রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়: যেটুকু মনোনয়ন দেওয়া গিয়েছে তা দিয়েই শাসকদলের বিরুদ্ধে জোর লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি। যে পরিস্থিতিতেই ভোট হোক সংগঠনের শক্তি অনুযায়ী মোকাবিলা হবে বলে জানিয়ে দিলেন রাজ্য নেতারা। তাই পঞ্চায়েত ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার আগেই মঙ্গলবার নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করে তারা যে শুধু কোর্টে নয় ভোটের ময়দানেও আছে শাসকদলকে এমনই বার্তা গেরুয়া শিবির দিতে চেয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
[বাড়িতে বাউন্সার পাঠিয়ে কেন নজরদারি? শোভনের নির্দেশে ক্ষুব্ধ রত্না]
এদিন ইস্তাহারে গ্রামোন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে জোর দেওয়ার কথা বলেছে বিজেপি। রাজ্যে ক্ষমতায় এলে প্রতি ব্লকে কর্ম বিনিয়োগ কেন্দ্র খোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। একশো দিনের বদলে তিনশো দিনের কাজের সুযোগ দেওয়ার ঘোষণাও রয়েছে ইস্তাহারে। আবার ইস্তাহারের শেষ পাতায় ধর্মাচরণের স্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এর মাধ্যমে নিজেদের গায়ে লেগে থাকা মেরুকরণের রাজনীতির তকমা ঝেড়ে ফেলতে চেয়েছে বঙ্গ বিজেপি। ঘোষণাপত্রে একটি সম্প্রীতির ছবি দিয়ে তারা লিখেছে, সকলে যাতে বিনা বাধায় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারে তা সুনিশ্চিত করা হবে। ইস্তাহারে এই প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে বিজেপি সংখ্যালঘুদের পাশে থাকার বার্তাই দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আর এটা আগামীদিনে প্রচারেও তুলে ধরতে চাইছে তারা।
[কংগ্রেস-বিজেপির মামলা খারিজ হাই কোর্টে, আজই ভোটের দিন ঘোষণার সম্ভাবনা]
মঙ্গলবার তড়িঘড়ি ইস্তাহার প্রকাশ প্রসঙ্গে দলে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “তৃণমূল আমাদের জন্য ফুল ছড়িয়ে যে রাস্তা খুলে রেখে দেবে না তা জানতাম। তাই আমরা ভোটের সব প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে লড়াই করছি। শক্তি অনুযায়ী লড়ব।” মোট ৩৮ হাজারের মতো মনোনয়ন বিজেপি জমা দিতে পেরেছে। বাধা না হলে আরও ২০ হাজার মনোনয়ন দেওয়া যেত বলে দাবি দিলীপ ঘোষের। তঁার বক্তব্য, আমরা ভোটে লড়ব। কিন্তু সংবিধান প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধাগুলি যেন পাই সেজন্য বারবার কোর্টের কাছে যাব। অর্থাৎ অবাধ নির্বাচন ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ইসু্যতে আদালতে যাওয়ার রাস্তা যে বিজেপি খোলা রাখতে চাইছে তা স্পষ্ট।
[দিলদার তুমি কার? তৃণমূল-বিজেপি চাপানউতোর অব্যাহত সিউড়িতে]
আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে অবশ্য এদিনও শাসকদলের বিরুদ্ধে পথে নামেন বিজেপি নেতারা। গণতন্ত্র লুণ্ঠিত, এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার শ্যামবাজার থেকে স্বামী বিবেকানন্দের বাড়ি পর্যন্ত একটি মিছিলে হাঁটেন দিলীপ ঘোষ, রাহুল সিনহা, মুকুল রায়, শমীক ভট্টাচার্য, জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। মিছিলে গণতন্ত্রের প্রতীকী শবদেহ তৈরি করা হয়েছিল। অবাধ ভোটের দাবিতে সকালে আর একটি মিছিল করে বিজেপির সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন কর্মচারী পরিষদ।
এদিন প্রকাশিত ২৪ পাতার ইস্তাহারে ঢালাও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিজেপি নেতারা। কৃষকদের পণ্যের সহায়ক মূল্য উৎপাদন খরচের ১৫০ শতাংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সরকারি কোষাগার থেকে বিমান প্রিমিয়াম দিয়ে ফসল বিমার ব্যবস্থা, প্রতি গ্রামীণ পরিবারকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিমার অধীনে আনা, দশম শ্রেণি পর্যন্ত মিড ডে মিল, ব্লকে ব্লকে কলেজ, সব পাকা রাস্তা, প্রতি বাড়িতে বিদ্যুৎ দেওয়ার ঘোষণার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জোর-সহ ইস্তাহারে একাধিক প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
সর্বশেষ খবর
-
মাঝমাঠে ‘মাস্টারস্ট্রোক’, এএফসি চ্যালেঞ্জের আগে স্প্যানিশ তারকাকে সই করাল ইস্টবেঙ্গল
-
অগ্নিমিত্রার অনস্পট অ্যাকশন! আসানসোলে ফুটপাত দখল-অবৈধ পার্কিং রুখতে ধমক মন্ত্রীর, বাসে লাগালেন কাঁটা
-
লোহার সিন্দুকে সোনার গয়না রাখা ঘোর অশুভ! কারণ জানলে চমকে উঠবেন
-
আর্জেন্টিনা ম্যাচের রেফারিকে ক্লিনচিট! ঘুরিয়ে অভিযোগকারী মিশরকে তোপ ফিফার, শাস্তি পাবেন কোচ?
-
সল্টলেকের বিজেপি দপ্তরে সুখেন্দুশেখর-প্রকাশ চিক বরাইক-সুস্মিতা, ফের রাজ্যসভায়?