২১ আষাঢ়  ১৪২৭  মঙ্গলবার ৭ জুলাই ২০২০ 

Advertisement

শিবলিঙ্গ চুরি, পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে ৫০০ বছরের প্রাচীন মহাদেবকে খুঁজে দিল পুলিশ

Published by: Paramita Paul |    Posted: March 9, 2020 8:00 pm|    Updated: March 9, 2020 8:00 pm

An Images

সৌরভ মাজি, বর্ধমান: রাতে মন্দির থেকে চুরি যায় প্রাচীন শিবলিঙ্গ। খবর পেয়েই নাকা-তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। সোমবার দোল উৎসব ছেড়ে বাবা মহাদেবকে হন্যে হয়ে খোঁজ শুরু করে পুলিশ। মাত্র ৫ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় মন্দির থেকে প্রায় ৭০০ মিটার দূরে খড়ের গাদায় লুকিয়ে রাখা শিবলিঙ্গের সন্ধান পায় পুলিশ। উদ্ধার করে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার পুলিশ। পুলিশ আধিকারিকরাই কাঁধে করে তা পৌঁছে দিলেন শিব মন্দিরে। দোল পূর্ণিমার দিন বাবা মহাদেবকে ফিরিয়ে দিয়ে উৎসবকে আরও রঙিন করে দিল পুলিশ। গ্রামবাসীরাও এরপর দোল উৎসবে মাতেন এদিন।

মেমারি থানার সাতগাছিয়ার রঘুনাথবাটি গ্রামে হারাধন ঘোষের শিব মন্দির রয়েছে। মন্দিরে পূজারি অরূণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সকালে মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে তাঁরা লক্ষ্য করেন তালা ভাঙা। শিবলিঙ্গ উধাও হয়ে গিয়েছে। তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের দ্বারস্থ হন। সাতগাছিয়া ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক, মেমারি থানার ওসি সুদীপ্ত মুখোপাধ্যায়, সার্কেল ইনস্পেক্টর শ্যামল চক্রবর্তী বর্ধমান সদর দক্ষিণের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক আমিনুল ইসলাম খান ঘটনাস্থলে ছুটে যান। মহকুমা পুলিশ আধিকারিক জানান, শিবলিঙ্গের আকার বিশাল। ভারীও। তাই পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ছিল, চুরি করলেও খুব বেশি দূরে নিয়ে যেতে পারেনি। পুরো এলাকা তন্ন তন্ন করে খোঁজ শুরু করে পুলিশ। কার্যত চিরুণী তল্লাশিই বলা চলে। শেষ পর্যন্ত মন্দির থেকে প্রায় ৭০০ মিটার দূরে খড়ের গাদার ভিতরে মহাদেবকে খুঁজে পান তাঁরা। বাবা ভোলানাথকে খড়ের গাদায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। দুষ্কৃতীদের হয়তো পরিকল্পনা ছিল রাতের অন্ধকারে সেটিকে অন্যত্র পাচার করা।

[আরও পড়ুন : দোলের দিন মাঝগঙ্গায় নৌকাডুবি, নিখোঁজ নৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়া ১ তরুণী]

মেমারি থানার ওসি সুদীপ্তবাবু ভোলানাথকে কাঁধে তুলে নেন। মন্দির পর্যন্ত নিয়ে যান তিনি। মহকুমা পুলিশ আধিকারিক জানান, এই শিবলিঙ্গের অ্যান্টিক ভ্যালু অনেক। তাই খবর পাওয়া মাত্র পুরো ফোর্স নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত খোঁজ মিলেছে। দোল পূর্ণিমার দিন এর থেকে ভাল আনন্দের কী হতে পারে। বাবাকে ফিরে পেয়ে খুশি হারাধন ঘোষ। গ্রামবাসীরাও। বাবাকে ফিরে পাওয়ার পর কার্যত দোল উৎসবে মেতে ওঠেন গ্রামবাসীরা। হারাধনবাবু জানান, নতুন করে মহাদেবকে মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা হবে। এদিন বাবাকে খুঁজে দিতে যেসব পুলিশ আদিকারিক ও কর্মীরা এসেছিলেন তাঁদের সকলকে নিয়েই ঘটনা করে ভোলানাথকে প্রতিষ্ঠা করা হবে।

[আরও পড়ুন : বসন্ত উৎসব বাতিলের জের, বর্ধমানে বিপুল ক্ষতির মুখে মিষ্টির ব্যবসায়ীরা]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement