বিপ্লবচন্দ্র দত্ত, কৃষ্ণনগর: রোজা সেরে ইফতার পার্টিতে যোগ দেওয়ার পর দুই বন্ধু ব্যবসায়ের টাকা আদায় করতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে মোটরবাইকে চেপে বাড়ি ফেরার পথে একটি শিশুকে তারা তুলে নিয়েছিলেন সেই মোটরবাইকে। আচমকাই দুষ্কৃতীদের হামলার মুখে পড়েন তারা। তাদের লক্ষ্য করে ছোড়া হয় পরপর বোমা। বোমার আঘাতে এবং ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর জখম হয়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হল একজনের। বোমার আঘাতে জখম হয়েছেন মৃতের বন্ধু এবং শিশুটি। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার কালীগঞ্জ থানার দেবগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের গহরাপোতা গ্রামে। মৃত এবং আহত দুই বন্ধু তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থক। রাজনৈতিক কারণেই তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
মৃত ওই তৃণমূল সমর্থকের নাম তৈহিদ আলী শেখ। কৃষ্ণনগর শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে বোমার আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে ভরতি মৃতের বন্ধু মিনারুল হক। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বর্তমানে বাড়িতে রয়েছে বোমার আঘাতে জখম বছর আটেকের শিশু। তৈহিদ আলি শেখ এবং মিনারুল হকের বাড়ি গহরাপোতা গ্রামে। তাঁরা দুজনে বন্ধু। দুজনেই পেশায় ব্যবসায়ী। রোজার পর বৃহস্পতিবার সন্ধেয় ইফতার পার্টি সেরে পাওনা টাকা আদায় করার জন্য মোটরবাইকে চেপে দু’জনে গিয়েছিলেন দেবগ্রামে। সেখানে কয়েক জায়গায় টাকা আদায় করার পর দেবগ্রাম স্টেশন বাজারের কাছে একটি দোকানে বসে দুজনে চা খান। এরপর রাত ৯টা নাগাদ তাঁরা মোটরবাইক চালিয়ে গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। যাওয়ার পথে তাঁদের সঙ্গে দেখা হয়ে যায় এক দম্পতির। তাঁরা মোস্তাকিনকে সঙ্গে করে ইফতার পার্টি সেরে সাইকেল নিয়ে হেঁটে মেয়ের বাড়ি থেকে ফিরছিলেন। তাঁদের ছেলেকে গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাঁরা তৈহিদ ও মিনারুলকে বলেন। দুই বন্ধু ওই শিশুকে মোটরবাইকে তাঁদের মাঝখানে বসিয়ে গ্রামের দিকে ফিরছিলেন।
[আরও পড়ুন: দম্পতি পরিচয়ে রাত্রিবাস! তারকেশ্বর মন্দিরে পুজো দিয়ে ‘আত্মঘাতী’ পরকীয়ায় মত্ত যুগল]
গ্রামে ঢোকার ৫০০ মিটার আগে দুষ্কৃতীরা তাঁদের মোটরবাইক লক্ষ্য করে পরপর বোমা ছুঁড়তে থাকে। তিনজন মোটরবাইক থেকে ছিটকে পড়ে। বোমার আঘাত লাগার পরেও মিনারুল দৌড়ে এগিয়ে যান। কিন্তু পা ভাঙার কারণে অস্ত্রোপচার হওয়ায় তৈহিদ দৌড়তে পারেননি। দুষ্কৃতীরা তাকে রাস্তায় ফেলে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। সেই মুহূর্তে বোমার আওয়াজ শুনে গ্রামের লোকজন ছুটে আসে। দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। ইতিমধ্যে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। দুই বন্ধুকে উদ্ধার করে তাঁরা কৃষ্ণনগর শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে গভীর রাতে মৃত্যু হয় তৈহিদ আলি শেখের।
শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান তার বাবা-মা। কী কারণে ওই তৃণমূল সমর্থককে খুন করা হল, কেই-বা খুনের পিছনে জড়িত, সে বিষয়ে মৃতের স্ত্রী কোকিলা বিবির অভিযোগ, “আমার স্বামী তৃণমূল করতেন। তাঁর বন্ধুও তৃণমূল সমর্থক। আমাদের গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য মোয়েনউদ্দিন শেখ একটা সময় তৃণমূল করতেন। কিন্তু ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে উনি বাম, কংগ্রেস জোটের হয়ে কাজ করেন। তিনি নিজের এলাকায় প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছেন। আমার স্বামী যেহেতু তৃণমূল করতেন এবং তার কাজকর্মের প্রতিবাদ করতেন, তাই তাকে খুন করে পথের কাঁটা সরাতে চেয়েছেন। সে গুন্ডা দিয়ে আমার স্বামীকে খুন করেছে।” একই অভিযোগ করেছেন মৃতের দূর সম্পর্কের ভাই বিপুন মল্লিকের। তিনি অভিযোগ করেন, “পঞ্চায়েত সদস্য মোয়েনউদ্দিন শেখ এলাকায় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে। বাড়িতে গুন্ডা রাখেন। আমার দাদা তার প্রতিবাদ করত। তাই গুন্ডা লাগিয়ে আমার দাদাকে খুন করেছে।” মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই পঞ্চায়েত সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
[আরও পড়ুন: EXCLUSIVE: অরুণ লালের সঙ্গে কীভাবে আলাপ? মুখ খুললেন হবু স্ত্রী বুলবুল সাহা]
সর্বশেষ খবর
-
ভুলো বিল তৈরি করে কলকাতা পুলিশের ডিসি অফিসের ৫১ লাখ টাকা তছরূপ! গ্রেপ্তার সরকারি কর্তা
-
টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড, ইংল্যান্ডকে হেলায় হারিয়ে সাতবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান অস্ট্রেলিয়া
-
টোটোতে অ্যাম্বুল্যান্সের ধাক্কা, চালকের হাত কেটে পড়ে গেল রাস্তায়! ভয়ংকর কাণ্ড দুর্গাপুরে
-
বদ্রীনাথে অনুদান চুরির তদন্তে চার সদস্যের কমিটি, সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট তলব
-
বাথরুমে লুকিয়ে দাড়ি কাটছেন স্ত্রী! ৩ বছর সংসারের পর এ দৃশ্যে স্তম্ভিত স্বামী, তারপর…