Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬
জগদীপ ধনকড়

চেয়েও মিলল না হেলিকপ্টার, বাধ্য হয়ে সড়কপথেই মুর্শিদাবাদ সফরে রাজ্যপাল

ফের সংঘাতে জড়ালেন রাজ্যপাল এবং মুখ্যমন্ত্রী।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ১৫, ২০১৯, ০৯:২৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ১৫, ২০১৯, ০৯:২৮

options
link
চেয়েও মিলল না হেলিকপ্টার, বাধ্য হয়ে সড়কপথেই মুর্শিদাবাদ সফরে রাজ্যপাল zoom

সৌরভ মাজি, বর্ধমান: মুর্শিদাবাদ সফরে যাওয়ার জন্য মেলেনি হেলিকপ্টার। তাই ফরাক্কায় কলেজের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাধ্য হয়ে সড়কপথে পাড়ি দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। শুক্রবার ভোরবেলায় সস্ত্রীক রাজ্যপাল রাজভবন থেকে বেরিয়ে পড়েন। বর্ধমান এবং বীরভূমের সিউড়ির সার্কিট হাউস ঘুরে নবাবের শহরে যাওয়ার কথা তাঁর। হেলিকপ্টার বিতর্কে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল।

আগেই রাজভবন থেকে জানানো হয়েছিল শুক্রবার মুর্শিদাবাদের সৈয়দ নুরুল হাসান কলেজের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাবেন রাজ্যপাল। ফেরার সময় বর্ধমান এবং সিউড়ির সার্কিট হাউসেও যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। তারপর এদিন রাতেই রাজ্যপালের ফিরে আসার কথা রাজভবনে। প্রায় ৬০০ কিলোমিটার রাস্তা যাতায়াতের জন্য হেলিকপ্টার চেয়েছিলেন রাজ্যপাল। জানানো হয়েছিল খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে। তবে রাজভবন-নবান্ন সংঘাত জিইয়ে রেখে এ প্রসঙ্গে একটি শব্দও খরচ করেননি মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের দাবি, বৃহস্পতিবার সন্ধে গড়িয়ে রাত হয়ে গেলেও হেলিকপ্টার নিয়ে কোনও কথাই বলেননি মুখ্যমন্ত্রী। তাই বাধ্য হয়ে শুক্রবার সকালে সড়কপথেই মুর্শিদাবাদের উদ্দেশে পাড়ি দেন রাজ্যপাল।

Advertisement

শুক্রবার ভোর পাঁচটা নাগাদ রাজভবন থেকে বেরোন তিনি। ৬.৫০ নাগাদ তিনি পৌঁছন বর্ধমান সার্কিট হাউসে। সেখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার ৭.১০ নাগাদ বেরিয়ে পড়েন সস্ত্রীক রাজ্যপাল। সকাল নটা নাগাদ সিউড়ির সার্কিট হাউসে পৌঁছে যাওয়ার কথা তাঁর। মিনিট কুড়ি সময় কাটিয়েই মুর্শিদাবাদের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়বেন রাজ্যপাল। এরপর মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা কলেজের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন দুপুর ১২.২০ নাগাদ। অনুষ্ঠান শেষে আবারও সিউড়ি, বর্ধমান হয়ে রাত দশটা নাগাদ রাজভবনে ফিরবেন রাজ্যপাল। এদিন বর্ধমানের সার্কিট হাউস থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন জগদীপ ধনকড়। তিনি বলেন, “ফরাক্কা কলেজের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের কাছ থেকে চাওয়া হয়েছিল হেলিকপ্টার। মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেও জানানো হয়েছিল। আমার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী কোনও বিষয়ে যোগাযোগ করলে আমি তড়িঘড়ি প্রতিক্রিয়া দিই। কিন্তু আমার চিঠির পালটা জবাব এখনও পাইনি।”

[আরও পড়ুন: ডেঙ্গুর মাঝেই নয়া আতঙ্ক স্ক্রাব টাইফাস, কলকাতার হাসপাতালে মৃত মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা]

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বারবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছেন রাজ্যপাল। শিলিগুড়িতে প্রশাসনিক বৈঠকের আয়োজন করেন জগদীপ ধনকড়। সেই বৈঠকে যদিও কোনও প্রশাসনিক আধিকারিকের দেখা পাওয়া যায়নি। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দ্বৈরথের সূত্রপাত। এরপর উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনিক বৈঠকেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়। তাতেও প্রশাসনিক আধিকারিকদের অনুপস্থিতির জেরে ভেস্তে যায় রাজ্যপালের বৈঠক। বেশ কয়েকদিন আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হেনস্তার হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতে জড়ান রাজ্যপাল। দু’পক্ষের সংঘাতে সংযোজন হয়েছে রাজ্যপালের সিঙ্গুর সফরও। সোমবার বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান সেরে সিঙ্গুরের বিডিও অফিসে যান তিনি। যথারীতি কোনও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে দেখাও হয়নি তাঁর। কাউকে কিছু না জানিয়ে রাজ্যপাল কেন সিঙ্গুরের বিডিও অফিসে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে রাজ্য প্রশাসন। যদিও রাজভবন সূত্রে খবর, আগে থেকে জানিয়ে তবেই সিঙ্গুরে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কখন মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যপালের ভাল সম্পর্ক রয়েছে। আবার কখন তা খারাপ হয়ে গিয়েছে, তা যেন বোঝাই যায় না। নবান্ন এবং রাজভবন সংঘাতের তালিকাতেই নবতম সংযোজন জেলা সফরে রাজ্যপালের হেলিকপ্টার না পাওয়ার ঘটনা।

দেখুন ভিডিও:


ছবি: মুকুলেসুর রহমান

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.