গোটা জীবন কেটেছে রাজনীতির জগতে। ছাত্রাবস্থা থেকে হাতেখড়ি। তারপর রাজ্যের কৃষিদপ্তরের মন্ত্রিত্ব সামলানো। শিক্ষকতা যদি পেশা হয়, রাজনীতি ছিল তাঁর নেশা। মানুষের কাজ করার আরেক রাস্তা হিসেবেই ঢুকে পড়েছিলেন এই জগতে। পঁচাত্তর বছর বয়সে এসে তাঁর মনে অদ্ভুত এক বোধ কাজ করছিল – ‘রাজনীতিতে আসাই ভুল ছিল’। সুইসাইড নোটে সেকথা লিখেওছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সকালে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে টলিয়ে দিয়েছে গোটা পরিবারকে। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে একমাত্র ছেলে কলকাতা থেকে দৌড়ে চলে গিয়েছেন রামপুরহাট। শোকে বিধ্বস্ত অবস্থাতেই তিনি জানালেন নিজের কথা। বরাবর দূরে থাকলেও বাবার এই মৃত্যু কি তাঁকে টেনে আনবে রাজনীতির বৃত্তে? সেই ইঙ্গিতও হল।
এই বিষয়ে আরও খবর
শতদল বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘‘বাবা কোনওদিন চাইতেন না, আমি রাজনীতি করি। বারবার সেকথা বলতেন। আমিও রাজনীতি থেকে শতহস্ত দূরে থাকতাম।” তবে কি এখন নতুন করে রাজনীতিতে যোগ দেবেন? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘‘এটা বলার মতো মানসিক অবস্থা আমার এখন নেই। বাবা তো চাইতেন না। তবে ভবিষ্যতে কী হবে, কিছু বলা যায় না।”
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের একমাত্র ছেলে শতদল। তিনি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। কলকাতায় নামী বহুজাতিক সংস্থায় চাকরি করেন। স্ত্রী-ছেলেমেয়েকে নিয়ে থাকেন এখানেই। শনিবার রাতেও ভিডিও কলে বাবার সঙ্গে কথা বলেছিলেন শতদল। তিনি একাই নন, তাঁর ছেলেমেয়েরাও দাদুর সঙ্গে কথা বলেছিল। রবিবার সকালেই সেই মানুষের মৃত্যু সংবাদ এসে পৌঁছয়। হন্তদন্ত হয়ে রামপুরহাট ছুটে আসেন শতদল ও তাঁর পরিবার। দুপুরে ‘আসল’ তৃণমূলের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, আখরুজ্জামান, স্নেহাশিস চক্রবর্তীরা সেখানে গিয়ে শতদলের সঙ্গে দেখা করেন। তার আগে অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে ফোনে আশিসবাবুর মৃত্যুর জন্য শোকপ্রকাশ করেছেন। পাশে থাকার কথা বলেছেন।

রবিবার দুপুরে সদ্য পিতৃহারা শতদলবাবুকে ঘিরে ছিলেন দলের সকলে। সেখানেই তাঁকে প্রশ্ন করা হয় তাঁর নিজের রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে। আশিসবাবু সুইসাইড নোটে নাকি উল্লেখ করেছেন, তাঁর একমাত্র ছেলে যেন রাজনীতিতে জড়িয়ে না পড়ে। এনিয়ে শতদল বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘‘বাবা কোনওদিন চাইতেন না, আমি রাজনীতি করি। বারবার সেকথা বলতেন। আমিও রাজনীতি থেকে শতহস্ত দূরে থাকতাম।” তবে কি এখন নতুন করে রাজনীতিতে যোগ দেবেন? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘‘এটা বলার মতো মানসিক অবস্থা আমার এখন নেই। বাবা তো চাইতেন না। তবে ভবিষ্যতে কী হবে, কিছু বলা যায় না।” যে রাজনীতির পঙ্কিল আবর্তে পড়ে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো সজ্জন ব্যক্তিকে প্রাণ দিতে হল, সেই মৃত্যুই কি ছেলেকে টেনে আনবে একই পথে? এই প্রশ্ন থাকছেই।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
যন্ত্রে জব্দ মানুষ! ‘সামান্য’ ভুলে কর্মীকে ছাঁটাই করল এআই বস, কী ‘অপরাধে’ গেল চাকরি?
-
অসুস্থ হয়ে কোর্টেই বমি! তীব্র গরমে কাহিল হয়ে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় জোকোভিচের
-
এবার বাংলা ভাষাতেও সম্প্রচার হবে ডুরান্ডের ম্যাচ, বড় ঘোষণা ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁর
-
সুমিতের সঙ্গে মুখোমুখি জেরায় চরম অসঙ্গতি! সুজয়ের মেদিনীপুরে বাড়িতে তল্লাশি সিআইডির
-
স্মৃতিভ্রষ্টতার অসুখ ভুগছে মানুষ, প্রত্যাবর্তন সম্ভব?



