সুনীপা চক্রবর্তী, ঝাড়গ্রাম: এ যেন দুই ফুলের মাঝে একঝুড়ি ফলের লড়াই। তৃণমূলের জোড়াফুল, বিজেপির পদ্মফুলের মাঝে লড়ছে ঝাড়খন্ডি জোটের প্রতীক একঝুড়ি ফল। আবার বলা যেতে পারে তিন ফুলেরও লড়াই। কারণ সাঁওতালি ভাষায় বীরবাহা নামের মানে বনফুল। কেউ বলছেন, ঝাড়খণ্ডী জোটের প্রার্থী সাঁওতালি সিনেমার ‘মহানায়িকা’ বীরবাহা হাঁসদা জিততে না পারলেও, বড় ফ্যাক্টর হবেন। কেউ আবার বলছেন, সিনেমা জগৎকে ‘টা-টা’ করে দেওয়াটা ঠিক সিদ্ধান্ত হল না জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অভিনেত্রী বীরবাহার। কিন্তু তিনি একেবারে ‘কুল’। নিয়ম মেনে সকালে প্রচারে বেরিয়ে পড়া। ছোট ছোট বৈঠক করা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের ভাল-মন্দ বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ভোট এগিয়ে আসছে, তাই বাস ছেড়ে ইদানিং গাড়িতে সওয়ারি। সিনেমা থেকে রাজনীতি, চলতি সময় থেকে আগামীর স্বপ্ন, কথোপকথনে অকপট ঝরঝরে ঝাড়খন্ডি দুই দলের জোটপ্রার্থী বীরবাহা হাঁসদা।
জিতবেন, নাকি অন্য কারও জেতা-হারার ‘ফ্যাক্টর’ হয়েই খুশি থাকবেন?
বীরবাহা : দেখুন, কে জিতবে, কে হারবে তা বলতে পারব না। আমি আদিবাসী সমাজের প্রতি বঞ্চনা, তাঁদেরকে নিয়ে রাজনীতি করার বিরুদ্ধে লড়তে নেমেছি। সে কাজে আমাকে জিততেই হবে।
কিন্তু এখনও পর্যন্ত তো আপনি যে ধরনের প্রচার করছেন, তাতে লোকসভার মতো বড় ভোট জেতা যায়? বড় জনসভা বা র্যালি তো এখনও করলেন না?
বীরবাহা : ঠিকই বলেছেন। কিন্তু প্রতীকই তো পেলাম শুক্রবার বিকেলে। আর তাছাড়া, জাঁকজমক প্রচার করার মতো অর্থ আমার নেই। আমার পিছনে টাকা ঢালার মতো বড়লোক দল তো নেই। আমি আমার নীতি নিয়ে লড়ছি। এক্ষুনিই জিতে যেতে হবে, এরকম কোনও তাড়াহুড়ো আমার নেই। কারণ, মানুষকে পরিবর্তন করতে, ঠিকটা বোঝাতে সময় লাগে। সেই কাজটাই আমি করছি।
ভোটে নেমে মনে হচ্ছে না, অভিনয় জগৎকে ‘টা-টা’ করে দেওয়াটা বোধহয় ঠিক হল না?
বীরবাহা : দেখুন, আমি ভোটে এবারই যে প্রথম লড়ছি তা তো নয়, আগেও পুরসভার ভোট লড়েছি, বিধানসভাও…
তা ঠিক, কিন্তু সিনেমাকে একেবারে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত তো এই প্রথমবার..
বীরবাহা : (কথা কেড়ে নিয়ে) হ্যাঁ, এতদিন একসঙ্গে দু’টোই করার চেষ্টা করেছিলাম, তার কারণ রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম আমার, তাই জানি রাজনীতি শেখার মতো। সেটা আমি একটু একটু করে শিখেছি। তারপর এই সিদ্ধান্ত। আর একটা কথা জেনে রাখুন, রাজনীতিটা আমার কাছে কোনও ব্যবসা নয়। আমি আমাদের সমাজকে ঠিক ভাবনা ভাবতে সাহায্য করব, চেষ্টা করব, তাদের মানোন্নয়নের কথা ভাবব, তাদের পাশে থাকব, এটাই আমার কাছে রাজনীতি।
কেন্দ্রে আপনি কাকে পছন্দ করছেন? বিজেপি, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার নাকি অন্য কোনও ফ্রন্ট?
বীরবাহা : বাকি যে ইচ্ছে আসুক। বিজেপি নয়। ওরা একটা সাম্প্রদায়িক দল। দেখুন আমি তো হিন্দু নই। এরপর যদি বিজেপি সরকার গড়ে, তাহলে হয়তো বলবে, বীরবাহা তুমি হিন্দু ধর্ম নাও, নয়তো দেখে নেব…। এটা চলতে দেওয়া যায় না। আমি এটাই বলতে চাইছি, মানুষের বোঝা উচিত কোনটা ভাল, কোনটা খারাপ। আমি সেটুকুই চেষ্টা করছি।
[আরও পড়ুন : সদ্যোজাত ‘মমতা’কে দেখতে হাসপাতালে মমতাজ, পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ]
কিন্তু চেষ্টাটা করছেন কোথায়? যুব সমাজ তো রাজনীতি বিমুখ হয়ে পড়ছে বলে বিভিন্ন তথ্যে উঠে আসছে..
