সুকুমার সরকার, ঢাকা: সনাতন ধর্মের অন্যতম বড় উৎসব হল সরস্বতী পুজো। কিন্তু, এবার সরস্বতী পুজোর দিন (৩০ জানুয়ারি) ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ দুটি পৌরনিগমের ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করেছে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যে এর বিরুদ্ধে হাই কোর্টে দায়ের হওয়া মামলা খারিজ হয়েছে। তারপর আপিল বিভাগে রায় পুনর্বিবেচনার আরজিও জানানো হয়েছে।

এর মাঝে দিন পরিবর্তনের দাবিতে অনশনরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দু’জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ১২টার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন অনশনরত অপূর্ব চক্রবর্তী ও অর্ক সাহা। এছাড়াও জগন্নাথ হল ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কাজল দাসকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে।

[আরও পড়ুন: ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে আগ্রহী বাংলাদেশ ]

 

পরিস্থিতি দেখে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন আলোচনা করতে পারে বলে জানিয়েছেন আওয়ামি লিগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন সংক্রান্ত যে কোনও বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। এখানে সরকারকে দোষারোপ করা অযৌক্তিক। আমাদের একজন প্রবীণ নেতা ড. কামাল হোসেন বলছেন, পুজোর দিন নির্বাচনের তারিখ দিয়ে সরকার অন্যায় করেছে। সবাইকে আমরা বলতে চাই, এই তারিখটি সরকার নির্ধারণ করেনি। নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক সংস্থা। ভোটের তারিখ ঘোষণা করার অধিকার তাদেরই রয়েছে। যদি ওরা মনে করে তাহলে তারিখ এগোতে বা পিছোতে পারে। এতে আমাদের কোনও বক্তব্য বা মন্তব্য নেই। নির্বাচন সংক্রান্ত সব দায়িত্ব ওদের। তাই সবকিছু নির্ভর করবে ওদের সিদ্ধান্তের ওপর। আমরা সব ধর্মের প্রতি সম্মান দেখাই। সরস্বতী পুজোর প্রতি সম্মান দেখিয়ে এপ্রসঙ্গে আলোচনা করা উচিত। আলোচনা করে একটা যৌক্তিক সমাধান খুঁজে করা উচিত। যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে সম্মানজনক সমাধান খুঁজে পাওয়া যাবে এটাই আমরা আশা করছি।’

[আরও পড়ুন: সরস্বতীর পুজোর দিন ঢাকায় পৌরনিগমের ভোট, প্রতিবাদে সরব হিন্দুরা ]

ঢাকা উত্তরের বর্তমান মেয়র ও মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামও নির্বাচন (Election) পিছিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে নির্বাচন পিছনোর দাবিতে হাই কোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করা হয়। ওই তা খারিজ হয়ে গেলে গত বৃহস্পতিবার হাই কোর্টের আপিল বিভাগে ফের আবেদন করা হয়। এই আবেদনের শুনানি হবে রবিবার। রায় দেওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, গত কয়েক দিনের মতো আজও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১১টার সময় ক্যাম্পাসের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে জাগো হিন্দু পরিষদ।