সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: বিজেপির বাইক ব়্যালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল শহরে। রবিবার সকালে উত্তর কলকাতার জোড়াবাগান ও সল্টলেকে বাইক মিছিল আটকায় পুলিশ। আটক করা হয় বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মীকে। দুর্গাপুরে বাইক ব়্যালির উদ্বোধন করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর হুঁশিয়ারি, “রাজ্যজুড়ে লক্ষাধিক বিজেপি কর্মী-সমর্থক বাইক নিয়ে বেরোবেন। আমরা দেখতে চাই, কতজনকে পুলিশ আটক করতে পারে। যেসব পুলিশ কর্মী মিছিল আটকাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কমিশনে অভিযোগ জানাব।”
[ বিজেপির ‘বৈশাখী’ তাস! শোভন ঘনিষ্ঠকে প্রার্থী করতে চেয়ে ফোন মুকুল রায়ের]
আইনি জটিলতায় এ রাজ্যে বিজেপির রথযাত্রা কর্মসূচি বানচাল হয়ে গিয়েছে। আর এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার মাঝে বিজয় সংকল্প বাইক ব়্যালি বের করার পরিকল্পনা করে গেরুয়াশিবির। রবিবার সকালে সেই কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল কলকাতা ও সল্টলেকে। সাড়ে ন’টা নাগাদ উত্তর কলকাতার জোড়াবাগানে বাইক নিয়ে জড়ো হয়েছিল বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। কিন্তু, মিছিল করতে দেয়নি পুলিশ। আটক করা হয় বেশ কয়েকজনকে। মিছিল আটকানো নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। সল্টলেকে ইই ব্লকেও বিজেপির মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। পুলিশের দাবি, শহরে বাইক মিছিল করার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। সবচেয়ে বড় কথা, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন শহরের কোনও মিছিল করাও যাবে না। যদিও বিজেপি পালটা দাবি, পুলিশ-প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে বাইক ব়্যালির কর্মসূচি পালন করছেন দলের কর্মী-সমর্থকরা।
শুধু কলকাতাই নয়, বিজেপি বাইক মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে শিল্পশহর দুর্গাপুরেও। রবিবার সকালে শহরের চিত্রালয় মেলার মাঠ থেকে মিছিলের সূচনা করার কথা ছিল খোদ বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের। তিনি আসার আগেই যথারীতি মাঠে জড়ো হয়েছিলেন দলের কর্মী-সমর্থকরা। কিন্তু রীতিমতো কমব্যাট ফোর্স নিয়ে গিয়ে মিছিল আটকে দেয় দুর্গাপুর থানার পুলিশ। এই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়ে যায়। বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে যখন পুলিশের বচসা চলছে, তখনই দুর্গাপুরের চিত্রালয় মেলার মাঠে হাজির হন দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। আর তাতে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। শেষপর্যন্ত অবশ্য পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে দলের পতাকা নেড়ে বাইক মিছিলের সূচনা করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি।
দেখুন ভিডিও:
ছবি ও ভিডিও : উদয়ন গুহরায়