বাবুল হক, মালদহ: অদূরেই কবরস্থান। রাজ্য সড়কের ধারেই আধপোঁতা জোড়া শিশু! একটি নিথর, অপরটি জীবিত। ‘মেয়েটা মৃত, কিন্তু তখনও বেঁচে ছিল ছেলেটি’, ভিড় সরিয়ে সচক্ষে সেটাই দেখতে পান এলাকার বাসিন্দা মুন্না শেখ। সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী। চাপা দেওয়া মাটি সরিয়ে সেই জোড়া শিশু উদ্ধার করে নিজের বাইকে তুলে সোজা হাসপাতাল। কিন্তু বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, শিশু দু’টিই মৃত।
বৃহস্পতিবার সাতসকালে এমনই জোড়া শিশু উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে মালদহের ইংরেজবাজার থানার মিলকি ফাঁড়ির অন্তর্গত চণ্ডীপুর শোভানগর এলাকায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন মিলকি পুলিশ ফাঁড়ির ওসি মনিরুল ইসলাম। তার আগেই স্থানীয় লোকজন জোড়া শিশুর দেহ নিয়ে মিলকি গ্রামীণ হাসপাতালে পৌঁছে যান। পরে পুলিশ দেহ দু’টি ময়নাতদন্তের জন্য মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
শিশু দু’টির বয়স আনুমানিক মাত্র তিন মাস। কে বা কারা, শিশু দু’টির দেহ শোভানগর-চণ্ডীপুরের রাজ্য সড়কের ধারে ফেলে গিয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। সেই এলাকা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গঙ্গা নদীর মানিকচক ঘাট। গঙ্গা টপকালে ওপারেই ঝাড়খণ্ড রাজ্য। বাংলা ও ঝাড়খণ্ড, দুই রাজ্যের মানুষ ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকেন। ফলে ঝাড়খণ্ড থেকেও কেউ মানিকচক হয়ে এসে জোড়া শিশুর দেহ ফেলে গিয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান পুলিশের। শুধু তা-ই নয়, শিশু দু’টি ফেলার পর মাটি চাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়।
প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, দেহ দু’টি আধপোঁতা অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। একটি শিশু জীবিত রয়েছে ভেবে স্থানীয়রা মাটি সরিয়ে ফেলেন। কিছুটা দূরেই একটি কবরস্থান রয়েছে। হয়তো সেখানে নিয়ে গিয়ে ফেলার উদ্দেশ্য ছিল। কোনও কারণে রাজ্য সড়কের ধারেই ফেলে পালিয়েছে।
[আরও পড়ুন: মোবাইল পুকুরে ছুঁড়ে ফেলেননি জীবনকৃষ্ণ, ভোল বদলে বিপরীত দাবি আইনজীবীর]
তিন থেকে সাড়ে তিন মাস বয়সের শিশু দু’টিকে কি শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে? এমন প্রশ্নও উঠেছে। যদিও পুলিশের দাবি, পুরো বিষয়টি ময়নাতদন্ত রিপোর্টেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, মুন্না শেখ নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা তাঁর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মোটরবাইকে ধরমপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় রাজ্য সড়কের পাশে ভিড় দেখে তিনি বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে যান। সেখানে কৌতুহলী মানুষের ভিড় ছিল যথেষ্ট। মাটিতে আধপোঁতা অবস্থায় থাকা শিশু দু’টিকে জীবিত ভেবে তিনি হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।
মুন্না শেখ বলেন, “শিশু দু’টি দেখতে পেয়ে মিলকি ফাঁড়ির পুলিশকে জানাই। এরপর উদ্ধার করে মিলকি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখান থেকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন দুটি শিশুই মারা গিয়েছে। তিন থেকে চার মাস বয়সের হবে। তবে যারা এই ধরনের কাজ করেছে তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।” মিলকি ফাঁড়ির পুলিশ জানিয়েছে, শিশু দু’টি পরিণত নয়। যার ফলে ছেলে না মেয়ে বোঝা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের জন্য মালদহ মেডিক্যালে পাঠিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
[আরও পড়ুন: এক্সিট পোলে এগিয়ে কংগ্রেস, কর্ণাটকের ফল নিয়ে কী বলছে দেশের সেরা সাট্টা বাজারগুলি?]
সর্বশেষ খবর
-
এবছরই দেশে ফেরার ঘোষণা হাসিনার, কী বলল ঢাকা?
-
‘বিয়ে করতে জেলে যাচ্ছি’, টোপর পরিয়ে ‘জামাই আদর’, তৃণমূল কাউন্সিলরকে ঘিরে জনরোষ!
-
বাড়বে স্ক্রিনের সংখ্যা! ভারতীয় সিনে ইন্ডাস্ট্রির উন্নতিতে একগুচ্ছ ঘোষণা কেন্দ্রের
-
বাংলার ভাষাবিদের ইতালি জয়, সাঁওতালি ভাষা ও সাহিত্যে প্রথম ভারতীয় হিসাবে আন্তর্জাতিক পুরস্কার!
-
২ তৃণমূল কাউন্সিলর গ্রেপ্তার হতেই পদত্যাগের ঢল! ডামাডোম পানিহাটি পুরসভায়