চূড়ান্ত অসচেতনতার ছবি উত্তরবঙ্গের অভয়ারণ্যে! বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের (Buxa Tiger Reserve) অধীনস্থ জঙ্গল থেকে উদ্ধার গুচ্ছখানেক কাচের মদের বোতল, প্লাস্টিকের বোতল-সহ প্রচুর আবর্জনা। এছাড়া খাবারের র্যাপার অর্থাৎ অ্যালুমিনিয়ামের ফয়েল। যার প্রতিটিই পরিবেশ দূষণকারী এবং বন্যপ্রাণীদের জন্য অতি ক্ষতিকারক। সেখানে অভিযান চালিয়ে নিজে হাতে সাফাইকাজ করলেন আলিপুরদুয়ার পুরসভার খোদ চেয়ারম্যান। মুখে মাস্ক বেঁধে, বেলচা হাতে নিজেই পরিষ্কার করলেন সব। কিন্তু কীভাবে বনদপ্তরের নজর এড়িয়ে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে বিদেশি মদের বোতল ঢুকল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ছিল শিবরাত্রি। বক্সা টাইগার রিজার্ভের (Buxa Tiger Reserve) ভিতরে জয়ন্তী পাহাড়চূড়ার দুটি মহাকাল মন্দিরে ওইদিন ও তার পরেও লক্ষ লক্ষ ভক্তরা ভিড় জমিয়েছিলেন। সেসময় বনাঞ্চলের ভিতরের রাস্তা দিয়ে মহাকাল মন্দিরে যাওয়ায় কোনও নিষেধাজ্ঞা ছিল না, তা অবাধ করে দিয়েছিল বক্সা কর্তৃপক্ষ। তবে শুধু পূণ্যার্থী নয়, বনাঞ্চলে বনদপ্তরের নজর এড়িয়ে দেশি-বিদেশি মদের বোতল, খাবারদাবারও ঢুকেছিল। আবর্জনার পাহাড় জমে বনাঞ্চলের কোর এলাকায়। শিবরাত্রির পর থেকেই আবর্জনা পরিষ্কার শুরু করে বনদপ্তর। স্থানীয় জয়ন্তীবাসী থেকে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও হাত লাগায়। কিন্তু তারপরেও আবর্জনার পাহাড় পুরোপুরি সাফ করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন:

তা জানতে পেরে আসরে নামেন আলিপুরদুয়ার পুরসভার চেয়ারম্যান বাবলু কর। মঙ্গলবার তাঁর নেতৃত্বে পুরকর্মীদের একটি দল জয়ন্তীতে সাফাই অভিযান চালায়। এই সাফাই অভিযানে পুর চেয়ারম্যান বাবলু কর নিজে হাত লাগান। এদিন দলে পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও জেলা যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সমীর ঘোষ দলবল নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। পুরসভার চেয়ারম্যান বাবলু কর জানিয়েছেন, “আমরা ৫০ জন ১০টি গাড়ি নিয়ে জয়ন্তী সাফাই অভিযানে এসেছি। কয়েক টন আবর্জনা সাফ করা হয়েছে। এগুলো আমরা আমাদের গাড়িতে করে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের জায়গায় নিয়ে গিয়ে প্রক্রিয়াকরণ করব। সবুজ বনাঞ্চল আমাদের উত্তরের গর্ব। সেই গর্ব বাঁচাতে আমরা এই অভিযানে নেমেছি। লক্ষ লক্ষ পূণ্যার্থী জাগ্রত মহাকাল মন্দিরে এসেছিলেন। সেই কারণে এই আবর্জনা জমেছে। আমরা পরিষ্কার করে দিলাম।”

জয়ন্তী রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার পুকার রাই বলেন, “পূণ্যার্থীদের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, তারা কেউ ভবিষ্যতে এভাবে জঙ্গলের ভিতরে কাচের বোতল ফেলবেন না। বন্যপ্রাণীদের ক্ষতি হতে পারে। আর তাছাড়া বিভিন্ন খাবারের প্লাস্টিকের র্যাপারে লবণ ও মিষ্টি থাকে। যা বুনো জন্তুদের আকর্ষণ করে। এগুলোতেও তাদের ক্ষতি হয়। আমরা পুরসভাকে ধন্যবাদ না জানিয়ে পারছি না। তার কারণ পুর চেয়ারম্যান নিজে হাতে আবর্জনা পরিষ্কার করেছেন।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
পুরদলেও ফাটল, আইনি জটের আশঙ্কা, মমতার পছন্দে মেয়র বাছতে ‘সই’ দিলেন না অধিকাংশ কাউন্সিলর!
-
ছবির দেশ, কবিতার দেশে রূপকথা! ফরাসি ওপেনে প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামের স্বাদ জাভেরেভের
-
পাহাড় থেকে সমতল, ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলা! আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বাসিন্দারা
-
‘একে নেব না, ওকে নেব না বললে হবে না’, বঙ্গে বৃহত্তর হিন্দু ঐক্যের বার্তা বনশলের
-
শ্বাস যন্ত্রে কিছুতেই ফুঁ দিতে পারছেন না মদ্যপ! চড় কষালেন পুলিশকর্মী, ভিডিও ঘিরে বিতর্ক