Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ১১ জুলাই ২০২৬

সাইকেল সারাইয়ের দোকানে বাড়ছে স্বপ্ন, উচ্চ মাধ্যমিকে অষ্টম ধনেখালির রাজশেখর

বাবার সঙ্গে সাইকেল সারাইয়ের কাজ করেও এসেছে অভাবনীয় সাফল্য।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ৯, ২০১৮, ১৭:৩৯

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ৯, ২০১৮, ১৭:৩৯

options
link
সাইকেল সারাইয়ের দোকানে বাড়ছে স্বপ্ন, উচ্চ মাধ্যমিকে অষ্টম ধনেখালির রাজশেখর zoom

দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি: অভাব বনাম অধ্যবসায়। দুইয়ের দ্বৈরথে হার মেনেছে অনটন। বাবার সঙ্গে সাইকেল সারাইয়ের কাজ করেও এসেছে অভাবনীয় সাফল্য। কঠিন লড়াইতে অনেককেই পিছনে ফেলে উচ্চমাধ্যমিকের মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ধনেখালির রাধানগর গ্রামের রাজশেখর চট্টোপাধ্যায়। ধনেখালির ইছাপুর হাই স্কুলের রাজশেখর উচ্চ মাধ্যমিকে অষ্টম, তার প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৩। ভবিষ্যতে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও আর্থিক অনটনের কারণে সে স্বপ্ন হয়তো অধরা থেকে যাবে।

বাবার সঙ্গে সাইকেল সারাইয়ের কাজ করছে রাজশেখর।
[অভাব অন্তরায়, উচ্চ মাধ্যমিকে ৯০ শতাংশ পেয়েও নির্বিকার রঘুনাথ]

রাজশেখরের বাবা সলিল চট্টোপাধ্যায়ের ধনেখালির গোপীনগর বাসস্ট্যান্ডে পিডব্লিউডি-র জায়গায় সাইকেল সারাইয়ের দোকান আছে। সলিলবাবু জানান, সাইকেল সারাই করে সামান্য যে রোজগার হয় তা দিয়ে বাবা, মা, স্ত্রী, ছেলে-সহ পাঁচ জনের সংসার চলে। স্ত্রী মৌসুমি স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীর সদস্য হয়ে যেটুকু রোজগার করেন তা ছেলের শিক্ষার পিছনে চলে যায়। বাবার এই কষ্ট দেখে পড়াশোনার ফাঁকে রাজশেখর দোকানে সাইকেল সারাইয়ের কাজে হাত লাগায়। সলিলবাবু জানান, ‘ছেলেকে বহুবার বারণ করেছি, তোকে এই কাজ করতে হবে না। তুই শুধু পড়ায় মন দে।’ কিন্তু হাতের কাজের চাপ থাকলে ছেলে নিজে থেকেই এগিয়ে এসে তাঁকে সাহায্য করে। বর্তমানে সাইকেল সারাইয়ের দোকানটা আদৌ থাকবে কিনা তা নিয়ে আশঙ্কা। সলিলবাবু জানান, তাঁর দোকানটা পিডব্লিউডি-র জায়গার উপর। তিনি শুনেছেন, সম্প্রতি ধনেখালির রাস্তা সম্প্রসারণ করা হবে। সেক্ষেত্রে পিডব্লিউডি তাঁর জায়গা দখলমুক্ত করলে তাঁর দোকান উচ্ছেদ হয়ে যাবে। সংসারে সকলের মুখে অন্ন তুলে দেবেন কী করে এনিয়ে আশঙ্কিত তিনি। এরকম পরিস্থিতিতে ছেলের পড়াশুনো চালানোটাই অসম্ভব হয়ে পড়বে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
[মাধ্যমিকে তাক লাগিয়ে দেওয়া রেজাল্ট, মেয়ের উচ্চশিক্ষার জন্য সাহায্য প্রার্থনা বাবার]

অষ্টম স্থানাধিকারী রাজশেখর জানায়, তাদের পারাম্বুয়া সাহাবাজার গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৮টি গ্রামে খুব বেশি হলে মাত্র ১ জন এমবিবিএস ডাক্তার আছেন। সেক্ষেত্রে গ্রামের মানুষ অসুখে বিসুখে প্রয়োজনে ডাক্তার পান না। তাই ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে গ্রামের মানুষের পাশে থাকতে চায় রাজশেখর। কিন্তু ডাক্তারি পড়তে গেলে যে বিপুল পরিমাণ খরচ তা চালানো বাবার এই সামান্য আয়ে সম্ভব নয়। রাজশেখরের বাবা ও মা জানায় এরকম পরিস্থিতিতে তাঁরা ছেলের পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। তবে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাজশেখর জানায়, তার স্বপ্ন সফলের জন্য সে আগামিদিনের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। লড়াইয়ের আগেই লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে যাওয়া মানে জীবনে হেরে যাওয়া, যা একদমই পছন্দ নয় রাজশেখরের।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.