অংশুপ্রতিম পাল, খড়গপুর: লকডাউনে মানবিকতার নজির গড়লেন খড়গপুরের বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন এক যুবক। হুইল চেয়ারে বসেই বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন এক পরিবারের হাতে তুলে দিলেন চাল, ডাল, চিঁড়া, মুড়ি, বিস্কুট। এই সংকটকালে যুবককে পাশে পেয়ে আপ্লুত ওই দুস্থ পরিবার।
খড়গপুর শহরের বাসিন্দা অরুণ বিশেষ ক্ষমত সম্পন্ন৷ হুইল চেয়ার ছাড়া তাঁর পক্ষে চলাফেরা অসম্ভব। কিন্তু দেশের এই বিপদে সাধ্যমতো সহযোগিতার ইচ্ছে হয়েছিল তাঁরও। ঠিক তখনই তাঁর মনে পড়ে খড়গপুর গোলবাজার আজাদবস্তির পদ্মা বেহেরার কথা। দু’জনের পরিচয় হয়েছিল এক অনুষ্ঠানে। তখন ফোন নম্বর আদানপ্রদান হলেও তারপর আর যোগাযোগ হয়নি অরুণ-পদ্মার। করোনা আবহে পদ্মার খোঁজ নিতে ফোন করেন অরুণ। তখনই জানতে পারেন তাঁর দুর্দশার কথা। সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেন পাশে দাঁড়ানোর। এরপর সোমবার হুইল চেয়ারেই আজাদবস্তিতে চলে আসেন অরুণ। সঙ্গে আনেন চাল, ডাল, চিঁড়া, মুড়ি, বিস্কুট-সহ আরও অনেক কিছু৷ তুলে দেন বেহেরা পরিবারের হাতে। অরুণের কথায়, ‘এটা এমন কিছু নয়৷ ছোটো একটা প্রয়াস৷’
[আরও পড়ুন: কলকাতা, উঃ ২৪ পরগনার পর পূর্ব মেদিনীপুরে কেন্দ্রীয় দল, ঘুরে দেখল করোনা পরিস্থিতি]
গোলবাজার আজাদবস্তির এই বেহেরা পরিবারের কর্তা দীনবন্ধু বেহেরা৷ তিনি বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন৷ গোলবাজার মাছের আড়তে মাছ কাটার কাজ করেন অর্থ উপার্জনের জন্য৷ কিন্তু এখন কাজ বন্ধ৷ তাঁর স্ত্রী কমলা পক্ষাঘাতগ্রস্ত৷ চলাফেরাও করতে পারেন না৷ ওই দম্পতির ছেলে শ্যামলের দুই পা-ই অসাড়৷ তিনিও একেবারেই চলতে পারেন না৷ মেয়ে পদ্মাও সুস্থ নন৷ তাই বছরের অন্য সময়ে কোনওক্রমে দু’বেলা অন্নের ব্যবস্থা হলেও এখন চরম সংকটে গোটা পরিবার। তবে এই পরিস্থিতিতে তাঁদের কাছে আশার আলো অরুণ। বেহেরা পরিবারের একটাই কথা, “ওর উপকার জীবনে ভুলব না৷”
[আরও পড়ুন: প্রকল্পের সুবিধা পেতে শিকেয় ‘সামাজিক দূরত্ব’, প্রশাসনিক কার্যালয়ের সামনে শ্রমিকদের ভিড়]
সর্বশেষ খবর
-
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নেই ঘানার ফুটবলার, পাঁচ ধর্ষণে অভিযুক্তকে দেশে ঢুকতেই দিল না কানাডা
-
তৃণমূলের উদাসীনতার জন্যই উন্নয়নে বঞ্চিত বাংলা, ভোলবদলে দেবে ডবল ইঞ্জিন সরকার, বলছেন শমীক
-
দলের আদি নেতাদের ক্ষোভের মুখে অভিষেক, কেন পদক্ষেপ করছেন না নেত্রী মমতা?
-
বাংলায় ‘বর্ষামঙ্গল’, কবে কমবে অতিরিক্ত গরম?
-
ল্যান্ডিংয়ের পরই আগুন, ভেঙে গুঁড়িয়ে গেল বায়ুসেনার বিমান! বড়সড় দুর্ঘটনা জোড়হাটে