BREAKING NEWS

৪ আশ্বিন  ১৪২৭  সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

মান্নান-ই বিরোধী দলনেতা, ক্ষুব্ধ মানস

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: May 31, 2016 9:39 am|    Updated: May 31, 2016 9:39 am

An Images

স্টাফ রিপোর্টার: দিল্লিতে পলিটব্যুরো যখন জোটের তত্ত্বকে অস্বীকার করছে, কলকাতায় তখন কংগ্রেস-সিপিএম নেতাদের কোলাকুলি৷ দিল্লি থেকে এআইসিসি আবদুল মান্নানকে কংগ্রেসের পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচন করতেই উল্লসিত সিপিএম শিবির৷ কারণ, দীর্ঘদিনের কংগ্রেস নেতা মান্নান সাহেবই হতে চলেছেন বিরোধী দলনেতা৷ সিপিএম মনে করছে, মানস ভুঁইয়ার থেকে আবদুল মান্নান অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য৷

সোমবার দুপুরে বিধানসভায় কংগ্রেসের ঘরে গিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন বাম পরিষদীয় দলের নেতা সুজন চক্রবর্তী ও আনিসুর রহমান৷ আজ, মঙ্গলবার তাঁকে সঙ্গে করে নিয়ে নিজেদের ঘরটি ছেড়েও দেবেন বলে ঘোষণা করেন সুজনবাবু৷ অন্যদিকে, কটাক্ষ তৃণমূলের৷ মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেন, “সিপিএমের মুখপত্রের অফিসে গিয়ে বৈঠক করার উপহার পেলেন মান্নানসাহেব৷”

মানস না মান্নান, কে হবেন বিরোধী দলনেতা তা নিয়ে কংগ্রেসে প্রবল নাটক চলছিল৷ মুখবন্ধ খামে এআইসিসি-র কাছে বিধায়কদের ভোট জমা করা হয়৷ বোঝাই যাচ্ছিল, অধীর চৌধুরি চান না বলেই মানসের শিকে ছিঁড়ছে না৷ দুপুরে রাজ্যের পর্যবেক্ষক সিপি যোশী ফোন করে মান্নানকে পরিষদীয় নেতা হওয়ার খবর দেন৷ দশ বছর পর বিধানসভায় ফিরে একেবারে বিরোধী দলনেতার পদ, মান্নান এদিন দৃশ্যতই ছিলেন খুশি৷ আজ কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের বৈঠক ডেকেছেন চাঁপদানির বিধায়ক৷ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকেই নেতা নির্বাচন করা হবে৷ তার পরই কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে মান্নানের নাম প্রস্তাব করে স্পিকারকে চিঠি দেওয়া হবে৷

দিল্লিতে এদিনই জোটের তত্ত্ব খারিজ করেছে সিপিএমের পলিটব্যুরো৷ কিন্তু সিপিএমে ভোটে হারার পর মুষলপর্ব শুরু হয়েছে৷ এ রাজ্যের সিপিএম নেতারা যে এখন দিল্লির নির্দেশ মানছেন না, তাও বোঝা গিয়েছে৷ এদিন কংগ্রেসের ঘরে এসে মান্নানকে সুজন বলেন, “খুব খুশি হয়েছি আমরা৷ তুমিই হবে বিরোধী দলনেতা৷ মঙ্গলবার আমাদের ঘরেই বিরোধী দলনেতার চেয়ারে তোমাকে বসিয়ে আসব৷” সুজন, আনিসুর বহুক্ষণ কংগ্রেসের ঘরে কাটিয়ে যান৷ মুড়ি-জিলিপিও খান একসঙ্গে৷ একান্তে বৈঠকও করেন৷

বামেদের সঙ্গে জোট বজায় রাখতে চান, সেই বার্তা দিলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করেন মান্নান৷ তিনি বলেন, “আমিই তো একসময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সব আন্দোলনের পাশে থেকেছি৷ কিন্তু আজ পরিস্থিতির বিচারে ওঁর বিরুদ্ধে যেতে হচ্ছে৷”

এদিকে, যতই জোট-জোট করা হোক, বাস্তবে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের একটি অংশ একে অপরের সঙ্গে আর সম্পর্ক মধুর রাখতে রাজি নন৷ যেমন, দলের অনেকেই সিপিএমের সঙ্গে শপথ নিলেও মানসবাবু শনিবার আলাদাভাবে শপথ নেন৷ বামেদের সঙ্গে জোট-বেঁধে শপথ নেওয়ারও তিনি বিরোধিতা করেন৷ মান্নানের অনুরোধও শোনেননি৷ জানা গিয়েছে, মানসবাবুকে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান করা হতে পারে৷ মানস অবশ্য কোনও পদ নিতে রাজি নন৷ সোমবার ব্যক্তিগত কাজ থাকায় মানসবাবু বিধানসভায় আসেননি৷ তবে এদিন পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হয়ে মানসবাবুকে ফোন করে সহযোগিতা চান আবদুল মান্নান৷ মানস মুখে তাঁকে অভিনন্দন জানালেও ঘনিষ্ঠমহলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন৷ ফলে বহুদিন বাদে প্রধান বিরোধী দলের স্বীকৃতি ফিরে পেলেও মানস-কাঁটা নিয়েই চলতে হবে মান্নানকে৷ সেই ছবিটা এখনই স্পষ্ট৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement