সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: বাগানবাড়িতে বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠান থেকে করোনা সংক্রমণ (Coronavirus) ছড়িয়েছে পুরুলিয়া শহরে। দু’দিন আগে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল ওঠে। তবে সাম্প্রতিক খবর আরও উদ্বেগের। জানা গিয়েছে, সোমবার একদিনেই জেলায় ২২ জনের করোনা রিপোর্ট এল পজিটিভ। যার মধ্যে বিধি ভেঙে বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া ১০ জন করোনা পজিটিভ। তার মধ্যে ওই বিয়েবাড়ির অতিথি চারতারা হোটেলের এক কর্তাও এদিন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। কনটেনমেন্ট জোনের পরিধি বাড়িয়ে বুধবার থেকে আগামী এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন (Lockdown) শুরু হচ্ছে শহর পুরুলিয়ায়।
পুরুলিয়া শহরের এই চারতারা হোটেল ছুঁয়ে রয়েছে একাধিক শপিং মল। ফলে আতঙ্কে কাঁটা এই এলাকা লাগোয়া শহর দেশবন্ধু রোড। এই অবস্থায় শহর জুড়ে ওই এলাকার সমস্ত শপিং মল বন্ধ করার দাবি উঠেছে। যদিও সোমবার থেকেই ওই চারতারা হোটেল বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। নতুন করে আক্রান্ত ২২ জনের মধ্যে পুরুলিয়া শহরের উপকণ্ঠে ছররায় রাজ্য সশস্ত্র বাহিনীর ১১ নম্বর ব্যাটেলিয়নের ন’জন সদস্য রয়েছেন। এই ন’জন জওয়ান সম্প্রতি পশ্চিম মেদিনীপুরের সালুয়া ইএফআর ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নেন। ওই ক্যাম্প থেকেই এই জওয়ানদের সংক্রমণ হয়েছে বলে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের অনুমান। আক্রান্ত জওয়ানদের সোমবার রাতেই রঘুনাথপুরের সেফ হোমে পাঠানো হয়। ওই এলাকাকে কনটেনমেন্ট জোন করার বিষয়ে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনাও করছে।
[আরও পড়ুন: নিয়ন্ত্রণের বাইরে সংক্রমণ, গোটা বর্ধমান শহরে লকডাউনের ভাবনা জেলা প্রশাসনের]
এদিকে শহরের রাঁচি রোড বাইপাস এলাকায় পুরুলিয়া-বাঁকুড়া ৬০ নং জাতীয় সড়ক লাগোয়া একটি গার্ডেনসে চলতি মাসের গোড়ায় একটি বিয়েবাড়ি থেকেই এই শহরে কার্যত লাফিয়ে লাফিয়ে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় লকডাউনের পথে হাঁটতে চলেছে শহর। বুধবার থেকে কনটেনমেন্ট জোনের পরিধি বাড়িয়ে একাংশে আগামী সাতদিন লকডাউন হবে। পুরুলিয়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর বলেন, “নতুন করে বাইশ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ মিলেছে। পুরুলিয়া পুর শহরের কনটেনমেন্ট জোনের পরিধি বাড়িয়ে বুধবার থেকে আগামী সাতদিন লকডাউন হবে।” এদিন ওই কন্টেনমেন্ট জোন পরিদর্শন করেন পুরুলিয়ার জেলাশাসক রাহুল মজুমদার ও পুলিশ সুপার এস.সেলভামুরুগন।
[আরও পড়ুন: ফের সংক্রমণে রেকর্ড, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে আক্রান্ত ২৩০০ ছুঁইছুঁই]
বিয়েবাড়ি-সহ সামাজিক অনুষ্ঠানে ৫০ জনের জমায়েতের বিধি থাকলেও ওই বাগানবাড়ির অনুষ্ঠানে তার অনেক বেশি জমায়েত হয় বলে অভিযোগ। সেই জমায়েতে সকলের খোঁজ করে লালা রসের নমুনা সংগ্রহ করতে রীতিমতো বেগ পেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। সেই কারণেই সম্প্রতি পুরুলিয়ার জেলাশাসক নয়া নির্দেশ দিয়েছেন, বিয়েবাড়ি বা সামাজিক অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিতদের তালিকা ও ফোন নম্বর প্রশাসনের কাছে জমা দিলে তবেই অনুষ্ঠানের অনুমতি মিলবে।
সর্বশেষ খবর
-
প্রাক বর্ষার বৃষ্টি উত্তরবঙ্গে, অস্বস্তির মাঝেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কলকাতা-সহ একাধিক জেলায়
-
সকালে টিকিট কেটে দুপুরে কোটিপতি! রাতারাতি ভাগ্যবদল যুবকের
-
পালাবদলে বাড়ছে শক্তি! আরএসএস শিক্ষক সংগঠনে একধাক্কায় ৩০ হাজার সদস্যবৃদ্ধি
-
বড় ধাক্কা টিম ইন্ডিয়ার, আফগানিস্তান সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন বিরাট কোহলি!
-
পুলিশের জালে কলকাতার আরও এক তৃণমূল কাউন্সিলর, এবার শ্লীলতাহানির অভিযোগ