সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পেপার মিলের চৌবাচ্চা সাফ করতে নেমে বিষাক্ত রাসায়নিকের মধ্যে পড়ে মৃত্যু হল ৬ শ্রমিকের। বেসরকারি সূত্রের খবর, নৈহাটি থানার হাজিনগর এই পি পি পেপার মিলে বৃহস্পতিবার রাতে ওই চৌবাচ্চা পরিষ্কার করতে নামেন তিনজন শ্রমিক। অসাবধানবশত তাঁরা পড়ে যান ভিতরে। ওই চৌবাচ্চায় কাগজের মণ্ড তৈরির জন্য রাসায়নিক থাকত। রাসায়নিক বোঝাই চৌবাচ্চায় পড়ে বিষাক্ত গ্যাসে দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তিনজনের।
[বেআইনি কাজ রুখতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নজরদারি, ইসরোর সঙ্গে চুক্তি রেলের]
তাঁদের উদ্ধার করতে মিলের অন্যান্য শ্রমিকরাও ঝাঁপিয়ে পড়েন চৌবাচ্চার মধ্যে। সহকর্মীদের উদ্ধার করতে গিয়ে তাঁরাও ওই চৌবাচ্চাতেই পড়ে মারা যান। শেষ পাওয়া খবরে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৬। আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও বেশ কয়েকজন। মুখে মুখে এই খবর চাউর হতেই গতকাল রাত থেকে ওই কারখানার বাইরে ভিড় জমাতে থাকেন উদ্বিগ্ন শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। মিল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বিপর্যয় মোকবিলা বাহিনী ও দমকল। ডুবুরি নামিয়ে শুরু হয় উদ্ধারকার্য। রাতেই চারজনকে উদ্ধার করে কল্যাণীর জওহরলাল নেহেরু হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকরা চারজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে আরও দুজনের মৃত্যু হয় বলে অসমর্থিত সূত্রে খবর।
এই ঘটনায় এলাকায় প্রবল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন বারাকপুর কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার রাজেশকুমার সিং। আসেন তিন বিধায়ক অর্জুন সিং, পার্থ ভৌমিক ও শুভ্রাংশু রায়। মৃত দুই শ্রমিকের নাম মিঠু প্রজাপতি ও উদয় রাজ বলে জানা গিয়েছে। মৃতদের পরিবারে শোকের ছায়া। ঘটনাস্থলে উপস্থিত শ্রমিকদের দাবি, আর কারা কারা ওই ট্যাঙ্কে পড়ে মারা গিয়েছেন তাঁদের নাম ঘোষণা করে যোগ্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যদিও প্রশাসন এখনও পর্যন্ত মৃত প্রত্যেক শ্রমিকদের নাম জানাতে পারেনি। এত বড় দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযোগ উঠছে, ওই কারখানায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। যে চৌবাচ্চা সাফ করতে নেমেছিলেন শ্রমিকরা তার মধ্যে রাসায়নিক রেখে কাগজের মণ্ড তৈরি হত বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।
ভাটপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিং, নৈহাটির বিধায়ক পার্থ ভৌমিক ও বীজপুরের বিধায়ক শুভ্রাংশু রায় খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বিধায়ক অর্জুন সিং জানান, ট্যাঙ্ক সাফাই করতে গিয়ে কয়েকজন শ্রমিক ওই ট্যাঙ্কের মধ্যে পড়ে গিয়ে তলিয়ে গিয়েছে। ডুবুরি তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা করছে। তবে, সঠিক কতজন শ্রমিক তলিয়ে গেছে তা স্পষ্ট করে জানাতে পারেনি তিনি। মৃত শ্রমিকদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি তোলেন অর্জুন সিং। পাশাপাশি ওই কারখানার মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। মিল চত্বরে উত্তেজনা থাকায় নৈহাটি ও বীজপুর থানার পুলিশ, র্যাফ ও কমব্যাক্ট ফোর্সের জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে।
[অ্যাপেলো কাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত দুই চিকিৎসক, সাময়িকভাবে বাতিল লাইন্সেস]
সর্বশেষ খবর
-
হরদীপ সিং নিজ্জর খুনের নেপথ্যে লরেন্স বিষ্ণোই, গোল্ডি ব্রার! এফবিআইয়ের জালে ২৪
-
কলকাতায় বিজেপির পুরনো দপ্তরে শ্যামাপ্রসাদ মিউজিয়াম, থাকবে ব্যবহৃত জিনিস, লেখা-ছবি
-
শান্তিচুক্তি ভেঙে হরমুজে হামলা, আমেরিকার প্রত্যাঘাতে তছনছ ইরান! বাতিল তেল বিক্রির ছাড়পত্র
-
‘মেসিকে রাখতে এত কিছু, ট্রফিটাই দিয়ে দিক ফিফা’, আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিস্ফোরক মিশর কোচ
-
বারুইপুর ‘গণধর্ষণ ও খুনে’ এনকাউন্টার! পুলিশের গুলিতে মৃত্যু অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের