শ্রীকান্ত পাত্র, ঘাটাল: অঙ্কের প্রতি ভালবাসা আর তা নিয়ে মুন্সিয়ানার স্বীকৃতি৷ ন্যাশনাল ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াডে এরাজ্য থেকে মাত্র একজনই জিতলেন জাতীয় পুরস্কার৷ পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের ছাত্র অর্ক কর্মকার৷ বরাবরের মেধাবী ছাত্র অর্কর অংকের প্রতি গভীর ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই৷ জাতীয় স্তরের এই প্রতিযোগিতায় গত ৬ মাস ধরে লাগাতার মনপ্রাণ দিয়ে বিষয়টি নিয়ে একাগ্রতার সঙ্গে কাজ করেছে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রটি৷ আর তারই স্বীকৃতি হিসেবে দেশের মধ্যে ৮ জনের তালিকায় নাম উঠেছে অর্ক কর্মকারের৷ এমন কঠিন প্রতিযোগিতায় এত বড় সাফল্যে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত অর্ক৷ কিন্তু স্বভাবশান্ত ছেলেটি উচ্ছ্বাসের বেশি প্রকাশ ঘটায়নি৷ জাতীয় প্রতিযোগিতা মিটিয়ে এবার সে মনোনিবেশ করেছে উচ্চমাধ্যমিকে৷
[ আরও পড়ুন: রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত উলুবেড়িয়া, ভোটের আগে ফের খুন তৃণমূল কর্মী]
দাসপুরের গোপালপুর দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন হাই স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র অর্ক কর্মকার৷ গণিত বিষয়টার প্রতি তার বরাবরের ঝোঁক৷ একটু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অংকের জটিল সমস্যা সমাধান করেই সে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেত৷ দ্বাদশ শ্রেণিতে ওঠার পর সুযোগ আসে ম্যাথস অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়ার৷ হোমি ভাবা সেন্টার ফর সায়েন্স এডুকেশনের তরফে জাতীয় স্তরে বিজ্ঞানের বিষয় নিয়ে প্রতিযোগিতা বহু বছরের৷ উচ্চমাধ্যমিক স্তরে না যাওয়া পর্যন্ত তাতে অংশ নেওয়া যায় না৷ দ্বাদশ শ্রেণিতে উঠে যখন বন্ধুরা জয়েন্ট এন্ট্রান্সের জন্য নিজেদের প্রস্তুতি শুরু করে, তখন অর্ক বেছে নিয়েছিল অন্য কিছু৷ সর্বভারতীয় অংকের প্রতিযোগিতায় নিজের নাম লেখায় সে৷ ৩ ধাপের এই প্রতিযোগিতা সম্পূর্ণ হতে প্রায় ৬ মাস সময় লাগে৷ তা জেনেও পিছপা হয়নি অর্ক৷ ৬ মাসের সেই কঠিন ধাপ পেরিয়েছে দেশের মাত্র ৮ জন ছাত্র, যার মধ্যে অর্ক একজন৷ এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে একা অর্কই সর্বভারতীয় শিরোপা পেলেন৷ বাকিদের মধ্যে রয়েছে কেরলের ১ এক জন, মধ্যপ্রদেশের ১ জন, পাঞ্জাবের ১ জন, রাজস্থানের ১ জন এবং তেলেঙ্গানার ৩ জন৷ ম্যাথমেটিক্যাল ন্যাশনাল অলিম্পিয়াডের বিজেতারা এই আট ছাত্র দেশের তিনটি শীর্ষ বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানে সরাসরি ভরতি হওয়ার সুযোগ পাবে৷ দ্বাদশ শ্রেণির পর সিএমআই বা চেন্নাই ম্যাথমেটিক্যাল ইনস্টিটিউট, ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট, কলকাতা এবং ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট, বেঙ্গালুরু – এই তিনটি কলেজের মধ্যে নিজেদের পছন্দমতো যে কোনও জায়গার মধ্যে দিয়ে নিজেদের কেরিয়ার এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে৷এছাড়া সরকারি খরচে দেশের সেরা বিজ্ঞানীদের সান্নিধ্যে এপ্রিল মাসে হোমি ভাবা সেন্টার ফর সায়েন্স-এ এক মাসের জন্য ক্যাম্প করার সুযোগও পাবে কৃতী ৮ জন৷
[ আরও পড়ুন: ফেসবুকে বিক্ষোভ, টিকিট না পেয়ে জবাবদিহি চাইলেন বর্ধমানের বিজেপি নেতা]
বাংলার কৃতী অর্ক অবশ্য এখনও নিজের কেরিয়ার নিয়ে নির্দিষ্টভাবে কিছু ঠিক করে উঠতে পারেনি৷ তবে উচ্চমাধ্যমিকের পর গণিত নিয়েই পড়াশোনা করবে, তা নিশ্চিত৷ অর্কর বাবা কাজলকান্তি কর্মকার পেশায় সাংবাদিক৷ মা তৃপ্তিদেবীও সম্পাদনার কাজে যুক্ত৷ পরিবারের অন্যান্য বড়রা সকলেই হয় চিকিৎসক, নয়তো শিক্ষক৷ ফলে বাড়িতে শিক্ষার পরিবেশই অর্কর অনুপ্রেরণা৷ আপাতত উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় মনোনিবেশ করছে সে৷ তারপর গণিতের বিশাল জগৎ তো রয়েইছে৷ অঙ্কের জটিল ধাঁধা সমাধানের পথেই সে হাঁটবে বলে ঠিক করে রেখেছে৷
ছবি: সুকান্ত চট্টোপাধ্যায়
সর্বশেষ খবর
-
প্রথম ম্যাচের আগে সুস্থ হবেন ইয়ামাল, বার্তা স্প্যানিশ কোচ ফুয়েন্তের
-
অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন তারকাই কি বাংলার পরবর্তী বোলিং কোচ? বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি ছিন্ন হতেই জল্পনা
-
মাতলার চরে সবুজের উৎসব, সুন্দরবন বাঁচাতে রোপণ করা হল হাজার হাজার ম্যানগ্রোভ
-
গ্রেপ্তারির পর কেন কোমরে দড়ি পরিয়ে ঘোরানো হচ্ছে রাস্তায়? রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চাইল হাই কোর্ট
-
‘বৈজ্ঞানিক সত্য’-র দায় নেই, ‘রাজনৈতিক সত্য’ হওয়ার