দ্বিতীয়বার বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল মধ্যমগ্রামের দিকবেড়িয়ার একটি রং কারখানার গোডাউনে। বৃহস্পতিবার দুপুরের এই দুর্ঘটনায় হতাহতের কোনও ঘটনা না ঘটলেও লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। তবে, অতীত থেকে শিক্ষা না নিয়ে আগুন নেভানোর নিজস্ব পরিকাঠামো না তৈরি করায় কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্যমগ্রাম পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দিকিবেড়িয়ার দ্বিতীয় সরণী এলাকায় প্রায় ৩৫টি কারখানা রয়েছে। এরমধ্যে রংয়ের কারখানা মাত্র একটি। এই কারখানার পাশাপাশি দুটি গোডাউন। একটিতে মজুত ছিল ২০০লিটারের রাসায়নিকের কমবেশি ৭০টি ড্রাম। এই গোডাউনে এদিন দুপুর আনুমানিক ৩টের সময় তিনজন শ্রমিক কাজ করার সময় হঠাৎ আগুন ও ধোঁয়া দেখে তড়িঘড়ি বাইরে বেরিয়ে আসে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই দাহ্য রাসায়নিককে আগুন লেগে মুহূর্তের মধ্যে পুরো গোডাউনে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে স্থানীয়রা আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগলেও পরবর্তীতে মধ্যমগ্রাম ও বারাসত থেকে দমকলের সাতটি ইঞ্জিন এসে ঘণ্টা তিনেকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। শর্টসার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলেই প্রাথমিক অনুমান দমকল ও পুলিশের। যদিও অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ জানতে পুলিশ ও দমকল যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, বছর পাঁচেক আগে এই রংয়ের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। এরপরই দমকল এবং মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ কারখানার ভিতরে জলের রিজার্ভার তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল কারখানা কর্তৃপক্ষকে। তারপরেও রিজার্ভার তৈরির কাজ অর্ধেক হয়ে পড়ে থাকা নিয়ে এদিন সরব হয়েছেন স্থানীয়রা। এলাকার বাসিন্দা রাজীব মন্ডল জানিয়েছেন, “কয়েক বছর আগে এই কারখানায় আগুন লেগে একজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তবুও কারখানার ভিতরে জলের ট্যাংক তৈরী করা হয়নি। মালিক পক্ষ শুধু মুনাফার দিকে নজর দেয়, নিরাপত্তা দিকে নয়।”

আরেক বাসিন্দা জুলফিকার মোল্লা বলেন, “আগুন লাগার পরে বাসিন্দারা এক কিলোমিটার দূরের একটি কারখানা থেকে পাইপ-সহ অন্যান্য জিনিস এনে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। অথচ এই কারখানায় আগুন নেভানোর কোন পরিকাঠামো নেই।” এনিয়ে মধ্যমগ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান নিমাই ঘোষ বলেন, “পুরসভার পক্ষ থেকে কারখানা মালিককে ডাকা হয়েছে। কারখানা পুনরায় চালু করতে হলে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা সঠিক করতে হবে বলেই মালিককে জানিয়ে দেওয়া হবে। নাহলে পুরসভা ওই কারখানা চালু করতে দেবে না।”
সর্বশেষ খবর
-
‘তুষ্টিকরণে চাপা পড়েছিল উন্নয়ন’, সনাতনীদের অনুষ্ঠানে বাংলার ইতিহাস স্মরণ শুভেন্দুর
-
মেয়রের ইস্তফার পরেই বিধাননগর পুরনিগমে বসল প্রশাসক, হাওড়া পুরসভাতেও নয়া কমিশনার
-
তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য, ‘চোর’ স্লোগান জনতার
-
ঝড়-বৃষ্টি, হড়পা বানে বিপর্যস্ত উত্তরের বিস্তীর্ণ এলাকা, সিকিমে ভূমিধসে মৃত ১, নিখোঁজ ৪
-
বঙ্গে সাংগঠনিক রদবদলের পথে বিজেপি, দিল্লিতে শমীক-বনসল দীর্ঘ বৈঠক