দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি: ১৮ বছরের চাকরি জীবনে ১৪ বার বদলি! বাড়িতে অসুস্থ বৃদ্ধা মা, বিধবা দিদি ও প্রতিবন্ধী ভাগনেকে নিয়ে সংসার অরুণাভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি রাজ্য সরকারের ত্রাণ দপ্তরের কর্মী। বারংবার বদলি মানসিক অত্যাচারের শামিল। এহেন অভিযোগ তুলে অরুণাভবাবু শেষ পর্যন্ত চাকরি থেকে মুক্তি চেয়ে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানালেন। লিখিত আবেদন জমা দিলেন হুগলির জেলাশাসককে।
[প্রাক্তন প্রেমিকার বাবাকে চ্যালেঞ্জ দিতেই তরুণীর নগ্ন ছবি পোস্ট, স্বীকারোক্তি ধৃতর]
অরুণাভবাবুর বাড়ি চুঁচুড়ার ওলাইচন্ডীতলায়। বর্তমানে তিনি গোঘাট-দুই বিডিও অফিসের ত্রাণ দপ্তরের কর্মী। ৪২ বছরের অরুণাভ জানান, তাঁকে ১৮ বছরের চাকরি জীবনে ১৪ বার বদলি হতে হয়েছে। বাড়িতে অসুস্থ মা, বিধবা দিদি ও প্রতিবন্ধী ভাগনে রয়েছে। পরিবারকে বাঁচানোর জন্য নিজেও বিয়ে করেননি। অভিযোগ, জেলাশাসকের দপ্তরের স্থাপত্য বিভাগের এক আধিকারিক অনৈতিক কাজকর্ম করছিলেন। অরুণাভবাবু সেই কাজের বিরোধিতা করেছিলেন। তারই ফলস্বরূপ বারবার তাঁকে বদলি করা হয়েছে। এমনই অভিযোগ তুলেছেন ওই রাজ্য সরকারি কর্মী। বর্তমানে গোঘাট দুই-তে বদলি করায় পরিবারের পক্ষেও বেঁচে থাকাটা সমস্যার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেও আরামবাগে ছিলেন অরুণাভ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ওই আধিকারিকের অঙ্গুলিহেলনে তাঁকে ফের গোঘাট-দুই বিডিও অফিসে বদলি করা হয়েছে।
এখন সারাদিনে যাতায়াতেই চলে যায় আট ঘণ্টা। অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা করা থেকে শুরু করে গোটা পরিবারের দেখাশোনা। কোনওটাই ঠিকমত করতে না পেরে নিদারুণ মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। নিয়ম মেনে বাড়ির কাছাকাছি বদলির আবেদনও করেছিলেন। অভিযোগ, বদলির জন্য তাঁর কাছে ১০ হাজার টাকার দাবিও করা হয়। এহেন অন্যায় দাবিতে সাড়া দেননি অরুণাভ বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর থেকেই চাকরি ক্ষেত্রে চরম মানসিক অত্যাচারের মধ্য দিয়ে তাঁকে যেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতেই শর্তসাপেক্ষে চাকরি ছাড়া অথবা স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়ে জেলাশাসককে চিঠি দিয়েছেন তিনি। চিঠিতে অনুরোধ করেছেন, চাকরি জীবনের এখনও ১৮ বছর বাকি আছে। বাকি বছরগুলির বেতন, পদোন্নতি-সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বুঝিয়ে দিয়ে তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক। অথবা তাঁর উপরে নির্ভরশীল, পরিবারের অন্য তিন সদস্যের জীবনভর ভরণপোষণ ও চিকিৎসার দায়ভার গ্রহণ করুক সরকার। সঙ্গে তাঁকে স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতিও দেওয়া হোক। এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের উপযুক্ত শাস্তিরও দাবি করেছেন তিনি। সুবিচারের আশায় আবেদনপত্রের প্রতিলিপি রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী-সহ অন্যান্য প্রশাসনিক দপ্তরেও পাঠিয়েছেন অরুণাভবাবু।
[গাছে ঝুলন্ত দুই কঙ্কালকে ঘিরে চাঞ্চল্য সালানপুরে]
সর্বশেষ খবর
-
ঐতিহ্যের উইম্বলডনে চতুর্থ ভারতীয় হিসাবে নজির শুভমানের, শচীনের সঙ্গে ছবি ভাইরাল
-
দু’মাসেই বড় বদল! তৃণমূল জমানার ডামাডোল কাটিয়ে একগুচ্ছ কাজ বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থায়
-
রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে তিকিতাকার জয়, সুপার সাব ম্যাজিকে বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিতে স্পেন
-
মাঝরাস্তায় ট্যাঙ্কার থেকে ইথানল চুরি! বর্ধমানে সক্রিয় বড়সড় চক্র, সতর্ক পুলিশও
-
পকেটের চাপে অভিভাবকত্বে ব্রেক! বাংলায় কমছে প্রজনন হার, সমীক্ষার ফলাফলে উদ্বেগ