নন্দন দত্ত, সিউড়ি: স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের ভূমিকায় সিভিক ভলানটিয়ার! ডাক্তারের মতো তাঁর গলায় স্টেথো। রক্তচাপ মাপার যন্ত্র দিয়ে দিব্যি রোগীর রক্তচাপ দেখছেন। চমকে দেওয়া এ ঘটনা বীরভূমের লোকপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের।
[রাজ্যে শক্তি বাড়ল তৃণমূলের, আরও এক বাম বিধায়ক শাসক দলে]
ট্রাফিক নিয়ম মানার জন্য সিভিক ভলানটিয়ারদের একাংশের গা জোয়ারির অভিযোগ নতুন নয়। সিভিক পরিচয় দিয়ে দাদাগিরির নমুনাও টের পেয়েছে রাজ্যবাসী। এবার সিভিক ভলানটিয়ারকে দেখা গেল চিকিৎসকের ভূমিকায়। প্রতীকী নয়, এই ছবি খয়রাশোলের ওই স্বাস্থ্যেকন্দ্রে দেখা যায় প্রতিদিন। কারণ দীর্ঘদিন ধরে একজন চিকিৎসক ও একজন ফার্মাসিস্ট দিয়েই চলেছে খয়রাশোলের লোকপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। ১৯৯৮ সালে তৈরি হওয়ার পর থেকে যত দিন গিয়েছে তত যেন খারাপ হয়ে পড়েছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিষেবা। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির দরজা-জানলা নেই। বিদ্যুৎ পরিষেবাও অনিয়মিত। এমনকী পর্যাপ্ত পরিমাণ বেডেরও রয়েছে অভাব। গত বছর বর্ষার সময় একটি শাল গাছ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির উপর ভেঙে পড়ে। সেটি এখনও পর্যন্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির উপরেই পরে রয়েছে বিপজ্জনক ভাবে। সেদিকেও নজর দেওয়ার সময় নেই স্বাস্থ্য কর্তাদের।
[অবরোধকারীদের উপর দিয়ে ট্রেন চালানোর অভিযোগ, তুমুল উত্তেজনা যাদবপুরে]
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য আশেপাশে আর কোনও স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। লোকপুরের এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতিদিন গড়ে ১৫০-২০০ জন রোগী আসেন। তার ফলে হিমশিম খেতে হচ্ছিল ডাক্তার ও ফার্মাসিস্টকে। একদিকে রোগীর চাপ, অন্যদিকে বেহাল স্বাস্থ্য পরিষেবা সামাল দিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র পাহারায় থাকা মহিলা সিভিক পুলিশকে দিয়েই শুরু হয় স্বাস্থ্য পরিষেবা। প্রথমে রোগীর নাম লেখা দিয়ে শুরু। আস্তে আস্তে শিখিয়ে দেওয়া হয় ব্লাড প্রেসার মেশিন দিয়ে রক্তচাপ মাপার কাজ। ধীরে ধীরে পাহারা দিতে আসা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দুই সিভিক ভলানটিয়ারের গলায় স্টেথো উঠে যায়।
[ভাড়াবাড়িতে শিল্পাকে নিয়ে ফুর্তির আসরে ম্যানেজার, মিলল নাইটি-নিরোধ]
লোকপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রসূন কুমার দাস জানান, ‘এখানে এত রোগীর চাপ যে তাতে ঠিক ভাবে পরিষেবা দিতে আমরা নাজেহাল হয়ে যাচ্ছি। তাই সিভিকের দায়িত্বে থাকা দুই কর্মীকে শিখিয়ে-পড়িয়ে কিছুটা কাজে লাগানো হচ্ছিল।’ মহিলা সিভিক ভলানটিয়ারকে দিয়ে এমন কাণ্ড কারখানায় রোগীদের একাংশ ক্ষুব্ধ। তাদের বক্তব্য যে কাজ একজন পেশাদার চিকিৎসকের, তা কীভাবে সামলাচ্ছেন একজন সিভিক। খারাপ কিছু হলে এর দায় কে নেবে বলে তারা প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এই ঘটনায় মুখে কুলুপ এঁটেছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর।
ছবি: বাসুদেব ঘোষ
[লোডশেডিংয়ে বিপত্তি, মোবাইলের টর্চের আলোয় সার্জারি এই হাসপাতালে]
সর্বশেষ খবর
-
রাজ্যসভার ভোটপরীক্ষায় অঙ্কে ‘ফেল’ বিরোধীরা, ৮০ বিধায়ক নিয়েও কেন প্রার্থী দিতে পারবে না তৃণমূল?
-
ভারতে নাশকতার ছক, দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ৬ পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি! উদ্ধার অস্ত্রশস্ত্র-পেট্রল বোমা
-
মার্কিন তারকার লাল কার্ড প্রত্যাহারে ফিফাকে ফোনের কথা স্বীকার ট্রাম্পের, ঠিক কী বলেছিলেন?
-
মানুষের চাকরি খাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা! এক লপ্তে ৪৮০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত মাইক্রোসফ্টের
-
বাবুই ঘাসের হস্তশিল্পে নতুন দিশা, শিল্পীদের দক্ষতা বাড়াতে ঝাড়গ্রামে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি দল