সন্দীপ মজুমদার, উলুবেড়িয়া: ‘‘গুজরাট থেকে এখানে এসে দাঙ্গা লাগাতে চাইলে, দাঙ্গাবাজদের পা ভেঙে গুজরাটে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’’ বুধবার বাগনান ও চেঙ্গাইলের সভামঞ্চ থেকে নাম না করে এভাষাতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহর বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম৷ একই সঙ্গে আক্রমণ শানালেন বাম ও কংগ্রেসকে৷ এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘প্রধানমন্ত্রী’র কুরসিতে বসানোর জন্যও আরও একবার সাধারণ মানুষকে তৃণমূলের পাশে থাকার আহ্বান জানালেন তিনি৷
[আরও পড়ুন: বীরভূমে অস্ত্র হাতে বাইক মিছিল তৃণমূলের, কমিশনে নালিশ বিরোধীদের ]
উলুবেড়িয়া লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সাজদা আহমেদ এবং আসন্ন উপনির্বাচনে উলুবেড়িয়া পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী ইদ্রিশ আলির সমর্থনে এদিন দু’টি জনসভা করেন ফিরহাদ হাকিম৷ সেই মঞ্চ থেকে মোদি-শাহকে আক্রমণ শানান তিনি৷ বলেন, ‘‘বাংলার মানুষ হাতে চুড়ি পড়ে বসে নেই৷ তাঁরা নপুংসক নন যে, দাঙ্গাবাজদের প্রশ্রয় দেবেন। ৭২ ইঞ্চির ছাতি নিয়ে রাজনীতি হয় না৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেখিয়ে দিয়েছেন মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কীভাবে রাজনীতি করতে হয়।’’ কেন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান, এদিন সেই উত্তরও দেন কলকাতা পুরসভার মেয়র৷ বলেন, ‘‘আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভালবাসি বলে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চাইছি না। আমি চাইছি কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে বাংলায় যে উন্নয়নের জোয়ার বইছে৷ প্রধানমন্ত্রী হলে সারা ভারতবর্ষে তিনি সেই উন্নয়ন ছড়িয়ে দিতে পারবেন।’’ প্রশ্ন তোলেন, ‘‘গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী হলে, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কেন সেন সেই কুরসিতে বসতে পারবেন না? বাঙালি মুখ্যমন্ত্রী হতে দোষ কোথায়?’’
[আরও পড়ুন: ‘দিদির সূর্য অস্ত যাবে’, বোলপুরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ মোদির ]
বাম-কংগ্রেস আঁতাতের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরে গেলে কংগ্রেসের বাপেরও ক্ষমতা নেই এরাজ্যে ক্ষমতায় আসার। সিপিএমেরও সেই ক্ষমতা নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরে গেলে এরাজ্যে একটি সাম্প্রদায়িক দল ক্ষমতায় আসবে। দাঙ্গা বাঁধাবে৷ বোমা-গুলি চলবে।’’ রাম নবমীকে কেন্দ্র করে গত কয়েক বছর ধরেই রাজ্যে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা৷ নির্বাচনের মধ্যেও এবার বাদ পড়েনি সেই তরজায়৷ এদিন সেই বিষয়টিরও সমালোচনা করেন ফিরহাদ হাকিম৷ বলেন, ‘‘নির্বাচন এলেই একটি সাম্প্রদায়িক দল ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি তোলে। যারা ধর্মকে নিয়ে লড়াই করে, তাঁরা নিজের ধর্ম মানে না। ওরা কথায় কথায় চোখ পাকিয়ে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেয়। রামচন্দ্র থাকেন ওদের তরোয়ালের ডগায়।’’
রাজনৈতিক উত্তাপে এদিনের সভা থেকে নাম না করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতেও ছাড়েননি মন্ত্রী ফিরহাদ৷ স্ত্রী’র সঙ্গে মোদির সম্পর্ককে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘‘সীতাকে বাদ দিয়ে রামের কথা ভাবাই যায় না। রামচন্দ্র কখনও সীতাদেবীকে ছেড়ে থাকেননি। কিন্তু যিনি নিজের স্ত্রীকে মর্যাদা দিতে পারেননি তাঁর মুখে রাম নাম মানায় না। এবার বিজেপির ‘রাম নাম সত্য’ হওয়ার সময় এসে গিয়েছে।’’