Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
North Bengal

বারবার ধস-হড়পা বান! পাহাড়ে বিপদ কতটা গভীরে? পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ কমিটি রাজ্যের

৩১ আগস্ট দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা মুখ্যমন্ত্রীকে পাহাড়ে অপরিকল্পিত শহর সম্প্রসারণ এবং বেড়ে চলা হড়পা বানের বিপর্যয় মোকাবিলা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন।

বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ১৮:০৪

link
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ১৮:০৪

options
link
বারবার ধস-হড়পা বান! পাহাড়ে বিপদ কতটা গভীরে? পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ কমিটি রাজ্যের zoom
ফাইল ছবি।
Advertisement

দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং, মিরিক শহরের পরিকল্পিত সম্প্রসারণ এবং পাহাড়ি নদীতে হড়পা বানের ঝুঁকি পর্যালোচনার জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার। বিশিষ্ট পর্বত বিশেষজ্ঞ তথা পদ্মশ্রী একলব্য শর্মার সভাপতিত্বে ওই কমিটি দার্জিলিং পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্স দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা, তোর্সা-সহ বিভিন্ন পাহাড়ি নদীতে বারবার হড়পা বানের সমস্যা খতিয়ে দেখে প্রতিকারের উপায় বের করবে। কমিটিতে জেলা প্রশাসনের কর্তারা ছাড়াও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর, জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া, নগরোন্নয়ন ও পুর ও নগর উন্নয়ন দপ্তর এবং পরিবেশ, বন ও সেচ ও জলপথ দপ্তরের প্রতিনিধিরা থাকবেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, আইআইটি খড়গপুর, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইআইইএসটি শিবপুরের মতো প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্ট গবেষক ও অধ্যাপকদেরও পরামর্শ, মতামতের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে।

রাজু বিস্তা বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন ও ভূতাত্ত্বিক কারণে বিপর্যয়ের জেরে এই অঞ্চলের বেড়ে চলা ঝুঁকি মোকাবিলায় এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে, এটি নিশ্চিত করবে যে ভবিষ্যতের নগরোন্নয়ন যেন বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।”

প্রসঙ্গত, ৩১ আগস্ট দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা মুখ্যমন্ত্রীকে পাহাড়ে অপরিকল্পিত শহর সম্প্রসারণ এবং বেড়ে চলা হড়পা বানের বিপর্যয় মোকাবিলা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন। ওই চিঠির প্রেক্ষিতেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। চিঠিতে হিমবাহ হ্রদের বাঁধ ভেঙে সৃষ্টি হড়পা বান, অতিবৃষ্টি, মেঘভাঙা বৃষ্টি ও ভূমিধসের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির পাশাপাশি দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং ও মিরিকের পুরনো এবং অতিরিক্ত চাপের মুখে থাকা নিকাশি ব্যবস্থার সমস্যাগুলো তুলে ধরেন সাংসদ। জানা গিয়েছে, কমিটিকে সতর্কতামূলক ও বিপর্যয় প্রশমন ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা এবং বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি সংক্রান্ত নিয়মাবলী আরও শক্তিশালী করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং ও মিরিক শহর সম্প্রসারণের জন্য পরিকল্পনা তৈরির দায়িত্ব তাঁদের উপর ন্যস্ত করা হয়েছে। এছাড়াও ভবিষ্যতে উন্নয়নের জন্য উপযুক্ত ও ভূতাত্ত্বিকভাবে স্থিতিশীল এলাকা চিহ্নিত করার বিষয়টি কমিটি খতিয়ে দেখবে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন ও ভূতাত্ত্বিক কারণে বিপর্যয়ের জেরে এই অঞ্চলের বেড়ে চলা ঝুঁকি মোকাবিলায় এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে, এটি নিশ্চিত করবে যে ভবিষ্যতের নগরোন্নয়ন যেন বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।” সাংসদ তাঁর অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা সবাই মিলে আমাদের অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করব।”

একলব্য শর্মার নেতৃত্বেই কাজ করবে এই কমিটি।

বলে রাখা প্রয়োজন, কার্শিয়াংয়ের প্রখ্যাত পরিবেশবিদ ও গবেষক ডঃ একলব্য শর্মা হিমালয়ের বাস্তুতন্ত্র এবং টেকসই পর্বত উন্নয়নে ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন। বিজ্ঞান ও প্রকৌশল ক্ষেত্রে তাঁর এই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সরকার তাঁকে ২০২৪ সালে মর্যাদাপূর্ণ পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। পূর্ব হিমালয় ও হিন্দুকুশ অঞ্চলে জীববৈচিত্র্য রক্ষা, নাইট্রোজেন স্থিরকরণ এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত। পাহাড়ের সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্র রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক তথ্য ও নীতি নির্ধারণে তিনি দীর্ঘ চার দশক ধরে কাজ করে চলেছেন।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.