাকুন্দিয়া ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ঝুমা আক্তার। চরতেরটেকিয়া মৌজা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় ওই স্কুলেরই শিক্ষক কাইয়ুমের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু তিন বছর আগে ঝুমাকে অন্যত্র বিয়ে দেয় তার পরিবার। তবে বিয়ের পরও কাইয়ুম মেয়েটির সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা চালান। একটা সময় স্বামীর সংসার ফেলে বাবার বাড়িতে চলে আসেন ঝুমা। স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর মেয়েটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন কাইয়ুম। পরদিনই তাঁর সঙ্গে ঝুমার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। তবে এদিন অন্য এক তরুণীকে বিয়ে করেন কাইয়ুম। এতেই মেজাজ হারান ঝুমা।

তারপরই গত রবিবার থেকে কাইয়ুমের বাড়িতে এসে হত্যে দিয়ে বসে পড়েন ক্ষুব্ধ ঝুমা। তাঁর দাবি, শিক্ষক কাইয়ুমের সঙ্গে তাঁর ১০ বছর ধরে সম্পর্ক। তাঁদের মধ্যে বহুবার শারীরিক সম্পর্কও হয়েছে। বিয়ের পরও কাইয়ুমের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। তিনি বলেন, “কাইয়ুমের কথামতোই তাঁর বাড়িতে এসেছি বিয়ের জন্য। কিন্তু সে প্রতারণা করে পালিয়ে গিয়েছে। সে ফিরে না আসা পর্যন্ত এ বাড়িতেই থাকব। আমার তো আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। প্রয়োজনে আত্মহত্যা করব।”

[আরও পড়ুন: খাদ্যরসিকদের জন্য সুখবর, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই কলকাতায় পৌঁছবে পদ্মার ইলিশ]

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে মেয়েটির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করলেও তাঁকে ঘরে আনা সম্ভব নয় বলে জানান কাইয়ুমের মা ও বোন। কাইয়ুমের মায়ের কথায়, “ওর সঙ্গে সম্পর্ক আছে, এটা ঠিক। কিন্তু এখন ও অন্য জায়গায় বিয়ে করে ফেলেছে। এমন অবস্থায় মেয়েটি বাড়িতে এসে বসে থাকায় আমরা বিপাকে পড়েছি।” প্রশাসনিকভাবে মেয়েটিকে নিরাপদ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিয়ে না করে তিনি এক পাও নড়তে নারাজ। হাতে কিটনাশকের বোতল নিয়ে বসে রয়েছেন। জোর করলেই আত্মহত্যার হুমকি দিচ্ছেন। পাকুন্দিয়া থানার পরিদর্শক মহম্মদ শ্যামল মিয়া জানান, ঝুমার বাবা থানায় এফআইআর করেছেন। কিন্তু তাতে কিছু ত্রুটি আছে। সেটি সংশোধন করে মামলা রুজুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তরুণীর নিরাপত্তার দিকটিও দেখছে পুলিশ।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement