Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
21 February

‘একাত্তরের দালাল’! প্রথমবার ভাষা দিবসের শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে ‘পাকপন্থী’ জামাত

মধ্যরাতে ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টা পেরোতেই রীতি শহিদ মিনারে ফুলের স্তবকটি রেখে জাতির পক্ষে ভাষা-শহিদদের প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন। তার অব্যবহিত পরেই শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

Advertisement
সুকুমার সরকার
সুকুমার সরকার

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ১৪:১৪

link
সুকুমার সরকার
সুকুমার সরকার

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ১৪:১৪

options
link
‘একাত্তরের দালাল’! প্রথমবার ভাষা দিবসের শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে ‘পাকপন্থী’ জামাত zoom
শুক্রবার মধ্যরাতে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা অর্পণ করছেন জামাতের আমির শফিকুর রহমান।

মধ্যরাতে ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টা পেরোতেই রীতি শহিদ মিনারে ফুলের স্তবকটি রেখে জাতির পক্ষে ভাষা-শহিদদের প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন। তার অব্যবহিত পরেই শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এই প্রথম শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন জামাতের আমির।

রাষ্ট্রপতির পরেই রাত ১২টা ৭ মিনিটে শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তারেক। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ভাষা শহিদদের স্মরণে বিশেষ দোয়ায় অংশ নেন তিনি। এরপর মন্ত্রিপরিষদের সদস্যেরা শ্রদ্ধা জানান। পরে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান এডমিরাল মহম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিরোধী দল হিসাবে ১১টি দলের জোটের নেতারা। তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন জামাতের আমির শফিকুর রহমান।

Advertisement

ভাষা দিবসের এই রীতিতে বরাবর ‘ইসলাম-বিরোধী’ বলেই মনে করে এসেছে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে সওয়াল করা জামাত। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রফিকুররা বেরিয়ে সময় তাঁদের সে কথা মনে করিয়ে স্লোগানও তোলেন অনেকে। বলা হয়, ‘একাত্তরের দালালরা, হুঁশিয়ার সাবধান’। জামাতের নেতাকর্মীরাও স্লোগান দেন ‘ভাষা সৈনিক গোলাম আযম, লও লও লও সালাম’। পরে রফিকুর বলেন, “এ বার রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে…এটা আমার দায়িত্ব। বিরোধী দলের নেতা হিসেবে সঙ্গীদের নিয়ে আমাকে আসতে হবে। তাই আমি এসেছি।”

প্রসঙ্গত, ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান গঠনের পরেও পূর্ব পাকিস্তানের উপরে পশ্চিমের চাপিয়ে দেওয়ার মনোভাবে বিক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে। সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাভাষীদের উপরে পাকিস্তানের শাসকেরা যখন সরকারি ভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেয়, শুরু হয় আন্দোলন। ভাষার ভিত্তিতে পৃথক দেশ গঠনের আকাঙ্ক্ষার সূত্রপাতও ১৯৫২-র এই ভাষা আন্দোলনে। ১৯৭১-এ স্বাধীনতার যুদ্ধে জয়লাভের মধ্য দিয়ে তা পূর্ণতা পায়।

১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের পর ৭ মে গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি সংবিধানে সংশোধন এনে বাংলাকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা করা হয়। পরে ১৯৮৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে ‘বাংলা ভাষা প্রচলন বিল’ পাশ হয় এবং একই বছরের ৮ মার্চ থেকে তা কার্যকর করা হয়। বাংলা ভাষা আন্দোলনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মেলে ২০১০ সালে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.