Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Maoist Akash

সারান্ডায় তাড়া খেয়ে বাংলামুখী, ১৪ বছর পর ‘ঘরে’ই আশ্রয় নাকি আত্মসমর্পণ মাওবাদী আকাশের?

১৪ বছর পর মাওবাদীদের নতুন করে গতিবিধি বাড়ার খবর রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দাদের তরফে জঙ্গলমহলের ৫ জেলার পুলিশকে জানানো হয়।

অমিত সিং দেও
অমিত সিং দেও

শেষ আপডেট: জুন ২৪, ২০২৬, ২৩:৪৭

link
অমিত সিং দেও
অমিত সিং দেও

শেষ আপডেট: জুন ২৪, ২০২৬, ২৩:৪৭

options
link
সারান্ডায় তাড়া খেয়ে বাংলামুখী, ১৪ বছর পর ‘ঘরে’ই আশ্রয় নাকি আত্মসমর্পণ মাওবাদী আকাশের? zoom
৪ বছর পর 'ঘরে'ই আশ্রয় নাকি আত্মসমর্পণ মাওবাদী আকাশের?
Advertisement

এক পালাবদলে বাংলা ছাড়া। আরেক পালাবদলে বাংলার অভিমুখে ১০ থেকে ১২ জনের সশস্ত্র মাওবাদী স্কোয়াড! নতুন করে সংগঠন গোছানো নাকি আত্মসমর্পণ? তবে ঝাড়খণ্ডের সারাণ্ডা থেকে দলমায় ডেরা তৈরিতে চাপ বেড়েছে বাংলা-ঝাড়খণ্ড পুলিশের। ১৪ বছর পর মাওবাদীদের নতুন করে গতিবিধি বাড়ার খবর রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দাদের তরফে জঙ্গলমহলের ৫ জেলার পুলিশকে জানানো হয়। তারপরেই পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর ও বীরভূম জেলায় একদা মাওবাদী উপদ্রুত এলাকার থানা, ফাঁড়ি,ক্যাম্পে হাইএলার্ট জারি করা হয়েছে। পাশাপশি যৌথ বাহিনীর অপারেশনের জন্য আরও নিখুঁত তথ্য পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে গোয়েন্দা দপ্তর।

Akash
মাওনেতা আকাশ

বাম জমানায় জঙ্গলমহলের মাওবাদীদের আন্দোলন চূড়ান্তে পৌঁছেছিলেন সিপিআই (মাওবাদী) পলিটব্যুরো সদস্য মল্লেজুলা কোটেশ্বর রাও ওরফে কিষাণজি। শতাধিক খুন- নাশকতার মাস্টারমাইন্ড তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরই যৌথ বাহিনীর গুলিতে নিহত হন। তারপর একাধিক মাও নেতার মৃত্যু, গ্রেপ্তার থেকে আত্মসমর্পণ। অবশেষে বাংলা থেকে সশস্ত্র অতি বামপন্থীরা মাটি হারান। যার ফলে ২০১২ সালে এই রাজ্যের অবশিষ্ট মাও সদস্যরা ঝাড়খণ্ডের দলমা, খুঁটি হয়ে পরে ৭০০ পাহাড়ের দুর্গম সারাণ্ডার জঙ্গলে ডেরা বাঁধেন।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

সম্প্রতি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ৩১ মার্চ ২০২৬ সালে ভারতকে মাও মুক্ত করার ডেডলাইন বেঁধে দেন। ফলে ছত্তিশগড়, তেলেঙ্গানা-সহ ঝাড়খন্ডেও যৌথ বাহিনীর অভিযান বাড়ে। চাপে পড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাও নেতা-নেত্রীরা প্রাণভয়ে সমর্পণ করে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসেন। চলতি বছর সারাণ্ডার জঙ্গলে যৌথ বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পতিরাম মাঝি ওরফে অনল দা সহ ১৭ মাওবাদীর। ওই ঘটনার পর আতঙ্কে অনেকেই ঝাড়খন্ডে আত্মসমর্পণ করেন।

১৭ জুন কলকাতায় আগ্নেয়াস্ত্র-সহ আত্মসমর্পণ করেন ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি থানার মেছুয়া গ্রামের বাসিন্দা তথা দলের জোনাল কমিটির সদস্য শকুন্তলা মাহাতো ওরফে পুষ্পা তাকেই জেরা করে পুলিশের হাতে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। গোয়েন্দারা জানতে পারেন, বর্তমানে বাংলা ও সীমানা ঘেঁষা ঝাড়খন্ডে যে সমস্ত মাওবাদীরা কাজ করেছেন তাদের মধ্যে জঙ্গলে রয়েছেন কেবল ১০ থেকে ১২ জন। যাদের মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনার ফুলচকের বাসিন্দা অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ। তার স্কোয়াডে ফাইটার হিসেবে পরিচিত ঝাড়খণ্ডের পটমদা থানার ঝুঁজকা গ্রামের রামপ্রসাদ মান্ডি ওরফে শচীন এবং তার স্ত্রী মিতা, ওই রাজ্যের নিমডি থানার টেঙ্গাডি গ্রামের সাগর সিং ওরফে রবি ওরফে বীরেন এবং তার স্ত্রী পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের আমকোচা গ্রামের মীরা পাহাড়িয়া, পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির কর্মাশোলের মদন মাহাতো ও তার স্ত্রী জবা, বেলপাহাড়ি থানার বিদরী গ্রামের সমীর মাহাতো ও তার স্ত্রী মালতী এবং ঝাড়খণ্ডের আরও এক মাও নেত্রী অনিতা মুণ্ডা।

এই রাজ্যের গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন মাসখানেক আগে সারান্ডা ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে অসীম মণ্ডলের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র দল। ঝাড়খণ্ডের সরাইকেল্লা-খুঁটির ত্রিসীমানার জঙ্গলে তারা কয়েকদিন কাটানোর পর দুটি দলে বিভক্ত হয়ে যান। আকাশ সহ ৮ থেকে ৯ জন খুঁটি, বুন্ডু এলাকায় আশ্রয় নিয়ে থাকেন। অ্যাডভান্স টিম হিসাবে নিজের
খাসতালুক মাও কমান্ডার বীরেনের নেতৃত্বে তার স্ত্রী এবং অনিতা চলে আসে দলমা পাহাড়ে। ঝাড়খণ্ড পুলিশ জানতে পেরেছে, পুরুলিয়া ছুঁয়ে থাকা ঝাড়খণ্ডের নিমডি, বড়াম, কমলপুর, পটমদা এবং গালুডি থানা এলাকায় ইতিমধ্যেই নতুনভাবে প্রায় ১০ থেকে ১২ জন সদস্যকে নিজেদের দলে শামিল করেছে। আমদাপাহাড়ি, বাটালুকা, মির্গীটাড় প্রভৃতি এলাকায় তাদের দেখাও গিয়েছে বলে দাবি। ওই এলাকায় ঘুরে ঘুরে বর্তমান পরিস্থিতি খোঁজ করার পাশাপশি টাকার জন্য বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে তারা বার্তা পাঠিয়েছেন। গোয়েন্দাদের ধারণা,এরপরেই খুঁটি এলাকা থেকে চান্ডিলের জঙ্গলে আশ্রয় নিয়ে আকাশের ওই স্কোয়াড এখন দলমায় ডেরা বাঁধতে পারে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.