Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ আষাঢ় ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ৭ জুলাই ২০২৬
TMC councillor attempt to suicide in Kalna

কালনা ও খড়ার পুরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচন ঘিরে অশান্তি, আত্মহত্যার চেষ্টা কাউন্সিলরের

দলবিরোধী কাজের জন্য বহিষ্কৃত ওই কাউন্সিলর।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৬, ২০২২, ২১:২০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৬, ২০২২, ২১:২০

options
link
কালনা ও খড়ার পুরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচন ঘিরে অশান্তি, আত্মহত্যার চেষ্টা কাউন্সিলরের zoom

সংবাদ প্রতিদিন ব্যুরো: পুরসভায় চেয়ারম্যান নির্বাচন শান্তিতে হলেও কয়েকটি জায়গায় কিছুটা হলেও গোলমাল দেখা দিল। তবে তা কোথাও মাত্রা ছাড়ায়নি বলেই খবর। বুধবার চেয়ারম্যান নির্বাচন নিয়ে সকাল থেকেই এলাকায় এলাকায় উত্তেজনা ছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নির্দেশ অমান্য করে চেয়ারম্যান হওয়ার অভিযোগ উঠল খড়ার পুরসভার অদ্যুৎ মণ্ডলের বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে কাঁথিতে প্রায় চার দশক পার করে অধিকারী পরিবারের প্রতিনিধিত্ব ছাড়াই পুরবোর্ড গঠন হল। তবে চেয়ারম্যান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় কালনায়। দলের নির্দেশ অমান্য করে আনন্দ দত্তর পরিবর্তে তপন পোড়েলকে কালনা পুরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতে চেয়েছিল তৃণমূল কাউন্সিলদের একাংশ। এই নিয়ে কালনার পুরশ্রী সভাকক্ষে অশান্তি দেখা দেয়। পুর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা কালনার চেয়ারম্যান নির্বাচন স্থগিত করে দেন। দলবিরোধী কাজের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে তপন পোড়েলকে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

দলের সাধারণ সম্পাদক অরূপ বিশ্বাস এদিন রাতে জানান, দলবিরোধী কাজের জন্য কালনা শহর তৃণমূল সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তপন পোড়েলকে। দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে তপনকে। দলের শীর্ষনেতৃত্ব কালনার চেয়ারম্যান হিসেবে আনন্দ দত্ত ও ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তপন পোড়েলের নাম ঘোষণা করে। মঙ্গলবার বর্ধমানে বৈঠক করে দলের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। এদিন কালনার পুরশ্রী সভাকক্ষে তৃণমূলের ১৭ জন ও সিপিএমের একজন কাউন্সিলর শপথ নেন।

এরপরই গোলমালের সূত্রপাত হয়। তৃণমূলের ১২ জন কাউন্সিলর একজোট হয়ে তপন পোড়েলকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতে তৎপর হয়। সেই খবর বাইরে দলীয় নেতৃত্বের কাছে পৌঁছতেই শোরগোল পড়ে যায়। অবস্থান-বিক্ষোভ চলতে থাকে। ইতিমধ্যে তৃণমূলের ১৭ জন কাউন্সিলর চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য সভাকক্ষে ঢুকে যান। দেখা যায়, ভিতর থেকে বন্ধ থাকা ঘরের বাইরের বারান্দা থেকে মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ-সহ অন্যান্য কর্মী সমর্থকরা ক্ষোভ দেখাতে থাকেন। আনন্দ দত্ত-সহ আরও চার কাউন্সিলরকে ওই বারান্দায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। আনন্দ দত্তকে বাইরে থেকেই বন্ধ দরজায় জোর ধাক্কা মারতেও দেখা যায়।

[আরও পড়ুন: জাপানে ভয়াবহ ভূমিকম্প, জারি সুনামির সতর্কতা]

প্রায় এক ঘন্টারও বেশি সময় ধরে এইভাবে চলতে থাকে। পরে ওই ঘর থেকে কাউন্সিলররা বেরতেই নিচে থাকা কর্মী-সমর্থকরা আনন্দ উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে। তারপরেই স্বপন দেবনাথ কাউন্সিলরদের ঘরের ভিতর ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়ে তালা দেওয়ার নির্দেশ দেন। সঙ্গে সঙ্গে একজন তালা ঝুলিয়েও দেয়। যদিও বেশ কিছুক্ষণ পর পাশে থাকা আর এক দরজা দিয়ে কাউন্সিলররা বেরতেই ফের তাঁদের ঘরে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতেই ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনিল বসু মন্ত্রীকে হাতজোড় করেন। ওখান থেকে বেরনোর জন্য আবেদন জানান। তারপরেও তা না হওয়ায় দোতলায় থাকা মিটিং হলের ওই বারান্দা রেলিংয়ে উঠে নিচে ঝাঁপ মারতেও উদ্যত হন অনিল বসু।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশৃঙ্খলা ও গোলমালের জেরে চেয়ারম্যান নির্বাচন হয়নি। বিকেলেই পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন কালনার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা জানিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচন স্থগিত রাখার জন্য জেলাশাসককে চিঠি দেন। এরপরই জেলাশাসক আইনশৃঙ্খলাজনিত পরিস্থিতির কথা জানিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন কালনার মহকুমা শাসককে।

খড়ারে দলের মনোনীত কাউন্সিলর সন্ন্যাসী দোলই চেয়ারম্যান না হওয়ায় তাঁর অনুগামীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এদিন সকাল থেকেই পুরসভার সামনে চেয়ারম্যানের দাবিতে অদ্যুৎ মণ্ডলের অনুগামীরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অদ্যুতের নাম না আসায় ঘাটাল ব্লক তৃণমূল সভাপতি দিলীপ মাজিকে দায়ী করে স্লোগানও ওঠে। দলীয় নির্দেশকে অমান্য করায় অদ্যুতের বিরুদ্ধে দল কড়া ব্যবস্থা নিতে চলেছে বলে জানিয়েছেন ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র বিকাশ কর। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কোঅর্ডিনেটর মানস ভুঁইয়া ও জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি তথা অন্যতম কোঅর্ডিনেটর বিধায়ক অজিত মাইতি দু’জনেই জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত তাঁরা মানছেন না।

আপাতত অদ্যুত মণ্ডলকে শহর তৃণমূল সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ১০ সদস্যের খড়ার পুরসভায় তৃণমূলের আট ও বিজেপির দুই জন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। চেয়ারম্যান নির্বাচনের পর্ব শুরু হতেই দু’টি নাম প্রস্তাব হয়। দলের নির্দেশ মেনে সন্ন্যাসী দোলইয়ের নাম প্রস্তাব করেন পূর্বা ভুঁইয়া। অন্যদিকে অদ্যুৎ মণ্ডলের নাম প্রস্তাব করেন কল্যাণী সিংহ। ফলে ভোটাভুটি হয়। অদ্যুৎ মণ্ডল ৬টি ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। অদ্যুৎ বলেন, “কখনও কখনও বাস্তব অবস্থাকে মেনে নিতে হয়। আমি একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী হতে পারি কিন্তু বাস্তবকে অস্বীকার করি কী করে? আমি সবাইকে নিয়ে চলতে চাই।”

অন্যদিকে, কাঁথি পুরসভার প্রায় চার দশকের ইতিহাসে ছেদ পড়ল অধিকারী পরিবারের প্রতিনিধিত্ব ছাড়াই পুরসভার বোর্ড গঠন হওয়ায়। চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নিলেন কাঁথির সুবল মান্না। টানা ৩৭ বছর তিনি কাউন্সিলর রয়েছেন। মহকুমা শাসক চেয়ারম্যানকে শপথ বাক্য পাঠ করান। তবে দলীয়ভাবে ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে সুপ্রকাশ গিরি, চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল হিসেবে রিনা দাসের নাম ঘোষণা হলেও দু’জনে শপথ এদিন হয়নি। আগামী ১ মাসের মধ্যে দু’জনে শপথ নেবেন। সুবল বলেন, “সমস্ত কাউন্সিলর,ভাইস চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার মানুষের উন্নয়ন, মানুষের সমস্যা মেটানোই আমার প্রধান লক্ষ্য।” এগরা পুরসভা ত্রিশঙ্কু হয়। মোট ১৪টি আসনের মধ্যে তৃণমূল পায় ৭টি, বিজেপি পায় ৫টি আসন এবং কংগ্রেস ও নির্দল একটি করে আসনে জয়ী হয়। এখানে চেয়ারম্যান হন স্বপন নায়ক।

[আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি যেতে বাধা, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি টেট উত্তীর্ণদের, রণক্ষেত্র হাজরা মোড়]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.