BREAKING NEWS

১ আশ্বিন  ১৪২৭  শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

সিরাপের হাত ধরে নেশা, কোড নেমেই সক্রিয় চক্র

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: December 23, 2017 11:10 am|    Updated: September 18, 2019 2:26 pm

An Images

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: ওষুধ নেহাতই সাদামাটা। ব্যবহার হয় সর্দি-কাশির জন্য। যার বৈজ্ঞানিক নাম কোডাইন ফসফেট। কিন্তু সেই ওষুধই এখন নেশাড়ুদের টনিক। কখনও তার নাম ‘ঠান্ডা চা’, কখনও ‘ভিটামিন’। এইসব কোড আর নানা ইশারায় সর্দি-কাশির জন্য নিরীহ সিরাপ চলে যাচ্ছে নেশাড়ুদের হাতে। sangbadpratidin.in-এর অন্তর্তদন্তে উঠে এল এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

[ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের নাম করে ফোন, প্রতারকদের থেকে সাবধান]

যারা এর সঙ্গে যুক্ত তাদের কাছে এটা নাকি ‘কুটির শিল্প’। কথাটা খটকা লাগলেও পুরুলিয়ার অন্যতম প্রাচীন জনপদ ঝালদার প্রায় ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে সিরাপ। বেআইনি কারবারে হাত পাকাচ্ছে সাধারণ মানুষ। এর সুবাদে পানের দোকান এমনকী চায়ের দোকানও মিলছে সিরাপ। কিশোর থেকে যুবক। এমনকী ঘরের বধূরাও জড়িয়ে পড়ছে এই অসৎ পেশায়। এই সাপ্লাই লাইনের জোরে রোজ হাজার হাজার টাকার সিরাপ কোনওরকম প্রেসক্রিপশন ছাড়াই হাতবদল হচ্ছে ঝালদা ও তার আশেপাশের এলাকায়। ইশারা বা কোড পেলেই যথেষ্ট। পৌঁছে যাচ্ছে সিরাপ। এমনকী চায়ের সঙ্গেও মিশিয়েও বিক্রি হয়ে যাচ্ছে কাশির ওষুধ।

CRIME PRL SYRUP 3

[লণ্ঠন অন্ধকার, অসাধু চক্রের ‘হাতযশে’ কেরোসিনে চলছে বাস]

কেন এত এই লোক কারবারে?

বাজার চলতি ষাট মিলিমিটার সিরাপের দাম তিরিশ থেকে চল্লিশ টাকা। নেশাড়ুদের কাছে সেই সিরাপ বিক্রি হচ্ছে সত্তর থেকে একশো টাকায়। অর্থাৎ দু’থেকে তিন গুন লাভ। সারা দিনে একটা বড় প্যাকেট বা ষাটটি ছোট শিশি বিক্রি করতে পারলেই হাতে এসে যাবে কড়কড়ে দু’হাজার টাকার নোট। ওষুধের দোকানের আর কত লাভ! গোয়েন্দাদের তথ্য বলছে, ডাক্তারদের একাংশও এই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। বছর দুয়েক এই বেআইনি কারবারে জড়িয়ে ধরা পড়েন এক চিকিৎসকের স্ত্রী।

CRIME PRL SYRUP 2

কোথায় মিলছে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ?

ঝাড়খণ্ডের রাঁচি এই বেআইনি কারবারের আঁতুরঘর। সেখান থেকে অবাধে এই সব ওষুধ ঢুকছে পুরুলিয়ার ঝালদায়। ট্রেন, বাসের পাশাপাশি মোটরবাইকেও সিরাপ চলে যাচ্ছে গন্তব্যে। পুলিশ বা ভেষজ নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের বোঝার উপায়ই নেই। সবথেকে বেশি পাচার হয় রেলপথে।

[সরকার পাঠাচ্ছে খাদ্যসামগ্রী, কোন চক্র উধাও করছে রেশনের চাল-গম?]

সাত থেকে দশজনের গ্রুপ করে চলে কারবার। তাদের মধ্যে দারুন নেটওয়ার্ক। শহরে সিরাপ ঢুকতেই অন্য গ্রুপের কাছে তা খবর চলে যায়। আসলে এই বিক্রির আলাদা কোড রয়েছে। আঙুলের ইশারা রয়েছে। তদন্তকারীদের জাল কেটে বেরোনোর সবরকম ব্যবস্থাই তাদের রয়েছে। কেউ ধরা পড়লে প্ল্যান বি তৈরি। সাধারণ চায়ের দাম পাঁচ টাকা। সেখানে সিরাপ মেশানো চা হলে দশ টাকা। এভাবে চলছে কারবার। সাধারণ ঘরের মহিলারা কাজটা করায় সন্দেহ হয় অনেক কম।

[পাচারের ছক বদল, অনলাইনে বিক্রি হাতির দাঁত-সাপের বিষ]

কীভাবে নেশা?

এক পেগ বা ষাট মিলিমিটার সিরাপের সঙ্গে ঘুমের ট্যাবলেট। ঝিমুনিতে এসে যায় নেশা।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement