BREAKING NEWS

১৩ অগ্রহায়ণ  ১৪২৮  মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

পরীক্ষা করানোর নামে টাকা হাতানোর অভিযোগ, কাঠগড়ায় সরকারি হাসপাতালের আয়া

Published by: Sucheta Chakrabarty |    Posted: February 19, 2020 6:52 pm|    Updated: February 19, 2020 8:50 pm

'Dalal' racket busted in Burdwan Medical College and Hospital

সৌরভ মাজি, বর্ধমান: বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সক্রিয় দালাল চক্র। পরীক্ষার নাম করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ এক আয়ার বিরুদ্ধে। সাধারণত, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করা হয় বিনামূল্যে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যও টাকাও দিতে হয় না রোগী ও তাঁদের আত্মীয়কে। কিন্তু রোগীর পরিজনেদের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণা চক্র চলছিল বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। পরীক্ষার নাম করে টা হাতিয়ে নিচ্ছিল আয়ারা।অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনার তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাঁরা।

মুর্শিদাবাদের বড়ঞা থানার মন্দ্রা গ্রামের বাসিন্দা বিউটি হাজরা। বেশ কয়েকদিন ধরেই কিডনি-সহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ভুগছিলেন তিনি। তাঁকে মুর্শিদাবাদের কান্দি হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছিল। সেখান থেকে কয়েকদিন আগে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্ধমান হাসপাতালে ভরতি করা হলে রক্ত ও মূত্র পরীক্ষা করানো হয় বিউটির। বিউটির পরিজনেদের অভিযোগ, শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাঁর কাছ থেকে হাজার টাকা নেন এক আয়া। এরপর চিকিৎসক আরেকটি পরীক্ষা করানোরও পরামর্শ দিয়েছিলেন। বুকে জল জমেছে কি না তা জানার ওই পরীক্ষা করাতে বলা হয়েছিল। এক্ষেত্রে বিউটির অভিযোগ, এক “তিলককাটা মাসি” পরীক্ষা করানোর জন্য টাকা নেয়। বিউটির বাবা বাবলু হাজরা এদিন হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট কাম ভাইস প্রিন্সিপ্যাল প্রবীর সেনগুপ্তর কাছে এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।

[আরও পড়ুন: ডায়মন্ড হারবারে মন্দিরে তাণ্ডব দুষ্কৃতীদের, ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয়রা]

বাবলুবাবু জানান, “অভিযুক্ত আয়া তাঁদের জানিয়েছিল হাসপাতালে ওই পরীক্ষা করানো হবে না। বাইরে থেকে করাতে হবে। তার জন্য ২ হাজার টাকা লাগবে। কিন্তু বাবলুবাবুর কাছে মাত্র হাজার টাকা থাকায় তিনি তাই দিয়ে দেন। অভিযোগ, হাজার টাকা নিলেও বুকের পরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে না। এমএসভিপি-র কাছে লিখিত অভিযোগে তিনি আরও জানান, “ওই টাকা দেওয়ার পর তাঁদের হাতে আর কোনও টাকাই নেই। এমনকী খাবার পয়সাটুকুও নেই।” এমএসভিপি যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন সেই দাবি জানান বাবলুবাবু। এমএসভিপি প্রবীর সেনগুপ্ত অবশ্য জানিয়েছেন, “পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশকে জানানো হয়েছে। বেনিয়ম করে থাকলে শাস্তি অবশ্যই পাবে।”

তবে হাসপাতালে ভরতি রোগীদের আত্মীয়দের অনেকেরই অভিযোগ, এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দালালচক্রের জেরে কার্যত নাজেহাল তাঁরা। গ্রামের দুঃস্থ মানুষদের ভুল বুঝিয়ে টাকা নেয় প্রতারকরা। বিশেষ করে শনি ও রবিবার হাসপাতাল চত্বরে এই ধরণের ঘটনা বেশি ঘটে। কারণ, এই দিনগুলিতে হাসপাতালের আধিকারিকদের সাধারণত ছুটি থাকে। সেই দিনগুলিতেই বেশি করে এমন বেনিয়ম করা হয় বলে অভিযোগ। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে পরিষেবা পেতে এসে এইভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন রোগীর পরিজনেরা। যদিও তাদের সচেতন করতে হাসপাতালে মাইকে সবসময়ই রোগী ও তাঁদের পরিজনদের সাবধান করা হয়।

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে