Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
Dhupguri

‘১৫ আগস্টের মধ্যে সব বাঙালিকে ছাড়তে হবে উত্তরবঙ্গ’! হুঁশিয়ারি তৃণমূল নেতার, চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে

ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ধূপগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন একদল যুবক। পুলিশ সূত্রে খবর, বিষয়টি নিয়ে পুলিশের তরফেও স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

শান্তনু কর
শান্তনু কর

শেষ আপডেট: আগস্ট ১২, ২০২৬, ১৭:১৪

link
শান্তনু কর
শান্তনু কর

শেষ আপডেট: আগস্ট ১২, ২০২৬, ১৭:১৪

options
link
‘১৫ আগস্টের মধ্যে সব বাঙালিকে ছাড়তে হবে উত্তরবঙ্গ’! হুঁশিয়ারি তৃণমূল নেতার, চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে zoom
অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা সুকদেব রায়।
Advertisement

১৫ আগস্টের মধ্যে উত্তরবঙ্গ ছাড়তে হবে বাঙালিদের। আর তা না হলে ২০০২ সালে সিপিআইএম পার্টি অফিসে হামলার পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিতপূর্ণ হুঁশিয়ারি দিলেন এক তৃণমূল নেতা। ওই তৃণমূল নেতার নাম সুকদেব রায়। উত্তরবঙ্গ থেকে বাঙালিদের তাড়ানো সংক্রান্ত সুকদেবের একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এই মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় ধূপগুড়িতে (Dhupguri)। ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ধূপগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন একদল যুবক। পুলিশ সূত্রে খবর, বিষয়টি নিয়ে পুলিশের তরফেও স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

সম্প্রতি নিজের প্রফাইল থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন সুকদেব। সেখানে উত্তরবঙ্গে বসবাসকারী বাঙালিদের হুমকি দিতে দেখা যায় তাঁকে। আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে বাঙালিদের উত্তরবঙ্গ ছেড়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন ওই তৃণমূল নেতা। এই ইস্যুতে কথা বলার সময় ২০০২ সালে ধূপগুড়িতে সিপিআইএম কার্যালয়ে কেএলও জঙ্গিদের হামলার ঘটনার কথা স্মরণ করান তিনি। স্থানীয়দের দাবি, সুকদেব ধূপগুড়ির তৃণমূল বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায়ের ঘনিষ্ঠ। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি। যদিও এই নিয়ে সুকদেব রায়ের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাঁকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

Advertisement

সিপিআইএমের ধূপগুড়ি এরিয়া কমিটির সম্পাদক জয়ন্ত মজুমদারের অভিযোগ, এই ধরনের বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক উস্কানি নয়, এর মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করা হয়েছে। বাংলাকে বিভক্ত করার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। বাংলাকে ভাগ করার কোনও চক্রান্ত হলে কিংবা বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি ফের মাথাচাড়া দিলে তার বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাকে ভাগ করার চক্রান্ত কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিলে তার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করবে সিপিআইএম।

সিপিআইএমের দাবি, সুকদেব রায়ের বক্তব্যের ধরন অত্যন্ত গুরুতর। তাঁর সঙ্গে কোনও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা প্রশাসনের তদন্ত করে দেখা উচিত বলেও দাবি করে তারা। অন্যদিকে, বিজেপিও তৃণমূল নেতার মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে। বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক মাধবচন্দ্র রায় জানান, সুকদেব রায় এর আগেও সামাজিক মাধ্যমে একাধিক উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন। তিনি বাংলার সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট এবং বিভাজনের রাজনীতিকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁর বক্তব্যের পিছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে।

প্রসঙ্গত, ২০০২ সালের ১৭ আগস্ট ধূপগুড়িতে সিপিআইএমের দলীয় কার্যালয়ে কেএলও জঙ্গিদের হামলার ঘটনা ঘটেছিল। অতর্কিত সেই হামলায় কয়েকজনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার স্মৃতি এখনও বহন করছে ধূপগুড়ির সিপিআইএম কার্যালয়। দলীয় কার্যালয়ের ভিতরে থাকা স্টিলের আলমারিতে এখনও গুলির চিহ্ন রয়েছে। প্রায় দুই দশক পর আগস্ট মাসেই ফের সেই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে কোনও রাজনৈতিক নেতার এমন মন্তব্য ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.