বাবুল হক, মালদহ: মাত্র এক মাস আগে নিজের দায়িত্বেই ছেলেকে ফরাক্কায় এনেছিলেন দুর্ঘটনাগ্রস্ত সেতুর সাইট ইনচার্জ উদয়বীর সিং। রবিবারের দুর্ঘটনায় ছেলেকে হারিয়ে এখন মাথা ঠুকছেন শোকে কাতর বাবা। মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দাঁড়িয়ে বারবার একটাই আক্ষেপ তাঁর গলায়, কেন এনেছিলাম ছেলেকে!
ইঞ্জিনিয়ারিং পাশের পর একটি আণবিক শক্তি সংস্থায় চাকরি নিয়েছিলেন ফরাক্কা ব্রিজ দুর্ঘটনায় মৃত বছর ২৬-এর শচীনপ্রতাপ সিং। কিন্তু তাঁর বাবা ফরাক্কায় ভেঙে পড়া সেতুটির সাইট ইনচার্জ উদয়বীর সিং চেয়েছিলেন ছেলে নিজের কাছেই থাকুক। তাই ছেলেকে বারবার ফরাক্কায় নির্মীয়মাণ সেতুর কাছে যোগ দিতে বলেছিলেন। বাবার পরামর্শেই নিউক্লিয়ার কেন্দ্রের চাকরি ছেড়ে চলতি বছর জানুয়ারিতে ফরাক্কার সেতু নির্মাণের কাজ দেখাশোনার কাজে যোগ দেন শচীন। আর ফরাক্কা আসাই কাল হল শচীনের। এসব ভেবেই রবিবারের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর চোখের জল বাঁধ মানছে না উদয়বীর সিংয়ের। ছেলের কফিনবন্দি দেহ নিয়ে ঘরে ফিরতে হবে ভেবেই শিউড়ে উঠছেন আদতে দিল্লির বাসিন্দা উদয়বীরবাবু। ক্রমাগত একটাই কথা বলে চলেছেন তিনি। “কেন ছেলেকে ফরাক্কায় এনেছিলাম!”
আরও পড়ুন: নকশার ভুলেই নির্মীয়মাণ ফরাক্কা ব্রিজ বিপর্যয়! বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি সাইট ইনচার্জের
জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালে বিয়ে হয় শচীনের। স্ত্রী ও তিন বছরের একটি ছেলে রয়েছে তাঁর। প্রসঙ্গত, রবিবার রাতে ফরাক্কার নির্মীয়মাণ সেতুটি ভেঙে পড়ার সময় কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে ব্রিজের নিচে ছিলেন শচীন। আচমকা সেতুটি ভেঙে পড়তেই চাপা পড়ে মৃত্যু হয় ওই ট্রেনি ইঞ্জিনিয়ারের। রাতেই দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায় পুলিশ। সোমবারই দেহ নিয়ে সড়কপথে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন উদয়বীরবাবু। রাতে কফিনবন্দি ছেলেকে নিয়ে বিমানে দিল্লি পৌঁছবেন তিনি।
[আরও পড়ুন: নিরাপত্তা ছাড়াই বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে কাজ, তড়িদাহত হয়ে মৃত্যু যুবকের]
সর্বশেষ খবর
-
দিল্লিতে মোদির সঙ্গে বৈঠকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট, হরমুজ হাহাকার কাটিয়ে মিলবে জ্বালানি সমাধান?
-
প্রয়াত পদ্মশ্রী সাহিত্যিক রবিলাল টুডু, রোগভোগের পর না ফেরার দেশে ‘বীর বীরসা’র স্রষ্টা
-
বিশ্বকাপের আগে ‘অমানবিক’ ফিফা! দর্শকদের ভোগান্তি বাড়তে পারে এই সিদ্ধান্তে
-
দাউদ ইব্রাহিমের হাড়হিম হুমকি, ‘তোর খেলা শেষ’, আইপিএলের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা শোনালেন ললিত
-
ভেঙে খানখান সাধের দল! ‘বিদ্রোহী’দের ফেরাতে জনে জনে ফোন করছেন মমতা