২২ আষাঢ়  ১৪২৭  মঙ্গলবার ৭ জুলাই ২০২০ 

Advertisement

করোনাতঙ্কের মধ্যেও বদলায়নি স্বভাব! বাংলাদেশে ধর্ষণের শিকার ১১৬টি শিশু-সহ ২০৬

Published by: Soumya Mukherjee |    Posted: June 5, 2020 4:16 pm|    Updated: June 5, 2020 4:16 pm

An Images

ছবিটি প্রতীকী

সুকুমার সরকার, ঢাকা: করোনাসুরের তাণ্ডবে বিশ্বজুড়ে ত্রাহি ত্রাহি রব উঠেছে। মহা আতঙ্কে দিন কাটছে মানুষের। ভয়াবহ এই পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়েও নারীদের উপর অমানুষিক অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে কিছু মানুষরূপী পশু। কোনও অবস্থাতেই থেমে নেই তাদের অপকর্ম। থেমে নেই নারী ও শিশুর প্রতি হিংসা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা।

বাংলাদেশ প্রশাসন সূত্রে খবর, চলতি বছরের মার্চ, এপ্রিল ও মে এই তিন মাসে ৪৮০ নারী ও শিশু বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৬৭ জন মহিলা ও ২১৩টি শিশু। এর মধ্যে বিকৃতকাম মানুষদের ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১১৬টি শিশু-সহ ২০৬ মহিলা। নারী ও শিশুর প্রতি অত্যাচারের এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত নারী ও শিশুদের প্রতি হিংসার ঘটনা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য দিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকায় মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশের জনগণও করোনা ভাইরাসের কারণে বিপাকে পড়েছেন। করোনা সংক্রমণ রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে কয়েক দফায় ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বাড়ায় সরকার। এই সময়ে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে ঘরের ভিতরে থাকা নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ফলে অনেক মানুষ কর্মহীন অবস্থায় অলসভাবে জীবন অতিবাহিত করছে। অর্থনৈতিক টানাপোড়েন, সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে হতাশা ও অস্থিরতা বোধ করায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে হিংস্র আচরণের ঘটনা ঘটছে। নারী ও শিশুকন্যাদের উপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সবচেয়ে বেশি। তারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ধর্ষণ, শিশু ধর্ষণ, বাল্যবিবাহ, বৈবাহিক ধর্ষণ, বিবাহ-বিচ্ছেদ ও নারী পাচারের ঘটনা ঘটছে। করোনা (Corona) সংকটের সময় পারিবারিক হিংসার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নারী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত মানুষরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

[আরও পড়ুন: লকডাউন উঠে যাওয়ার ফল! বাংলাদেশে করোনায় মৃত্যু বেড়ে ৭৮১ ]

এসব পারিবারিক হিংসার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত না হলেও বিভিন্ন সূত্রে নারী আন্দোলন কর্মীদের নজরে এসেছে। বিভিন্ন সংগঠনের তাৎক্ষণিক সমীক্ষার ফলাফলেও তা দেখা যায়। নারী ও শিশুকন্যার প্রতি যেসব হিংসার ঘটনা খুব সংবেদনশীল। সেই ঘটনাগুলিই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। করোনা সংক্রমণের এই সময়ে হিংসার শিকার নারী ও শিশুদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সরকারি ও বেসরকারি সেবা প্রদানকারী সংস্থাসমূহের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়ার সুযোগও সীমিত ছিল। সীমাবদ্ধতা ছিল গণমাধ্যমকর্মীদেরও। তাই আমরা মনে করি, প্রকৃত তথ্য সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে না।

মহিলা পরিষদ তাদের তিন মাসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, গত মার্চ, এপ্রিল ও মে এই তিন মাসের খবর পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৪৮০ জন নারী ও শিশু হিংসা শিকার হয়েছে। এর মধ্যে নারী ২৬৭ জন, শিশু ২১৩ জন। ধর্ষণের ঘটনা ২০৬টি। ৯০ নারী ও ১১৬ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে শুধু গত মার্চ মাসেই ঘটেছে ২৪৩টি ঘটনা। তার মধ্যে ১৩৯ জন মহিলা ও ১০৪টি শিশু রয়েছে। ধর্ষণের শিকার ৮১ জন নারী ও শিশু। তাদের মধ্যে নারী ৩৮ জন ও শিশু ৪৩টি। এপ্রিল মাসে হিংসার ঘটনা ঘটেছে ১২২টি। এর মধ্যে নারী ৫৮ জন ও ৬৪টি শিশু। ধর্ষণের ঘটনা ৬৮টি। তাদের মধ্যে ২৩ জন নারী ও ৪৫টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। গত মে মাসে হিংসার ঘটনা ঘটেছে ১১৫টি। এর মধ্যে ৭০ জন নারী ও ৪৫টি শিশু হিংসার শিকার। তাদের মধ্যে ২৯ জন নারী ও ২৮টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

[আরও পড়ুন: বাংলাদেশে একদিনে করোনার বলি তিন চিকিৎক, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement