৪ মাঘ  ১৪২৫  শনিবার ১৯ জানুয়ারি ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও ফিরে দেখা ২০১৮ ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

কৃষ্ণকুমার দাস: রেকর্ড সংখ্যক আসন জিতে চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী হওয়া শেখ হাসিনার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত করা এবং বেকারত্বের সংখ্যা কমিয়ে আনা। কারণ, মৌলবাদ ও জঙ্গি কার্যকলাপ অনেকটাই রুখে দিলেও এখনও পর্যন্ত দেশের প্রশাসনকে যে দুর্নীতিমুক্ত করা যায়নি তা স্বীকার করছেন নির্বাচনে জিতে আসা অধিকাংশ আওয়ামি লিগ নেতা-মন্ত্রীরা। কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় দুর্নীতির লাগাম টানতে না পারার সমালোচনা রয়েছে। গত ১০ বছরে ব্যাংক খাতে দুর্নীতি নিয়ে নিয়মিতই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে হাসিনা সরকারের নীতি-নির্ধারকদের। দুর্নীতি যে পুরোপুরি নির্মূল হয়নি, তা স্বীকার করেছেন শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্য-প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ও।

[ঐতিহাসিক জয়ের পর মোদির শুভেচ্ছা বার্তায় আপ্লুত হাসিনা]

গত এক বছর ধরে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প প্রশাসন যেভাবে বিদেশি কর্মচারীদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছে তাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটা বড় অংশ এবার দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছে। মধ্যপ্রাচে্যর বিভিন্ন দেশে যে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি নানাভাবে রুটি-রুজির ব্যবস্থা করছে সেখানেও ইদানিং প্রতারণার শিকার হচ্ছে। স্বভাবতই একদিকে দুর্নীতি ও অন্যদিকে বেকারদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হওয়া লক্ষ লক্ষ মানুষকে কাজের ঠিকানা দেওয়া চতুর্থবারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হওয়া বঙ্গবন্ধু কন্যার কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে যে কোনও চ্যালেঞ্জ যে তিনি অনায়াসে ‘টেনশনহীন’ ভাবে নিয়ে থাকেন তা পাঁচদিন আগে ঢাকায় বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলছিলেন শেখ হাসিনা। তাঁর কথায়, ‘‘যেদিন থেকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছিলেন সেদিন থেকে আমার ছেলে-মেয়ে ও পরিবারের সব দায়িত্ব বোন রেহানার হাতে তুলে দিয়েছি। সারাক্ষণ ধরে বাংলাদেশের মানুষের জন্য কাজ করা, দেশের নানান জটিল সমস্যা সরলভাবে সমাধান করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। বিশেষ করে গরিব ও মধ্যবিত্তের জীবনে সুখ-শান্তি পৌঁছে দেওয়াই আমাদের সরকারের মূল টার্গেট।” দশ বছর আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যখন দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব নেন হাসিনা তখন বাংলাদেশের জিডিপি ছিল ৫-এর ঘরে। কিন্তু ২০১৮ সালের ভোটের আগে সেই জিডিপি ৮-এ পৌঁছে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। এবার দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ২০২১ সালে এই জিডিপি ১০-এর ঘর অতিক্রম করতে চান চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী হওয়া হাসিনা।

টানা আটদিন বাংলাদেশের কক্সবাজার, নড়াইল, নারায়ণগঞ্জ, সোনারগাঁও ছাড়াও ঢাকা শহরের অলিগলি ঘুরে একটাই উপলব্ধি হয়েছে, বিরোধীদের বুথে গিয়ে ভোটারদের চিহ্নিত করে ভোট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার কোনও শক্তি ছিল না। সর্বোপরি দুর্নীতি মামলায় জেলে থাকা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার দলের কোনও বক্তব্য মানুষ গ্রহণ করেনি। কারণ বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম দুর্নীতিকে অত্যন্ত ঘৃণার চোখে দেখছে। হাতে স্মার্টফোন এবং ৪জি ইন্টারনেট স্পিডের জীবনে অভ্যস্ত তরুণ-তরুণীরা মান্ধাতার আমলের ধর্মীয় গোড়ামি ও কুসংস্কারে আবদ্ধ জামাত পার্টির সঙ্গে বিএনপির জোট মেনে নিতে পারেনি। ঢাকায় শাহবাগ আন্দোলনের স্বতঃস্ফূর্ততায় তিন বছর আগেই বাংলাদেশের নতুন ভোটাররা জানিয়ে দিয়েছিল, ইউরোপীয় জীবনশৈলিতে অভ্যস্ত বিদেশি সংস্কৃতিতে ডুবে থাকা সমাজজীবন অনেক বেশি পছন্দের। নতুন প্রজন্মের প্রায় দেড় কোটি ভোটার তাই এবার জামাত-বিএনপিকে ফিরিয়ে এনে নতুন করে ধর্মীয় বেড়াজালে আবদ্ধ হতে চায়নি। বস্তুত এই কারণে নতুন ভোটার এবং তাদের পরিবারের অধিকাংশ ভোটই হাসিনা সরকারের উদারনীতির পক্ষে গিয়েছে। এছাড়াও বিএনপির অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী রাজনীতিও এবার ভোটে বিরোধী ঐক্য ফ্রন্টের ভরাডুবির অন্যতম কারণ।

কলকাতার টলিউডের শিল্পী ও বিদ্বজনেদের ধাঁচে এবার ঢাকায় শেখ হাসিনার সমর্থনে পথে নেমেছিলেন বাংলাদেশের অধিকাংশ অভিনেতা-অভিনেত্রী ও সংগীত শিল্পীরা। সাধারণ ভোটারদের মধে্য হাসিনার হয়ে ভোট প্রার্থনা করা তারকাদের আবেদন যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, খালেদা জিয়া জেলে এবং তারেক বিদেশে থাকায় সেনাপতিহীন লড়াইয়ে নেমেছিল দলটি। কামাল হোসেনকে সামনে রাখলেও তিনি নিজে ভোটে না দাঁড়ানোয় সাধারণ ভোটাররা বিরোধীদের বিশ্বাসযোগ্য মনে করেনি। এখানেই শেষ নয়, হাসিনা ফের প্রধানমন্ত্রী হলে পদ্মাসেতু, মেট্রোরেলের মতো চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলি সম্পূর্ণ হবে বলে ঘোষণা করেছিল আওয়ামি লিগ। কিন্তু বিরোধীরা জিতলে কে প্রধানমন্ত্রী হবে তা জানাতে পারেনি ঐক্য ফ্রন্ট। শেখ হাসিনাকে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাসযোগ্য ও আস্থাভাজন করে তুলেছে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি এবং মৌলবাদীদের আদালতের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়ার বিষয়টি। আর এখানেই জোর ধাক্কা খেয়েছে খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপি। কারণ অনাথ শিশুদের কোটি কোটি টাকার তহবিল আত্মসাৎ ও দুর্নীতি মামলায় দশ বছর কারাদণ্ড ভোগ করছেন খালেদা। তাই সন্ত্রাসের সঙ্গে দুর্নীতি ইসু্য হওয়ায় এবার ভোটে শিক্ষিত সমাজের সমর্থন একদম পাননি বিরোধীরা। স্বভাবতই শেখ হাসিনার টানা দশ বছরের শাসনে নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশে উত্তীর্ণ হওয়া বাংলাদেশবাসীর কাছে কয়েক কোটি বেকারের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত করাও একটা বড় প্রত্যাশা।

[সেলিব্রেশনের সময় প্রকাশ্যে বিয়ার পান, শাস্ত্রীকে তুলোধোনা নেটিজেনদের]

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং