‘চোরা না শোনে ধর্মের কথা’। তৃণমূলের সঙ্গে বোঝাপড়া নয়। উপরতলার কড়া নির্দেশ থাকলেও কে শুনবে কার কথা! ভোটবাক্সে জোট হচ্ছে বাম-তৃণমূলের (CPM-TMC)। প্রথম ইঙ্গিত দিয়েছে ফলতা। এবার পালা উপনির্বাচন ও পুরভোটের। আদর্শগত দূরত্ব কমেনি। বরং বামেদের সঙ্গে তৃণমূলের রাজনৈতিক মতপার্থক্য প্রবহমান। সর্বভারতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের সঙ্গে বামেরা ইন্ডিয়া জোটে থাকলেও বাংলায় বিজেপির পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকেই প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসাবে দেখেছে লালপার্টি। রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি বিরোধিতায় সেই হিসেব-নিকেশ ওলট-পালট হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় বাম নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উপর হামলা, মিথ্যা মামলা, রাজনৈতিক অত্যাচারের অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। পার্টি অফিস দখল বা আগুন লাগানো ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। বামেদের তরফে বারবার অভিযোগ করা হয়, নিজেদের রাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রাখতে তৃণমূল লালকে ছেড়ে গেরুয়াকে নিশানা বানায়। ফলে কোনও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ছাড়াই রাজ্যে বিজেপি জমি তৈরি করে নেয়। কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকার সুবাদে বিজেপির শক্তি প্রশস্ত করার পথ আরও সুগম হয়। কিন্তু বিজেপির কাছে তৃণমূলের পরাজয় এবং ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সেই পুরনো মেরুকরণে ফাটল ধরছে।
আরও পড়ুন:
নেতৃত্ব প্রকাশ্যে যাই বলুক, নিচুতলায় বাম ও তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের একাংশের মধ্যে ‘অলিখিত সমঝোতা’ তৈরি হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। কারণ, দুই দলের বহু কর্মী-সমর্থকের কাছেই এখন প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপি। বিশেষত নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন এবং আসন্ন পুরভোটে এই নতুন সমীকরণের কিছুটা আভাস মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের ব্যাখ্যা, তৃণমূল এখন কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত এবং সাংগঠনিকভাবেও আগের তুলনায় দুর্বল। ফলে দলের একটি অংশের ভোট, বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটের একাংশ, বামেদের দিকে সরে যেতে পারে।
বাংলাভাষী সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে এই প্রবণতা তুলনামূলক ভাবে বেশি দেখা যেতে পারে বলেও তাঁদের ধারণা। ক্ষমতা পরিবর্তনের পর প্রথম দিকে বিজেপির দিকে সংখ্যালঘু ভোটের একটি অংশ যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও সরকার ক্ষমতায় আসার পর আরএসএস এবং তাদের বিভিন্ন শাখা সংগঠনের কার্যকলাপ ঘিরে সংখ্যালঘু সমাজের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রতিরোধের প্রশ্নে যে দলকে তুলনামূলকভাবে কার্যকর মনে করবেন সংখ্যালঘু ভোটাররা, শেষপর্যন্ত সেই দলের দিকেই ঝুঁকতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সেক্ষেত্রে বামেদের সম্ভাবনাই প্রবল।
তবে এই সমীকরণ এখনও কতটা বাস্তব, তা স্পষ্ট হবে ভোটের ময়দানেই। নেতৃত্বের অবস্থান এবং নিচুতলার ভোট-সমীকরণ এক পথে হাঁটে কি না, নন্দীগ্রাম-রেজিনগরের উপনির্বাচন এবং পুরভোটে তারই পরীক্ষা হবে। ফলে রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক বিন্যাসে বিজেপির বিরুদ্ধে বাম-তৃণমূলের নিচুতলার এই সম্ভাব্য সমীকরণ আগামী দিনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, এখন সেটাই নজরে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
হাওড়া টাউন ডায়াবেটিস স্টাডি সোসাইটির সম্মেলনে বিশ্বমানের চিকিৎসা চর্চা কলকাতায়
-
শয্যাশায়ী স্ত্রী! চেনা হাসি ধরে রাখতে অর্ধাঙ্গিনীর মূর্তি গড়লেন বৃদ্ধ
-
‘মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছি’! ‘আরশোলা’ দীপকের পোস্টে শোরগোল, ব্যাপারটা কী?
-
পদ্মায় নৌকাডুবি, স্রোতের টানে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ১১ বাংলাদেশি! বিএসএফের নজর পড়তেই…
-
পুলিশ সহযোগিতা করছে না! নালিশ নিয়ে সপরিবারে বিজেপি অফিসে তারক সিং