৬ আশ্বিন  ১৪২৬  মঙ্গলবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

বাবুল হক, মালদহ: আশঙ্কাটাই সত্যি হল। ভোটারের মুখ থেকে বেরিয়ে পড়ল লাখ টাকার সেই প্রশ্নটাই। মালদহ দক্ষিণের বিদায়ী সাংসদ তথা কংগ্রেস প্রার্থীর বিরুদ্ধে যে প্রশ্নটি বারবার তুলেছে তৃণমূল, সেটিই প্রকাশ্যে বলে ফেললেন গ্রামবাসীরা। ইংলিশবাজারের অমৃতি এলাকায় টোটোয় চেপে ভোট প্রচার করছিলেন মালদহ দক্ষিণ কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী আবু হাসেম খান চৌধুরি (ডালু)। সেই সময় হঠাৎ ডালুবাবুর সামনে গিয়ে তারস্বরে প্রশ্ন ছুঁড়লেন একজন ভোটার। ডালুকে সরাসরি তাঁর প্রশ্ন, “গনি খানের নাম ভাঙিয়ে আর কতদিন চলবেন? পাঁচ বছরে এলাকায় দেখা যায় না আপনাকে। এলাকার কোনও কাজ করেননি। আবার ভোট চাইতে এসেছেন কেন?”

এমন ক্ষোভের মুখে পড়ে ডালুবাবুও মেজাজ হারিয়ে আঙুল তুলে চিৎকার চেঁচামেচি জুড়ে দেন। আর এই ঘটনার ভিডিও ছবি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ-সহ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। প্রতিবাদী সেই ভোটারদের পালটা হুমকি দিয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী ও তাঁর দেহরক্ষী-সহ কিছু দলীয় কর্মী। এই মর্মে অভিযোগ তুলে সোমবার জেলা নির্বাচন আধিকারিক তথা জেলাশাসককে নালিশ জানিয়েছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। এনিয়েই চাপানউতোর শুরু হয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলে। রবিবার বিকেল নাগাদ অমৃতি গ্রাম পঞ্চায়েতের নাদাবপাড়া এলাকায় ভোট প্রচারে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন দক্ষিণ মালদহের কংগ্রেস প্রার্থী আবু হাসেম খান চৌধুরি (ডালু)। এমনকী এই ঘটনার পর নির্বাচনী প্রচার করতে ওই এলাকায় ঢুকতে পারেননি কংগ্রেস প্রার্থী। একজন ভোটার সরাসরি ডালুকে প্রশ্ন করেন, “গনি খানের নাম ভাঙিয়ে আর কতদিন চলবেন?” আর তারপরই কংগ্রেস প্রার্থী তথা বিদায়ী সাংসদ ডালুবাবুর নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে তুমুল বচসা শুরু হয় বিক্ষোভকারী গ্রামবাসীদের। এমনকী বচসা থেকে ধস্তাধস্তির পর্যায়ে চলে যায় বলেও অভিযোগ।

[আরও পড়ুন: ‘৫৪৩ আসনেই বিজেপি ঝড়’, মনোনয়ন পেশের পর তৃণমূলকে বিঁধে মন্তব্য কল্যাণ চৌবের]

গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ সামলাতে না পেরে কংগ্রেস প্রার্থী ডালুবাবুকে নিয়ে ওই এলাকা থেকে সরে পড়েন নিরাপত্তারক্ষী ও দলের নেতা-কর্মীরা। এই ঘটনার ভিডিও ছবি নিমেষেই ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ফলে অস্বস্তিতে পড়েছে মালদহের কংগ্রেস শিবির। ডালুবাবুর নিরাপত্তাকর্মীরা নাদাবপাড়া এলাকায় গিয়ে গ্রামবাসীদের হেনস্থা করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন দক্ষিণ মালদহ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেনের নির্বাচনী এজেন্ট তথা জেলা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা গৌতম চক্রবর্তী। এব্যাপারে তিনি জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচন আধিকারিক কৌশিক ভট্টাচার্যের কাছে একটি অভিযোগ জানিয়েছেন। গৌতমবাবু বলেন, “ভোটাররা তাদের এলাকার উন্নয়ন না হওয়ার ব্যাপারে কংগ্রেস প্রার্থীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ডালুবাবুর নিরাপত্তারক্ষীরা গ্রামবাসীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। বাসিন্দাদের হেনস্তা করেছেন। তাই এব্যাপারে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে।” ওই এলাকার বাসিন্দা নাজিমুল শেখ, আকতার মোমিন, দিলদার হোসেনরা জানিয়েছেন, তাঁরা কংগ্রেস প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদেরকেই ডালুবাবুর নিরাপত্তারক্ষী ও কর্মীরা হেনস্তা করেছেন।

বিক্ষোভকারী গ্রামবাসীরা বলেন, “ডালুবাবুকে আমরা বলেছি, গনি খানের নাম ভাঙিয়ে আর কতদিন চলবেন আপনি। আপনাকে তো পাঁচ বছর অন্তর একবার করে ভোট চাইতে আসতে দেখা যায়। দক্ষিণ মালদহের সাংসদ হয়ে আপনি কোনও উন্নয়ন করতে পারেননি। রাস্তা থেকে পানীয় জল, বিদ্যুৎ, শিক্ষাস্বাস্থ্য কোনও কাজ আপনার সাংসদ কোটার টাকায় হয়নি। তাহলে ভোট চাইতে আসছেন কিসের জন্য। এলাকায় যা উন্নয়ন হয়েছে তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের জন্য হয়েছে।” এই ঘটনার প্রসঙ্গে দক্ষিণ মালদহের কংগ্রেস প্রার্থী আবু হাসেম খান চৌধুরি (ডালু) বলেন, “আমি ওই এলাকায় অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। কিন্তু এদিন যারা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন, তারা সকলেই তৃণমূল কর্মী। পরিকল্পনা করেই এই কাজ করেছে তৃণমূল। এলাকায় আমাকে প্রচার করতে না দেওয়ার জন্য বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে স্থানীয় কিছু তৃণমূলি। আমি নির্বাচন কমিশনে নালিশ করব। এভাবে কংগ্রেসের জয় আটকানো যাবে না।”

[আরও পড়ুন: ধর্মনিরপেক্ষতাই ইউএসপি নুসরতের, ভিডিও বার্তায় তারকা প্রার্থীর প্রশংসায় মমতা]

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং