৫ শ্রাবণ  ১৪২৬  রবিবার ২১ জুলাই ২০১৯ 

Menu Logo বিলেতে বিশ্বযুদ্ধ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: বুনো হাতির হামলা ঠেকাতে জঙ্গলমহল পুরুলিয়ায় পরিখা খনন করছে বনদপ্তর৷ আপাতত জেলার তিনটি বনাঞ্চলে এই এলিফ্যান্ট প্রুফ ট্রেঞ্চ তৈরির কাজ শুরু করেছে পুরুলিয়া বনবিভাগ। ঝালদা, বাঘমুন্ডি ও বলরামপুর বনাঞ্চলে জঙ্গলমহল অ্যাকশন প্ল্যানের আওতায় এক কোটিরও বেশি অর্থ খরচ করে কাজ শুরু হয়েছে। তিন বনাঞ্চল মিলিয়ে প্রায় ২৬ কিলোমিটার পরিখা কেটে এবার হাতির হামলা রোখার লক্ষ্যে এগোচ্ছে বনদপ্তর।

[আরও পড়ুন: পুলিশকর্তার দেহরক্ষীর বন্দুক থেকে গুলি ছিটকে মৃত সাফাই কর্মী, মর্মান্তিক ঘটনা এগরায়]

অতীতে বাম আমলে ২০০৮–০৯ অর্থবর্ষে ঝালদায় এই পরিখা খনন করা হয়েছিল। বসানো হয়েছিল বৈদ্যুতিক তারের বেড়াও৷ কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগ থেকে সীমানা পেরিয়ে পুরুলিয়ার বনাঞ্চলে বুনো হাতির হামলা কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না। ফসলের ক্ষতি বা কাঁচা বাড়ি ভাঙা যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোজই হাতি–মানুষের অসম লড়াই চলছে ঝালদা,বাঘমুন্ডিতে। এসবের মোকাবিলায় এবার পরিখা খননকেই সমাধান বলে মনে করছেন বন আধিকারিকরা৷

বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝালদা বনাঞ্চলে এই পরিখা কাটতে বরাদ্দ হয়েছে ৩৬ লক্ষ টাকা, বাঘমুন্ডির প্রকল্পের খরচ ৪৫ লক্ষ এবং বলরামপুরে এই কাজ করতে খরচ ধরা হয়েছে ২৭ লক্ষ টাকা। এই পরিখাগুলি সাড়ে ন’ফুট করে চওড়া ও পাঁচ ফুট করে গভীর হবে। পুরুলিয়া বিভাগের ডিএফও রামপ্রসাদ বদানার কথায়, ‘জঙ্গলমহল অ্যাকশন প্ল্যানের অর্থে আমরা এই কাজ করছি। আশা করছি, এই কাজে হাতির হামলা অনেকটাই ঠেকানো যাবে।’ ঝাড়খণ্ড থেকে আসা বুনো হাতির দল পুরুলিয়ার জঙ্গলে ঢুকে পড়ার পর আর নিজেদের জায়গায় আর ফিরতে চাইছে না। তার আরেকটি কারণ, এই হাজারিবাগের হাতির দল ঝাড়খণ্ডের ফেরার পথ ধরলেই সেখানকার বনকর্মীদের তাড়া খেয়ে আবার বাংলার সীমানাতেই ফিরে আসছে৷ ফলে ত্রস্ত তারাও।

[আরও পড়ুন: দলে থেকে দুর্নীতি বরদাস্ত নয়, মমতার পথ ধরেই সতর্কবার্তা অনুব্রতর]

কিন্তু এবার পুরুলিয়ার সীমানায় পরিখা তৈরি হওয়ায় হাজারিবাগের বুনো হাতির অবাধে এখানে যাতায়াত রোখা যাবে, এমনই মনে করছে পুরুলিয়া, বাঁকুড়ায় বন্যপ্রাণ নিয়ে কাজ করা একাধিক সংগঠন। জঙ্গলে চলার পথে এই পরিখা দেখে পূর্ণবয়স্ক বুনো হাতি বাধা পেয়ে তার অভিমুখ ঘুরিয়ে নিলেও শাবক হাতি যে পরিখায় পড়ে  জখম হবে না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। কারণ, অতীতে এই জেলায় একাধিকবার হস্তী শাবকরা হাতির দলের সঙ্গে চলতে গিয়ে চাষের জমির পাশে থাকা গভীর গর্তে পড়ে জখম হয়েছে। তবে ফসলের খেত-সহ জনবসতিতে হাতির হামলা থেকে ক্ষতি ঠেকাতে আর কোনও উপায় নেই বলেই মনে করছে বনদপ্তর। তাঁদের আশা, পরিখা তৈরি হলে কোনওভাবেই বুনো হাতির দল টপকে লোকালয়ে আসতে পারবে না৷

ছবি: অমিত সিং দেও৷

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং