Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ১১ জুন ২০২৬
শ্মশানযাত্রা

দাদুর শ্মশানযাত্রায় বাজল ডিজে, ব্যতিক্রমী কীর্তি নাতিদের

শ্মশানযাত্রা না বিসর্জনের শোভাযাত্রা আচমকা বুঝতেই পারেননি পথচলতিরা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ৭, ২০১৯, ১৮:৪৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ৭, ২০১৯, ১৮:৪৫

options
link
দাদুর শ্মশানযাত্রায় বাজল ডিজে, ব্যতিক্রমী কীর্তি নাতিদের zoom

নন্দন দত্ত, সিউড়ি: ডিজে বাজিয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেখতে অভ্যস্ত সকলেই। কিন্তু শ্মশানযাত্রায় ডিজে বাজতে দেখেছেন কখনও? ভাবছেন তো এ আবার কেমন প্রশ্ন? পরিজনের শেষযাত্রার মতো যন্ত্রণাদায়ক কোনও কিছুর সঙ্গে ডিজে কি বাজতে পারে, এই প্রশ্নও নিশ্চয়ই আপনার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু আপনি যাই ভাবুন না কেন, এমন কাজই করে দেখিয়েছেন সিউড়ির আনন্দপুর ডাঙাপাড়ার বাসিন্দা শংকরচরণ মাল নামে নিহত এক ব্যক্তির পরিজনেরা। রীতিমতো ডিজে বাজিয়ে ওই ব্যক্তি শ্মশানে নিয়ে যান তাঁর মেয়ে এবং নাতি-নাতনিরা।

শংকরচরণ মাল জীবন শুরু করেছিলেন চাষবাস দিয়ে। পরে স্কুল পরিদর্শকের দপ্তরে চাকরি মেলে তাঁর। তখনই সিউড়িতে চলে আসেন। পুত্রসন্তান না থাকার আফশোস ভুলিয়েছে তাঁর দশ মেয়ে। তাঁদের পাত্রস্থ করেছেন। রেখেছেন নিজের বাড়ির কাছাকাছি। আনন্দপুর ডাঙা পাড়াতেই সকলকে নিজেই বাড়ি তৈরি করে দিয়েছিলেন ওই বৃদ্ধ। তাই বাবার মৃত্যুর শোভাযাত্রা করতে চেয়েছিলেন তাঁর মেয়েরা। বেশ কয়েকদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। দু’দিন আগে সিউড়ি হাসপাতালে তাঁকে ভরতি করা হয়েছিল। সেখান থেকে বাড়ি ফিরে আসেন। সোমবার থেকে বাকরুদ্ধ হয়ে যান।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

বৃহস্পতিবার সকালে শ্মশানের উদ্দেশে দেহ নিয়ে বেরোন ওই বৃদ্ধের মেয়েরা। বাবার মৃত্যুর শোভাযাত্রার প্রথম ট্রাকে রাখা ছিল জেনারেটর। সঙ্গে চারটে ডিজে। তাতে জোরে জোরে বাজছে গান। মাঝের ট্রাকে ২৪ জন নাতি এবং তাঁদের সন্তান। তৃতীয় ট্রাকে শংকরচরণ মালের মরদেহ। এছাড়াও শংকরবাবুর শেষ যাত্রাকে স্মরণীয় করতে ডিজের সঙ্গে হরিনামেরও বন্দোবস্ত করা হয়। বৃদ্ধার মেয়ে টুলু মাল বলেন, “বাবা ছিলেন হাসিখুশি মানুষ। নাতিরা তাই বাবার এই ৯২ বছরের জীবন মুক্তিকে আনন্দময় করতে চেয়েছিল। সে কারণেই বক্স বাজিয়ে শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। বাবা নেই এটাও যেমন দুঃখের। তেমনই ২৪ জন নাতি এবং তাঁদের সন্তানদের দেখে বাবার এই স্বর্গযাত্রাও আমাদের কাছে সুখের।”

[আরও পড়ুন: ভরসা দিলীপের বচন! গোল্ড লোন চাইতে গরু নিয়ে হাজির কৃষক]

ব্যতিক্রমী এই শেষযাত্রা আগে কেউ দেখেনি। তাই তো সিউড়ি থেকে বক্রেশ্বর শ্মশানযাত্রাকে বহু মানুষই জগদ্ধাত্রী বিসর্জনের শোভাযাত্রা ভেবে ভুল করেন। নাতিদের কথায় অবশ্য, “এটাও এক অর্থে বিসর্জন। দাহ করার আগে বিসর্জনের আনন্দে মেতেছি আমরা। তাই কাঁধে তুলে দাদুকে নিয়ে নাচানাচি করেছি।”

দেখুন ভিডিও:

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন


ছবি: শান্তনু দাস

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.