অরিজিৎ গুপ্ত, হাওড়া: যুবকের রহস্যমৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়াল হাওড়ার লিলুয়ায়। দেহের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মৃতের ৩ প্রতিবেশীকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ধৃতদের নির্যাতনের কারণেই আত্মঘাতী হয়েছেন ওই যুবক। স্থানীয়দের থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
হাওড়ার লিলুয়া নস্করপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন মৃত রবিন বর। জানা গিয়েছে, বাড়ির সামনে ড্রেনের উপর দিয়ে রাস্তা তৈরি করাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী চক্রবর্তী পরিবারের সঙ্গে অশান্তি বাঁধে তাঁর। অভিযোগ, এরপরই যুবককে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করে স্থানীয় সন্তু চক্রবর্তী ও শীলা চক্রবর্তী। রবিনের নামে শ্লীলতাহানি-সহ একাধিক মিথ্যে অভিযোগও করা হয়। এলাকার মহিলারা মারতে মারতে পুলিশের হাতে তুলে দেয় তাঁকে। কোনওক্রমে পুলিশ হেফাজত থেকে তাঁকে মুক্ত করে পরিবারের সদস্যরা।
[আরও পড়ুন: তৃণমূলের পথে হেঁটে এবার ‘বিজেপিকে বলো’ কর্মসূচি আনছে গেরুয়া শিবির]
জানা গিয়েছে, বাড়ি ফেরার পর আবারও অশান্তিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন রবিন। বাধ্য হয়ে ঘরও ছেড়েছিলেন। এরপর আর ফেরেননি। কয়েকদিন পরেই এলাকার একটি নির্মীয়মাণ বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় রবিনের দেহ। পাশ থেকে মেলে একটি সুইসাইড নোট। সেই সুইসাউড নোটেই তিন প্রতিবেশীর নাম লিখেছিলেন রবিন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩ অভিযুক্তকে। প্রতিবেশীদের কথায়, নির্মমভাবে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়েছিল রবিনকে। সেই অপমানেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন রবিন। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। অভিযুক্তরা শাস্তি পাবেই। তদন্তের স্বার্থে প্রতিবেশীদের একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।