দেবব্রত মণ্ডল, বারুইপুর: সুন্দরবনের জঙ্গলে বাঘের আক্রমণে প্রাণ গেল এক মৎস্যজীবীর। নিহত বাসুদেব সরকার দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা ব্লকের সুন্দরবনের উপকূলীয় থানার কুমিরমারি গ্রামের বাসিন্দা। বেআইনিভাবে জঙ্গলে কাঁকড়া সংগ্রহ করতে ঢুকে বিপত্তি বলেই দাবি বনদপ্তরের। ফলে সরকারি আর্থিক সাহায্য আদৌ ওই মৎস্যজীবী পাবেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রবিবার সকালে কুমিরমারি গ্রাম থেকে তিনজনের একটি মৎস্যজীবী নৌকা চড়ে কাঁকড়া সংগ্রহ করতে সুন্দরবনের ঝিলা দু’নম্বর জঙ্গলে যান। খাদ কেটে কাঁকড়া সংগ্রহের সময় হঠাৎই বাঘ লাফিয়ে পড়ে কাঁকড়া শিকারি বাসুদেবের উপর। সঙ্গীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাঘ নিয়ে চলে যায় বাসুদেবকে। এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্বপন মণ্ডল বলেন, “কয়েক হাত দূরে কাঁকড়া সংগ্রহ করছিলাম তিনজন। একটা আওয়াজ হল। তারপর পিছনে ফিরে দেখি বাসুদেবকে মুখে করে নিয়ে যাচ্ছে বাঘ। সঙ্গে ছিলেন মহিলা এক সহকর্মী। কোদাল নিয়ে কিছুদূর বাঘকে তাড়াও করি। কিন্তু গভীর জঙ্গলে ঢুকে পড়ে বাঘ। কোনভাবেই আর তাঁকে ছাড়িয়ে আনা গেল না।”
[আরও পড়ুন: করোনার প্রভাবে বন্ধ মতুয়াদের মেলা? চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্তর্দ্বন্দ্ব ঠাকুরবাড়িতে]
এরপর মৎস্যজীবীরা বাগনা বনদপ্তরের রেঞ্জ অফিসে পৌঁছয়। বনদপ্তরের একটি তদন্তকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ঘটনাটি খতিয়ে দেখছেন বনদপ্তরের কর্মীরা। মৎস্যজীবীদের দাবি, বেআইনিভাবে জঙ্গলে কাঁকড়া সংগ্রহ করতে ঢুকেছিলেন মৎস্যজীবীরা। ফলে সরকারি আর্থিক সাহায্য আদৌ ওই মৎস্যজীবী পাবেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
করোনা ভাইরাসের কারণে কাঁকড়া চিনে রপ্তানি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তার ফলে সুন্দরবন থেকে কাঁকড়া রপ্তানিও হচ্ছিল না। আর তাই মৎস্যজীবীরা সেভাবে কাঁকড়া সংগ্রহ করতে জঙ্গলে যাচ্ছিল না। ইদানীং সিঙ্গাপুর এবং হংকংয়ে কাঁকড়ার বাজার নতুন করে খুলে গিয়েছে। তার ফলে সুন্দরবনে শুরু হয়েছে কাঁকড়া সংগ্রহের কাজ। আর তার জেরে আবার প্রাণ গেল মৎস্যজীবীর।
সর্বশেষ খবর
-
‘তুষ্টিকরণে চাপা পড়েছিল উন্নয়ন’, সনাতনীদের অনুষ্ঠানে বাংলার ইতিহাস স্মরণ শুভেন্দুর
-
মেয়রের ইস্তফার পরেই বিধাননগর পুরনিগমে বসল প্রশাসক, হাওড়া পুরসভাতেও নয়া কমিশনার
-
তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য, ‘চোর’ স্লোগান জনতার
-
ঝড়-বৃষ্টি, হড়পা বানে বিপর্যস্ত উত্তরের বিস্তীর্ণ এলাকা, সিকিমে ভূমিধসে মৃত ১, নিখোঁজ ৪
-
বঙ্গে সাংগঠনিক রদবদলের পথে বিজেপি, দিল্লিতে শমীক-বনসল দীর্ঘ বৈঠক