বীরবাহা : (একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে) সেটাই তো স্বাভাবিক। পরিচিত, ভাললাগা, শ্রদ্ধার নেতা-নেত্রীরা যদি শুধুমাত্র নিজের স্বার্থে ঘনঘন দলবদল করেন, তাহলে মানুষ কাকে ভরসা করবেন? আর ভোট চাইতে এসে নিজের কথা না বলে শুধুই যদি অপরকে গালাগাল করা হয়, নোংরা ভাষায় আক্রমণ করা হয়, আমাদের যুব সমাজ কেন তা মেনে নেবে বলতে পারেন? (একটু থেমে) এতে যুব সমাজের কোনও দোষ নেই, আমরা যাঁরা রাজনীতি করতে এসেছি দোষটা তাঁদেরই।
আপনি প্রচারে গিয়ে মানুষকে কোনও ‘টোপ’ দিচ্ছেন?
বীরবাহা : দেখুন, আমি এটা করে দেব, ওটা পাইয়ে দেব, একথা বলে ভোট চাইছি না। আমি শুধু বলছি, আমাকে ডাকলেই পাবেন। আমি জঙ্গলমহলের মেয়ে। এখানেই থাকব।
একজন বড়মাপের অভিনেত্রীকে ডাকলেই পাওয়া যাবে…
বীরবাহা : হ্যাঁ, মানুষ বিশ্বাস করছেন। কারণ জঙ্গলমহলের মানুষ আমাকে চেনেন। আমি যখন ২০০৮ থেকে পরপর ২০১২ পর্যন্ত সাঁওতালি ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি, তখনও পাশের বাড়ির মেয়ে হিসাবেই এক ডাকে সাড়া দিয়েছি, ভিড় বাসে ঝুলতে ঝুলতে কাজে গিয়েছি। মানুষ জানে।
এই রোদে সারাদিন কীভাবে প্রচার করছেন? আফটারঅল আপনি অভিনেত্রী।
বীরবাহা: (হেসে) খোঁচা দিচ্ছেন? দেখুন সকালে পান্তাভাত খেয়ে বেরিয়ে পড়ি। (থমকে গিয়ে) পান্তাভাত জানেন আপনি, খেয়েছেন কোনওদিন। মাটির হাঁড়িতে আগের দিন ভাত রেঁধে জল ঢেলে রাখা হয়। পরের দিন সকালেই পান্তা। আমার ব্যাগে থাকে মুড়ি-চানাচুর। আসলে বাইরে আমি একেবারেই খেতে পারি না। প্রচারে কারও বাড়িতে মুড়ি, কারও বাড়িতে পান্তা জুটে যায়। রাতে ফিরে গরম ভাত চাই-ই চাই। এটা এখন নয়, আপনার কথামতো যখন ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ড পাওয়া
হিরোইন, তখনও এর নড়চড় হয়নি।
দুই বীরবাহা নাম নিয়ে বিভ্রাট, আপনি প্রশাসনিক দফতরে অভিযোগও জানিয়েছেন, বিষয়টি মিটে গিয়েছে?
বীরবাহা: দেখুন আমার নাম নিয়ে যাঁরা রাজনীতি করতে চাইছেন, তাঁদেরকে আমি আমার প্রতিপক্ষ ভাবি না। কারণ, আমার রাজনৈতিক মতাদর্শ আমার বাবা-মায়ের কাছ থেকে পাওয়া। রাজনীতিবিমুখ সমাজকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার একটা চেষ্টা করছি। জানি রাজনীতির খারাপ সময়টাকে অতিক্রম করা বা বদলানো একার পক্ষে কঠিন লড়াই। তবু লড়ছি…লড়ব। বলব, বাড়ির মেয়েকে একবার পাশে থাকার সুযোগ দিন। তারপর পছন্দ না হলে তো আপনাদের হাতেই উপায় রয়েছে।
সর্বশেষ খবর
-
‘সব কর্মফল! তৃণমূল জিতলে স্বরূপ বিশ্বাসকে আটকানো মুশকিল হত’, বিস্ফোরক দেব
-
স্বরূপের গ্রেপ্তারির পর সুরুচি সংঘে ভাঙচুর, মিলল কিং সাইজ বেড, রাশি রাশি সরকারি জলের বোতল
-
রবিবার ১৬ ঘণ্টা বন্ধ বিদ্যাসাগর সেতু, চলবে রক্ষণাবেক্ষণ, কোন পথে যান চলাচল?
-
দাঁড়িয়ে পুজো করছেন? বাস্তুর ভুলে রুষ্ট হতে পারেন ইষ্টদেবতা, জানুন শাস্ত্রের নিয়ম
-
মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, কাটমানির দাবি! বাগনানে তৃণমূল বিধায়কের বাড়ির সামনে ঝাঁটা হাতে বিক্ষোভ মহিলাদের