পলাশ পাত্র, তেহট্ট: পুলিশ ও তৃণমূলের মদতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন রাজ্যের গোয়েন্দা প্রধান রাজীব কুমার। মঙ্গলবার নদিয়ার নাকাশিপাড়ার বনগ্রামে গিয়ে এই অভিযোগ করলেন রাজ্য বিজেপি সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। নদিয়া উত্তরের বিজেপি সভাপতি মহাদেব সরকারের বাবার শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে গিয়েছিলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায় ও জয়প্রকাশ মজুমদার। সেখানে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সাম্প্রতিক কিছু বিষয় নিয়ে রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন ওই দুই নেতা।
[আরও পড়ুন: সংঘাতের আবহেই কেন্দ্রকে টেক্কা, ফিতে কেটে বর্ধমান রেলসেতু উদ্বোধন পঞ্চায়েতমন্ত্রীর]
রাজীব কুমারের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে জয়প্রকাশবাবু বলেন, ‘রাজ্যের গোয়েন্দা প্রধান হয়েও চোরের মতো পালিয়ে বেড়াচ্ছেন রাজীব কুমার। উনি কোথায় আছেন তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানেন না বলে আমি বিশ্বাসই করি না। কারণ, এটা হতেই পারে না। তাঁদের মদত ছাড়া কোনওভাবেই লুকিয়ে থাকতে পারেন না রাজীব কুমার। আমি বিশ্বাস করি যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধীনে থাকা পুলিশ, সরকার ও তৃণমূলের মদতেই বিচার ব্যবস্থাকে এড়িয়ে লুকিয়ে আছেন তিনি। এর থেকে দুঃখের ঘটনা আর কী হতে পারে। এটা মাননীয়া ও রাজ্য সরকারের কাছে খুবই লজ্জাকর।’
রাজীব কুমারের পাশাপাশি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাবুল সুপ্রিয়র হেনস্তা নিয়েও তোপ দাগেন রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্য সরকার যাদবপুরকে দেশবিরোধীদের মুক্তাঞ্চলে পরিণত করছে বলেও অভিযোগ করেন। কটাক্ষ করে বলেন, ‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যে কথা বলেন তারই প্রতিধ্বনি শোনা যায় মাননীয়ার মুখে। আসলে তৃণমূল সমস্ত দেশবিরোধী শক্তিকে ইন্ধন দিয়ে যাদবপুরে পুষছে। আমরা মনে করি ওখানকার অনেক পড়ুয়াই কী করছে তা নিজেরাই বুঝছে না। কচি মনের ওই ছেলেমেয়েদের বিপথে চালনা করা হচ্ছে। কিন্তু, ওদের বুঝিয়ে মূলস্রোতে ফেরত আনাটাই আমাদের লক্ষ্য।’
[আরও পড়ুন: ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির জের, মানসিক ভারসাম্যহীন সন্তানকে বেঁধে রাখল মা]
জয়প্রকাশবাবুর সুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সরকারের তুমুল সমালোচনা করেন মুকুল রায়ও। তিনি বলেন, ‘এই রাজ্যে গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। আসলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই গণতন্ত্র মানেন না। দেশের মানুষ রায় দিলেও তা মানতে চাইছেন না উনি। এনআরসি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিলেও তা অস্বীকার করছেন। রাজীব কুমারের ক্ষেত্রেও আদালতের কথা শুনছে না সরকার। আর তার বদলে মমতা পাগলের প্রলাপ বকছেন।’
সর্বশেষ খবর
-
ভাঙড় বিস্ফোরণের ‘মূলচক্রী’, শওকতকে ১৪ দিনের এনআইএ হেফাজতে পাঠাল আদালত
-
সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসে ‘জিরো টলারেন্স’, সিএএ বিক্ষোভে ভাঙচুরে তদন্তের নির্দেশ শুভেন্দুর
-
গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন? অস্ত্র মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ খান স্যরের
-
বরানগর-বারাকপুর মেট্রো প্রকল্পের অগ্রগতি, হকারের পুনর্বাসনের আর্জি জানিয়ে রেলমন্ত্রীকে চিঠি বিধায়ক কৌস্তভের
-
কেন ভাঙা হবে না পুরবোর্ড? ৭২ ঘণ্টায় জবাব চাইল রাজ্য, এবার কলকাতা পুরসভায় প্রশাসক!