সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায় ও অর্ণব আইচ: বাংলাদেশে বছর ছয় আগে শেখ হাসিনা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য যে সেনাকর্তা অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করেছিল সেই মেজর জিয়াকে এখন হাতে পেতে চাইছে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা এনআইএ। কারণ, পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সাহায্যে হাওড়ার ডবসন রোডে ডেরা বাঁধা দুই জঙ্গি তামিম ও সাইফুল ওরফে নয়ন গাজিকে কলকাতায় পাঠিয়েছিল এই মেজরই। এখানেই শেষ নয়, বসিরহাটের গোপন পথ দিয়ে পাকিস্তানের নাগরিক মাজিদ ভাইকে পশ্চিমবঙ্গে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের ‘ব্রেন ওয়াশ’ করার জন্য নিয়ে এসেছিল সেনা বিদ্রোহের এই পাণ্ডা। স্বভাবতই পশ্চিমবঙ্গে পাকিস্তানি অর্থে আল কায়দার স্লিপার সেল তৈরির বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার জন্য ইতিমধ্যে ধৃত তনভির ও শাহদাতদের পাশাপাশি চক্রের মাথা মেজরের সন্ধানে জোর তল্লাশি শুরু করেছেন গোয়েন্দারা।
[শক্র হামলা ঠেকাতে দেশের জলসীমায় এবার কড়া নজর রাখবে ইসরো]
যদিও কলকাতা পুলিশের এসটিএফ শাখার গোয়েন্দাদের অনুমান, দিন কয়েকের জন্য পশ্চিমবঙ্গে গোপনে পা রাখলেও এখন মেজর জিয়া ও মাজিদ ভাই হয় বাংলাদেশ না হলে তৃতীয় কোনও দেশে আশ্রয় নিয়েছে। ধৃত তিন জঙ্গিকে জেরা করে কলকাতা পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, এই দলে আরও কয়েকজন জঙ্গি রয়েছে। আফতাব তাদের অন্যতম। বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে এসে পশ্চিমবঙ্গ না হলেও হায়দরাবাদ অথবা বিহারে লুকিয়ে থাকতে পারে। ধৃত শাহদাতকে জেরা করে অন্যদের সন্ধানে নেমেছে পুলিশ। সুইসাইড স্কোয়াড তৈরি করতেই হাওড়ায় এসেছিল এবিটির জঙ্গি তামিম ও নয়ন গাজি। স্কোয়াডের সদস্য জোগাড় করতে হাওড়ার তিনটি বস্তিতে দফায় দফায় বৈঠক করে তারা। আনসার বাংলা টিম (এবিটি)-এর এই দুই জঙ্গি নেতার হাত ধরেই হাওড়ায় তৈরি হয়েছে তিনটি স্লিপার সেল। এই তিনটি বস্তিতে এখনও লুকিয়ে এই স্লিপার সেলের সদস্যরা। অক্টোবর মাস থেকে টানা এই সব এলাকায় গোপনে সংগঠন তৈরি করে কট্টর জঙ্গি ও সংগঠনের ‘অপারেশন গ্রুপ’-এর চাঁই তামিম ও নয়ন। এই দুই জঙ্গি নেতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকার সন্দেহে এসটিএফের নজরে রয়েছেন হাওড়ার মাদ্রাসার দুই শিক্ষক।
এসটিএফ জানতে পেরেছে, তিন দিনে দু’বার এই দুই শিক্ষকের সঙ্গে গোপন বৈঠক করে এই তামিম ও নয়ন। তদন্তকারীদের আশঙ্কা, সুইসাইড স্কোয়াড তৈরির জন্য ওই জঙ্গি নেতাদের সাহায্য করেছিলেন এই দুই শিক্ষক। হাওড়ায় গোপন বৈঠক করার পর এখন কলকাতার আশপাশেই ঘাঁটি গেড়েছে এই দুই খতরনাক জঙ্গিনেতা, এমনটাই আশঙ্কা এসটিএফের। তাদের সন্ধানে জোর তল্লাশি শুরু করেছে তদন্তকারীরা। হাওড়ার ওয়াটকিন লেনের শিবা গেস্ট হাউসে ১ অক্টোবর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ঘাঁটি গেড়েছিল এবিটির ‘অপারেশন গ্রুপ’-এর মাথা তামিম ও নয়ন।
[বাবাকে তাড়িয়ে বাড়িতে তালা ছেলের, চাবি চাইল আদালত]
গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, জাল আধার কার্ড দিয়ে নিজেকে স্বপন বিশ্বাস বলে পরিচয় দিয়েছিল তামিম। শুক্রবার রাতভর ওই গেস্ট হাউসের কর্মীদের জেরা করে এসটিএফের গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, সকালেই ওই গেস্ট হাউস থেকে বেরিয়ে পড়ত স্বপন ওরফে তামিম এবং নয়ন। রাতে ফিরে কারও সঙ্গে কথাও বলত না তারা। শুক্রবার শিয়ালদহ স্টেশনের বাইরে একটি সিনেমা হলের কাছে পাকড়াও হয়েছে এবিটি-র জঙ্গি শাহদাত হোসেন ওরফে বাবু। তার মুখ থেকেই তামিম-নয়নের খবর মিলেছে বলে গোয়েন্দারা জানিয়েছেন। শাহাদাতকে জেরা করে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, টিকিয়াপাড়া, কাজিপাড়া ও পিএম বস্তিতে দফায় দফায় বৈঠকে করে নয়ন ও তামিম। সেখানেই দলের সদস্য তৈরি করে তারা। এছাড়া শাহদাত গোয়েন্দাদের জানিয়েছে, শালকিয়া ও টিকিয়াপাড়ায় দু’টি মাদ্রাসার দু’জন শিক্ষকের নামও।
তদন্তে উঠে এসেছে আরও বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট এলাকার গাছা গ্রাম থেকে চোরাপথে অনুপ্রবেশ করেছিল তামিম ও নয়ন। সীমান্ত পার করার পর ওই গ্রামেই বেশ কিছুদিন কাটিয়েছিল তারা। ওই এলাকা থেকেই জাল আধার কার্ড বানিয়ে, নতুন নাম ভাঁড়িয়ে হাওড়ার ওই গেস্ট হাউসে উঠেছি়ল তারা। শুধু কী তামিম, নয়ন, সামশাদ ও রিজাউল? নাকি এই সংগঠনের আরও জঙ্গি ওই পথে রাজ্য ঢুকছে কি না সে বিষয়েও তদন্ত চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা।
[স্টেশনকে কাজে লাগাতেই হাওড়ায় ডেরা বানায় আল কায়দা জঙ্গিরা]
সর্বশেষ খবর
-
জুটমিলে চাকরি হারিয়ে পেটের দায়ে তারাতলায় কাজ কৃষ্ণর, ছেলের মৃত্যুতে শোকে পাথর বৃদ্ধা মা
-
‘ভুল হয়েছিল, রি-নিটে শুধরে নিয়েছি’, প্রশ্নফাঁস নিয়ে স্বীকারক্তি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর
-
বাংলায় শুরু হচ্ছে জনগণনার কাজ, বিএলও’র পর ফের বড় দায়িত্বে শিক্ষকরা
-
তারাতলা বিপর্যয়ে গ্রেপ্তার ৩, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের ঘণ্টাদেড়েকের মধ্যেই ‘অ্যাকশন’
-
শূন্য কাটিয়ে এবার নজর সংখ্যালঘু ভোটে, আত্মবিশ্লেষণে আগস্টেই বিশেষ অধিবেশন সিপিএমের