ব্রতদীপ ভট্টাচার্য, বারাসত: ছেলে কুলাঙ্গার, বাবা তো নন। তাই একের পর এক থাপ্পড় খেয়েও বিচারকের কাছে ছেলের মুক্তি চাইলেন বাবা মানিকলাল বিশ্বাস। হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন। অশোকনগরের ঘটনার কথাই বলা হচ্ছে। বিজয়াতে মাকে মিষ্টি খাওয়ানোর অভিযোগে অশীতিরপর বাবাকে বেধড়ক মারধর করেছিল গুণধর ছেলে প্রদীপ বিশ্বাস। সেই মারধরের ভিডিও ভাইরাল হতেই বারাসতের পুলিশ লকআপে ঠাঁই হয় তার। বৃহস্পতিবার অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হলে ছেলের মুক্তির জন্য দরবার করেন বৃদ্ধ বাবা। তাঁর একটাই বক্তব্য, একমাত্র ছেলেই ভরসা। তাঁকে ছাড়া তিনি বাড়ি যাবেন না। বিচারক ছেলেকে মুক্তি না দিলে তিনি আত্মঘাতী হওয়ার হুমকিও দেন। অশীতিরপর বৃদ্ধের আকুতির সাড়া দিলেন বিচারক। জামিন পেল অশোকনগর-কল্যাণগর পুরসভার কর্মী প্রদীপ বিশ্বাস। আক্রান্ত মানিকলাল বিশ্বাস জানিয়েছেন, যতই মারধর করুক না কেন একমাত্র ছেলেকে বিপাকে ফেলতে তিনি চান না। ওই ছেলেকে ছাড়া তাঁর চলবে না। এমনকী, ছেলেকে জামিন না দিলে আত্মহত্যার হুমকিও দেন তিনি। ওই বৃদ্ধের দাবি, তিনিই তো অপরাধ করেছেন। সুগারের রোগী স্ত্রীকে মিষ্টি খাইয়ে দিয়েছেন।
[মেয়ের বিয়েতে ভাংচি, পুরুলিয়ায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা]
এই ঘটনায় আবারও প্রমাণ হল সন্তান যেমনই হোক না কেন, কু-পিতা কখনও হন না। এজলাসে দাঁড়িয়ে ছেলে প্রদীপ বিশ্বাসের সাফাই, মা সুগারের রোগী। তাঁকে জোর করে মিষ্টি খাইয়ে দিয়েছিলেন বাবা। তাই মাথা ঠিক রাখতে পারেননি। এই ‘অপরাধে’ বাবাকে মারধরের প্রসঙ্গ উঠতেইল অবশ্য চুপ করে যান সে গুণধর ছেলে। বৃদ্ধ বাবাকে বেধড়ক মারধর করছে মাঝ বয়সি ছেলে। এই ভিডিও ভাইরাল হতেই আসরে নামে পুলিশ। বুধবার অশোকনগরের বাড়ি থেকে অভিযুক্ত প্রদীপ বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে বারাসত থানার পুলিশ। এদিকে ভিডিও ভাইরাল হতেই চারদিক থেকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। প্রায় সবাই অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
[পুজোর ছুটিতেও নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে রাজ্যের এই স্কুলে, কেন জানেন?]
সর্বশেষ খবর
-
লন্ডনে জোড়া ধর্ষণ কাণ্ডে পুলিশের জালে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার, শেষ কেরিয়ারও!
-
চার নয়, দু’সপ্তাহ সময় দিলেন স্পিকার! সাংসদ পদ ইস্যুতে আরও চাপে সুদীপ-কাকলিরা
-
ভিক্ষাপাত্র দমাতে পারেনি পড়াশুনোর অদম্য জেদ, স্টেশনেই বাড়ছে ‘দুর্গার বিদ্যাসাগর’
-
গাঁজার পর এবার মদ খেয়ে চালকের আসনে! ধরা পড়তেই সাসপেন্ড এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট
-
দলগত সরকারি নিয়োগে পক্ষপাতিত্বের শঙ্কা, কীভাবে গড়ব মুখোশহীন সমাজ?