শান্তনু কর, জলপাইগুড়ি: লেলিহান শিখা। তাতেই শেষ ইতিহাস। বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল দেবী চৌধুরানির মন্দির। জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের কয়েক শতাব্দী প্রাচীন মন্দিরের এই পরিনতি ঘিরে হতাশার সঙ্গে বাড়ছে ক্ষোভ।
[খাদির টিউবে বন্দি হচ্ছে বাংলার মধু, সস্তায় মিলবে কাসুন্দি]
আগুনের গ্রাসে ইতিহাসের স্মৃতি। শুক্রবার ঘড়ির কাঁটা তখন রাত নটা পেরিয়েছে। রাজগঞ্জের শিকারপুর চা বাগানের ওই মধ্যে ওই মন্দিরে আগুন দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। আগুন নেভানোর কাজ শুরু করলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। মুহূর্তের মধ্যে সব জ্বলে যায়। ঘটনাস্থলে যায় দমকলের চারটি ইঞ্জিন। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। কাঠ ও টিনের তৈরি এই মন্দিরের কোনও অংশ কার্যত বাঁচাতে পারেনি দমকল। দেবী চৌধুরানি ও ভবানী পাঠকের মূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগুন লাগার কারণ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কেউ বলছেন পূজারি বেরোনোর আগে প্রদীপ জ্বালিয়েছেন। তার থেকে আগুন লাগত পারে। কারও বক্তব্য, মন্দিরের পাশে মদ, জুয়ার আসর বসে। সেখান থেকে কোনওভাবে আগুন ধরে যেতে পারে। রাতেই ওই এলাকায় যান জেলাশাসক, পুলিশ সুপার-সহ জেলা প্রশাসনের কর্তারা। এদিন সকালে পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব ঘটনাস্থলে যান। এই মন্দির ঘিরে কতটা আবেগ রয়েছে মানুষের মনে তা সাধারণের প্রতিক্রিয়াতে স্পষ্ট। চোখের সামনে ইতিহাস এভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার খবর যেন মানতে পারছেন না সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার। কারণ এই মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে তাঁর কত ইতিহাস। প্রবীণ সাহিত্যিকের মতে, ”এটা বিরাট ক্ষতি। ইতিহাস আগেই সংরক্ষণ করা উচিত ছিল। সেভাবে ভাবা হয়নি বলে এই ঘটনা। খারাপ তো লাগবেই।”

[শিলিগুড়িতে খুলছে পাসপোর্ট পরিষেবা কেন্দ্র, খুশির হাওয়া উত্তরবঙ্গে]
১৭৭৬ সালে ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় তিস্তাপারে আর্বিভাব হয়েছিল মন্থনার জমিদার জয়দুর্গা দেবী চৌধুরানির। ইংরেজদের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদী ছিলেন। তাঁর এই জেহাদে পাশে পান সন্ন্যাসী বিদ্রোহর নায়ক ভবানী পাঠককে। তাদের সহযোদ্ধা হয়ে ওঠেন ফকির বিদ্রোহের আর এক নেতা মজনু শাহ। তাঁরা মিলে ব্রিটিশবিরোধী এক মঞ্চ তৈরি করেন। গোরাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা হয়। এসব ঘটনা দেখে সাধারণ মানুষ দেবী চৌধুরানিকে দেবীর আসনে বসান। কথিত আছে উনি কালী পুজো করতেন। কালীর সাধক ছিলেন দেবী চৌধুরানি। তাই তাঁর তৈরি এই মন্দিরে ভবানী পাঠককেও দেবতা রূপে পুজো শুরু হয় রাজগঞ্জের শিকারপুর চা বাগানে। এই মন্দির অনেকটা প্যাগোডার ধাঁচে। সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় দেবী চৌধুরানিকে নিয়ে উপন্যাস লেখেন। যে উপন্যাসের নায়িকা ছিলেন দেবী চৌধুরানি। এখনও এই চরিত্র নিয়ে বাঙালির আবেগ রয়েছে। কয়েক মাস দেবী চৌধুরানিকে নিয়ে তথ্যচিত্র তৈরি হয়। সব এভাবে শেষ হয়ে যাওয়ায় শুধু ইতিহাস গবেষক নিয়ে ক্ষতি হল তাদেরও। দীর্ঘশ্বাস ফেলে একথা বলছেন ভূমিপুত্ররা।
[সিভিক ভলানটিয়ার দেখছেন রোগী! প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আজব ছবি]
সর্বশেষ খবর
-
রাজ্যসভার ভোটপরীক্ষায় অঙ্কে ‘ফেল’ বিরোধীরা, ৮০ বিধায়ক নিয়েও কেন প্রার্থী দিতে পারবে না তৃণমূল?
-
ভারতে নাশকতার ছক, দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ৬ পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি! উদ্ধার অস্ত্রশস্ত্র-পেট্রল বোমা
-
মার্কিন তারকার লাল কার্ড প্রত্যাহারে ফিফাকে ফোনের কথা স্বীকার ট্রাম্পের, ঠিক কী বলেছিলেন?
-
মানুষের চাকরি খাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা! এক লপ্তে ৪৮০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত মাইক্রোসফ্টের
-
বাবুই ঘাসের হস্তশিল্পে নতুন দিশা, শিল্পীদের দক্ষতা বাড়াতে ঝাড়গ্রামে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি দল