সৌরভ মাজি, বর্ধমান: পুজোর সময় বেড়াতে যাওয়ার প্রবণতা থাকে চিকিৎসকদের। ফলে প্রতিবছরই বর্ধমান শহরের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসক সংকট দেখা দেয়। স্বাস্থ্য পরিষেবা এবছর যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয় তার জন্য আগাম সতর্কতা নিয়েছে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এবার ঠিক হয়েছে, কোনও বিভাগের কোনও চিকিৎসক পুজোয় ছুটি নিলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অন্য চিকিৎসকরা বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে সেই ঘাটতি পুষিয়ে দেবেন। ফলে হাসপাতালে রোগীদের কোনওভাবেই সমস্যা হবে না বলে আশ্বাস কর্তৃপক্ষের। একইভাবে নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও বাড়তি পরিষেবা দেবেন। শুধু তাই নয়, পুজোর চারটে দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের ভূরিভোজের ব্যবস্থা করছে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফ্রায়েড রাইস, মাংস, পায়েস ও মিষ্টি খাওয়ানোর চিন্তভাবনা চলছে।
[ডাম্পারের ধাক্কায় ছাত্রী মৃত্যু, প্রতিবাদে রণক্ষেত্র পানাগড়]
প্রতিবছরই দুর্গাপুজোর সময় অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলিতে চিকিৎসক নেই বলে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে ভরসা বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। কিন্তু, সেখানেও পর্যাপ্ত চিকিৎসক থাকে না অভিযোগ ওঠে। এমনকী, যাঁরা হাসপাতালে ভরতি আছেন, তাঁদেরও ঠিকমতো পরিষেবা পান না বলে দাবি করেছেন রোগীর পরিজনেরা। তবে এবার পুজোয় আর কোনও সমস্যা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের ডেপুটি সুপার অমিতাভ সাহা জানান, সারা বছর কাজের মধ্যে থাকেন চিকিৎসকরা। তাই পুজোর সময়ে ছুটি নেওয়ার প্রবণতা থাকে। কিন্তু তার জন্য যাতে হাসপাতালের পরিষেবায় কোনও প্রভাব না পড়ে তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রতিটি বিভাগকে পুজোর ছুটির সময়ে ডিউটি রোস্টার তৈরি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একটি বিভাগের সকলেই ছুটি পাবেন না।”
বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল সূত্রে খবর, কোনও বিভাগের ১০ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৩ জন ছুটি নিলে বাকি ৭ জন অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করবেন। একইভাবে নার্সরাও ছুটিতে থাকা সহকর্মীদের ঘাটতি পূরণ করবেন অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে। স্বাস্থ্যকর্মীরাও একইভাবে ঘাটতি মেটাবেন। ফলে সামগ্রিকভাবে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিষেবা কোনওভাবে বিঘ্নিত হবে না। মেডিক্যাল স্টোরও পুজোর চারদিনই খোলা রাখা হবে। বহির্বিভাগের ফার্মেসি শুধুমাত্র অষ্টমীর দিন বন্ধ রাখা হবে সরকারি নির্দেশে। হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট কাম ভাইস প্রিন্সিপ্যাল (এমএসভিপি) উৎপল দাঁ জানান, পরিষেবা স্বাভাবিক রাখাই নয়, হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের স্পেশাল খাবার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পুজোর চারটে দিন স্পেশাল মেনু রাখা হচ্ছে। ডেপুটি সুপার অমিতাভবাবু জানান, ফ্রায়েড রাইস, পায়েস, মিষ্টির মত পদ রাখা হয়। মাংসও রাখা হয়। পরিমাণে একটু বেশিও যাতে দেওয়া যায় তারও চেষ্টা করা হবে।
[ ডাউন শ্রীরামপুর লোকালে ধোঁয়া, আতঙ্কে ঝাঁপ যাত্রীদের]
সর্বশেষ খবর
-
জাহাঙ্গিরকে চতুর্থ স্থানে পাঠিয়ে জিতেছিলেন ফলতা পুনর্নির্বাচন, শুক্রবার বিধায়ক পদে শপথ দেবাংশুর
-
তৃণমূলের হাতছাড়া হাওড়া জেলা পরিষদও! সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা ২৮ ‘বিদ্রোহী’র
-
একাকিত্বের জ্বালা! পরকীয়া, যৌন আকাঙ্ক্ষার হাতছানিতে রমরমিয়ে চলছে এই ‘সিক্রেট’ ডেটিং অ্যাপগুলি
-
৬৩% ভারতীয়র প্রেমের ‘কোচ’ এআই! ডেটিংয়ে আদৌ আসল মানুষটির সঙ্গেই পরিচয় হচ্ছে তো?
-
শুভেন্দুর হাতে তৈরি ঝালমুড়ি খেলেন মোদি, কী বললেন নমো?